ঢাকা, শনিবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘অনুশীলনের জন্য চরে কিংবা নদীর পারে যেতে হয় আমাদের’

শামীম হোসেন পাটোয়ারি : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৯ ১২:৪৪:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০৯ ৫:১৪:৫৯ পিএম

২০১৫ থেকে স্তর ভিত্তিক জাতীয় ক্রিকেট লিগ চালুর পর টানা তিন মৌসুম দ্বিতীয় স্তরে খেলেছে রাজশাহী। নিজেদের পারফরম্যান্সে নিজেরাই সন্তুষ্ট ছিলেন না রাজশাহীর খেলোয়াড়রা। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় স্তরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ২০১৮ সালে প্রথম স্তরে উন্নীত হয়। প্রথম স্তরে উঠেই বাজিমাত। খুলনার শ্রেষ্ঠত্ব ভেঙে রাজশাহীর মাথায় উঠে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবথেকে মর্যাদার মুকুট।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিকল্পনা, অসীম সাহসিকতা, ক্রিকেটের প্রতি উজার করে দেওয়া ভালোবাসা। পদ্মাপারের দলটির সাফল্যর পেছনের গল্প জেনেছে রাইজিবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ। রাজশাহীর সফল অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম অমির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামীম পাটোয়ারী

প্রশ্ন: রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আলাদা কি করেছে ?
জহুরুল ইসলাম অমি: তিন বছর আগে থেকেই আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছিলাম। আমরা দুই মাস এক সঙ্গে অনুশীলন করেছি। যে যেখানেই থাকতাম জাতীয় ক্রিকেট লিগের আগে রাজশাহীতে চলে আসতাম। খেলোয়াড়রা নিজেরাই সেগুলো আয়োজন করতো এবং বিভিন্ন ট্রেনাররা আমাদের সাহায্য করতো। আমরা সিনিয়র খেলোয়াড়রা নিজেদের উদ্যোগে এমন অনুশীলন ম্যাচের আয়োজন করতাম। এর আগে আমরা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এরপর টানা তিন বছর দ্বিতীয় স্তরে ছিলাম। সেখানে খেলতে আমাদের খুব খারাপ লাগছিল। তারপর গত তিন বছর থেকে আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকি। এর মধ্য থেকে কিছু কিছু পারফর্মার বেরিয়ে এসেছে। এখানে জুনায়েদ, মিজানুর এবং আমার নিজের উন্নতি হতে থাকে।
 


প্রশ্ন: খেলোয়াড় তৈরি কথা বললেন। আগে তো রাজশাহীতে পারফর্মার ছিল বেশি। দিনকে দিন এটা কমে যাচ্ছে…
জহুরুল ইসলাম অমি: রংপুর আর রাজশাহী বিভাগ ভেঙে যাওয়ার আগে শক্তিশালী দল ছিল আমাদেরটা। ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের দলের বেশ কিছু দূর্বলতা পূরণ করতে পারিনি, রংপুরও পারেনি। আমাদেরকেও সেটার জন্য ভুগতে হয়েছে। এটা কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে। এখন ওরাও ভালো ক্রিকেট খেলছে আমরাও খেলছি।

প্রশ্ন: ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না?
জহুরুল ইসলাম অমি: আমাদের ইনডোরটা একদম ভাঙাচূরা। সেকারণে অফ সিজনে খুব কষ্ট করে অনুশীলন করতে হয়। ইনডোরে চারদিক থেকে পানি ঢুকে। সেজন্য অনুশীলনের জন্য চরে কিংবা নদীর পারে যেতে হয় আমাদের। মাঠে ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো না থাকায় আমরা বৃষ্টির পর মাঠেই ঢুকতে পারি না। কাঁদা থাকলে রানিং করতে পারি না। ইনডোরটা ঠিক করে দেওয়ার জন্য আমরা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি।
 


প্রশ্ন: ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করা তো ব্যয়বহুল…
জহুরুল ইসলাম অমি: হ্যাঁ ব্যয়বহুল। তবে আমাদের নিজেদের জন্যই কাজটা করতে হচ্ছে। আমরা রাজশাহীর জন্য ব্যক্তিগত ট্রেনার রেখেছি, ব্যক্তিগত কোচ রেখেছি। তাদেরকে মাসিক বেতন দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নেট বোলার আছে। আবার ওরা ভালো করায় রাজশাহী দলে খেলেছে। বিপিএলে শরীফুল খেলবে আমাদের দলেই (খুলনা টাইটান্স)। আমাদের ডিভিশন থেকে কিছু করেনি কিন্তু। আমরা খেলোয়াড়রা এটা অ্যারেঞ্জ করেছি। আমরা নিজেরা ঠিক করি কার কতো বেতন হবে। যারা বেশি ইনকাম করে তাদের হয়তো একটু বেশি পড়ছে। আবার অনেকের কাছে ফ্রি। এভাবে আমাদের একটা ফান্ড হয়। এমন একটা মাসে দেখা যায় আমাদের খরচ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হয়ে গেছে। অনুশীলন ম্যাচ খেলার সময় আমাদের লাঞ্চ লাগে, ব্রেকফাস্ট আছে, টি ব্রেক আছে। দুটা ম্যাচে মোট ছয়দিনের খরচ। বিশাল অঙ্ক। 
 


প্রশ্ন: গতবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনার সঙ্গে আপনাদের পার্থক্যটা কোথায় ?
জহুরুল ইসলাম অমি: ওদের কিছু খেলোয়াড় এবার খেলেননি। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিথুনসহ কিছু নিয়মিত খেলোয়াড়কে ওরা পায়নি। রাজ ভাই (আব্দুর রাজ্জাক) ওদের দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। রাজ ভাই আমাদের সঙ্গে খুলনাতে যে ম্যাচটিতে খেলেনি সেখানে আমার মনে হয়েছিল একটা নেতৃত্বে অভাব ছিল। বিশেষ করে বোলিং নেতৃত্বে। ওই ম্যাচটিতে জিতে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। ম্যাচগুলো এমন যে কেউ জিতে গেলে অন্যদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। ওই ম্যাচটি ড্র হলে খুলনাও নিরাপদ অবস্থানে থাকতো এবং আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য এত বেশি এগোতে পারতাম না। আমার মনে হয়েছে পনের মিনিটের জন্য আমরা জিতে গেছি। আর ১০-১৫ মিনিট খেলা হলে ম্যাচ ড্র হয়ে যেত। ওই ম্যাচে যেটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের বোলার ছিল না। রাজ ভাই না থাকাতে সুবিধা হয়েছিল আমাদের জন্য।

প্রশ্ন: জাতীয় ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন আপনারা। আপনার মতে জাতীয় ক্রিকেট লিগের মান এবং এর গুরুত্ব ক্রিকেটারদের কাছে কতটুকু?
জহুরুল ইসলাম অমি:  এখানে খেলোয়াড়দের অনেক কিছু পাওয়া আছে। খেলোয়াড়রা এখানে ভালো পারফর্ম করে ভালো কোথাও যেতে পারছেন কি না সেটাই গুরত্বপূর্ণ। এনসিএলের গুণগত মান কিংবা গুরুত্বের কথা উঠলে ঘুরেফিরে প্রশ্নটা খেলোয়াড় নয়; আয়োজকদের দিকেই যায়। বিশেষ করে যারা এনসিএলের পরিচালক তাদের দিকে। এনসিএল খারাপ হলে সেটা তো খেলোয়াড়দের দোষ না। এক্ষেত্রে এখানে বোর্ডের আরো বেশি বিনিয়োগ করা উচিত। গুণগত মান বাড়ানোর জন্য এটা যদি ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতি হয় কিংবা আরো একটু গুরুত্ব দেয় তাহলে ভালো হয়। প্রথম স্তরের ফাইনাল ম্যাচটি বা শেষের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিরপুরে টিভিতে প্রচার করলে সেটা নিয়ে সবার আগ্রহ তৈরি হবে। এনসিএলের গুরুত্ব বাড়াতে হলে বোর্ডকে এগিয়ে আসতে হবে সেটা খেলোয়াড়রা পারবে না। বিপিএল নিয়ে তো কেউ প্রশ্ন করে না। আমি মনে করি এটাকে প্রমোট করার জন্য আমাদের চেয়ে বোর্ডের দায়িত্ব বেশি।
 


প্রশ্ন: অধিনায়ক হিসেবে হিসেবে সাব্বির রহমানকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন…
জহুরুল ইসলাম অমি: আমি যতদিন ধরে ওকে দেখছি, টেম্পারেমেন্টে ওর একটু কন্ট্রোল কম। তবে ছেলে হিসেবে সাব্বির বেশ ভালো। তার আত্মা অনেক ভালো তবে কন্ট্রোলে একটু সমস্যা রয়েছে। সাব্বিরকে আমি ছোট থেকে জানি তো, ও সত্যিকার অর্থেই ভালো ছেলে। এবার কোনো দুর্নাম ছাড়াই সে ছয়টি ম্যাচ খেলেছে। ও নিজেকে পরিবর্তন করতে চাইছে। ঠান্ডা মাথায় কিছু বুঝিয়ে বললে সে ‍বোঝে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ নভেম্বর ২০১৮/ইয়াসিন

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC