ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৪ মে ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন: ১২ দপ্তরের ১২০ সুপারিশ

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৩ ৯:৫৫:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১৮ ৮:৫২:১৯ এএম
Walton AC

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের ১২ দপ্তরে প্রায় ১২০ সুপারিশসহ ২০১৮ সালের কর্মকাণ্ডের বিবরণসহ বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার বিকেল ৫ টায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে কমিশনের চার সদস্যের একটি সর্বোচ্চ প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বার্ষিক প্রতিবেদনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য, আয়কর, হিসাবরক্ষণ অফিসসমূহ, বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সরকারি নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, আইন-শৃঙ্খলা, মন্ত্রণালয়ের কার্য উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতি-অনিয়ম এবং জন হয়রানির সম্ভাব্য উৎসসমূহ চিহ্নিত করেছে। এসব দুর্নীতি-অনিয়ম বা হয়রানি থেকে উত্তরণের জন্য প্রায় ১২০টি সুপারিশ রাখা হয়েছে দুদকের প্রতিবেদনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

ভূমি ব্যবস্থাপনা :  আয়কর মেলার আদলে প্রতি বছর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রেশন অফিস এবং ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘ভূমি সেবা মেলা’ আয়োজন করা। এসব মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে ভূমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ভূমিকর গ্রহণের ব্যবস্থা করা। কমপক্ষে মাসব্যাপী মেলার মাধ্যমে এ জাতীয় সেবা প্রদান করা হলে ভূমি ক্ষেত্রে স্বচ্ছ্বতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি ভূমি রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

২৫ বিঘার ঊর্ধ্বে যাদের ভূমি রয়েছে তাদের ভূমিকর অন্যান্য উপযোগ বিলের ন্যায় ব্যাংকে জমা দানের ব্যবস্থা করা।

খাস, পরিত্যাক্ত, হাট-বাজার, জলমহাল, বালু মহাল, পাথর মহাল ও অর্পিত সম্পত্তিসহ সরকারি সকল সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ ১০ সুপারিশ।

পাসপোর্ট :  দালালের দৌরাত্ম্য, যাচাই কার্যক্রমে পুলিশ কর্তৃক ঘুষ গ্রহণ, জনশক্তির স্বল্পতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাবে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির সুযোগ গ্রহণ। তাই পাসপোর্ট ইস্যু পদ্ধতির উন্নয়ন এবং সহজীকরণে গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যয়ন ও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা বিলুপ্ত করে পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করা। জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ্বতা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে ডিজিটাল পাসপোর্টের্ ব্যবস্থা প্রচলনসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ।

স্বাস্থ্য খাত : এ খাতে দুর্নীতির উৎসের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি প্রভৃতিতে দুর্নীতি ও অনিয়ম বিদ্যমান। ডাক্তারগণ সাধারণত প্রত্যন্ত এলাকায় থাকতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণার্থী বাছাই প্রভৃতিতে কোন নীতিমালা অনুসরণ না করা। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের  কর্মচারীরা একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার সুবাদে স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে সংঘবদ্ধ একটি চক্রে পরিণত হয়। উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট চালানোর জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ না দিয়েই যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়, যা দীর্ঘকাল অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও মেরামত খরচ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ বা মেরামত করা হয় না, বরং সমপরিমাণ/সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র অসহায় গরীব রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। যথাযথ নজরদারি না থাকায় হাসপাতালগুলোতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ওষুধ থাকা সত্বেও রোগীদের প্রদান করা হয় না। অনৈতিক প্রভাবে নিম্নমানের/অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনাসহ ১১ উৎস চিহ্নিত করে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে বার্ষিক প্রতিবেদনে।

আয়কর বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়ম : আয়কর বিভাগে দুর্নীতির ১৩টি উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে ২৩ দফা সুপারিশ করেছে দুদক।

দেশের আর্থিকভাবে সামর্থবান সব নাগরিক, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর গ্রহণপূর্বক আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা। সৎ ও কর্তব্যনিষ্ঠ টিমের মাধ্যমে কর বিভাগের জন্য এ পর্যন্ত প্রস্তুতকৃত উপরিউক্ত অটোমেশন মডিউলগুলো পর্যালোচনা করে এগুলোকে হালনাগাদ করা। উৎসে কর ব্যবস্থাপনাকে জরুরি ভিত্তিতে অটোমেশনের আওতায় আনা এবং এর জন্য একটি পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো সৃজন করা। আয়কর বিভাগের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলসহ প্রতিটি দপ্তরের নথি নিষ্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ। কর্মকর্তা/কর্মচারীদের খেয়ালখুশি মতো করদাতাদের কর মামলা অডিটের জন্য নির্বাচনের সুযোগ বন্ধ করা এবং প্রচলিত নিরীক্ষার পরিবর্তে কম্পিউটারের সহায়তায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় বস্তুনিষ্ঠ নিরীক্ষার প্রবর্তন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট আরো উন্নত এবং করদাতাবান্ধব করার লক্ষ্যে রাজস্ব বোর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় অ্যাকাউন্টস, কেন্দ্রীয়ভাবে রিটার্ন গ্রহণ ও প্রসেসিং, কেন্দ্রীয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রদান ইত্যাদির উন্নয়ন ও ডাটা ম্যানেজমেন্টকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে করদাতাগণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কর প্রদানের বিষয়ে আরো বেশি সুযোগ সৃষ্টি করাসহ মোট ২৩টি সুপারিশ করা হয়।

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়সমূহ  :  উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বিভিন্ন ক্রয় কিংবা পেনশন ভাতাসহ বিভিন্ন বিলের অর্থ ছাড় করতে আদায় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এমন ৩৩টি সম্ভাব্য দুর্নীতি উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে ২১টি সুপারিশ করেছে দুদক।

উৎসগুলো হলো- সরকারি দপ্তরসমূহ কর্তৃক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়মসমূহের উপর যথাযথ প্রি-অডিট আপত্তি প্রদান না করে অনিয়মিত অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে বিল পাশ করা, হয়ে থাকে।

সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীর কর্ম অবসানে অবসরে গমনকালে সর্বশেষ হিসাবরক্ষণ দপ্তর কর্তৃক তার প্রত্যাশিত শেষ বেতনপত্র (ইএলপিসি) ইস্যুর ক্ষেত্রে অনাকাঙ্খিত বিলম্ব ঘটে থাকে; কর্মকর্তাদের সার্ভিস স্টেটমেন্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে হয়রানি মুক্ত সেবা প্রদান করা হয় না; কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশনের বেলায় অনিয়মিতভাবে আর্থিক সুবিধা প্রদানের দাবি করা হয়; ভুয়া পেনশন সংক্রান্ত বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা; উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের বেলায় অনিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করা; সরকারি দপ্তর কর্তৃক সম্পদ সংগ্রহ বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট/আইটি/কাস্টমস ডিউটি কর্তন না করে সরকারি রাজস্ব আদায়ের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা সৃষ্টি এবং রাজস্ব আদায়ের টার্গেটে পৌঁছতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা; বরাদ্দ থাকা সত্বেও বরাদ্দ নেই বলে বিলম্ব করা ও ভোগান্তি সৃষ্ট করাসহ মোট ৩৩টি উৎস।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স : বিমান ক্রয় ও বিমান লিজ খাতে দুর্নীতি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস খাতে দুর্নীতি, কার্গো এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট খাত, যাত্রী খাত, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও বিমান ফুড ক্যাটারিং খাতে দুর্নীতি। দুদক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বিমান, বিমানের স্পেয়ার্স, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টস বড় অংকের ক্রয় এবং বিমান লিজের ক্ষেত্রে ‘ব্যাপক দুর্নীতি’ হয়ে থাকে। বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটায় শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়ে থাকে। বিমানের আয়ের বড় খাত কার্গো সার্ভিস হলেও এ খাতে বড় ধরনের দুর্নীতি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, কার্গো সার্ভিস খাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কোটি কোটি টাকা এয়ারওয়ে বিল কম পাচ্ছে। অনেক সময় বিমানের কার্গো সার্ভিসের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী আমদানি রপ্তানিকারকদের যোগসাজশে ওজনে কম দেখিয়ে, আবার কখনও একক পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। বিমানে যাত্রীরা অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যাগেজ নিয়ে বিমানে উঠেন। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যাগেজের জন্য যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত চার্জ গ্রহণ করে তা মূল হিসাবে না দেখিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের তদন্তে উঠে আসে।

বাংলাদেশ বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না। এমনকি অনলাইনেও টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ বাস্তবে বিমানের আসন খালি যায়। এক্ষেত্রে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের সাথে যোগসাজশে অন্য এয়ারলাইন্সকে টিকিট বিক্রির সুবিধা করে দেওয়া হয়; এতে বিমানের কর্মকর্তারা কমিশন নিয়ে এসব কাজ করে থাকে বলে অভিযোগে পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।

সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির অনিয়ম-দুর্নীতি : একই ‘সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের’ ১১টি অনিয়ম ও দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে সরকারকে আলাদা আরেকটি সুপারিশ করেছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি যেসব খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে থাকে তা হল-ক্রয় খাতে দুর্নীতি, নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি, বিমানবন্দরের স্পেস/স্টল ও বিলবোর্ড ভাড়ায় দুর্নীতি, কনসালটেন্ট নিয়োগে দুর্নীতি, কর্মকর্তাদের বিদেশ প্রশিক্ষণে দুর্নীতি, যাত্রীদের অধিকার বিষয়ে ‘মন্ট্রিল কনভেনশন’ বাস্তবায়নে দুর্নীতি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দুর্নীতি, পাইলট, ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফ্টের লাইসেন্স প্রদানে দুর্নীতি, ফ্লাইট ফ্রিকুয়েন্সি ও শিডিউল অনুমোদনে দুর্নীতি ও অপারেশনাল কাজে দুর্নীতি ও দুর্বলতার কথা বলেছে দুদক।

এসব খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ সুপারিশগুলো হলো- বুয়েটের শিক্ষকসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ক্রয় কমিটি গঠন করা, নিমার্ণকাজ মূল্যায়নের জন্য বুয়েটের শিক্ষকসহ বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নিরপেক্ষ মেয়াদী কমিটি গঠন, বেবিচকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য অভিজ্ঞ পরিচালক পদায়ন করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

অন্যদিকে বিমানবন্দর এলাকায় দোকান ও বিলবোর্ডগুলো বরাদদ্দের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখে দোকান ও বিলবোর্ড বরাদ্দ বাতিল করতে হবে, বেবিচকের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা, বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজে ই-টেন্ডার ব্যবস্থা চালু, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতির ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, দক্ষদের যথাযথ জায়গায় পদায়ন করার বিষয়ে সুপারিশ করেছে‍ দুদক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি :  তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বড় অংশই উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশায় বিভিন্ন ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি হয়। কয়েক মাসব্যাপী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নামে কোচিং বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনুদান, উন্নয়ন তহবিলের নামে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মহোৎসব চলতে থাকে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এতে তারা আর্থিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অভিভাবকরাও আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হন। যা তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক এবং আত্মিকভাবে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এ জাতীয় কর্মকাণ্ড সমাজে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টির অন্যতম অন্তরায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সমন্বিত ভর্তি-পরীক্ষা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

আইন-শৃঙ্খলা : দেশের পুলিশি সেবার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে থানাসমূহ। প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের পরিদর্শক (নন-ক্যাডার) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা। সেবাপ্রার্থী নাগরিকগণ থানা থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার সেবা পাচ্ছেন না মর্মে প্রায়শই অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনো ক্ষেত্রে আচরণগত, হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যহার এবং দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব সমস্যা সমাধানে বেশকিছু সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : ‘ব্যাংকের অর্থ লোপাটকারীদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে’


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ মে ২০১৯/এম এ রহমান/সাইফ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge