ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

দুঃখিত মাহমুুদুল্লাহ, এ যে বড্ড বিবর্ণ!

রফিকুল ইসলাম কামাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১২ ৫:২০:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-১২ ৫:২০:০০ পিএম
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

রফিকুল ইসলাম কামাল : শুরুটাই ছন্নছাড়া ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা তার। সে ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারে সাতে খেলতে নেমে ৫৪ বলে করতে পেরেছিলেন ৩৬ রান। একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর কেনিয়ার নাইরোবিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেন মাহমুদুল্লাহ। সে ম্যাচে মোটে ২ রান (৮ বলে) করতে পেরেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার প্রায় দুই বছর পর, ২০০৯ সালের ৯ জুলাই টেস্ট অভিষেক হয় মাহমুদুল্লাহর। কিংসটাউনে ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে সে ম্যাচে ব্যাটিং যেন বিভীষীকা ছিল তার জন্য! দুই ইনিংসে যে মাত্র ১৭ (৯+৮) রান করতে পেরেছিলেন!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুর এই হতশ্রী অবস্থা কিছুটা কাটিয়ে ওঠতে পেরেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। ওয়ানডেতে চতুর্থ ম্যাচে অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস, ষষ্ঠ ম্যাচেই পেয়েছিলেন প্রথম অর্ধশতক। নিজের খেলা তৃতীয় টেস্টে ৬৯ রানের ইনিংস এসেছিল তার ব্যাট থেকে। পরের টেস্টেই খেলেছিলেন অপরাজিত ৯৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। ঠিক পরের টেস্টেই মাহমুদুল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছিল ১১৫ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ওই ইনিংসই হয়ে আছে এখনও তার সেরা টেস্ট ইনিংস। তারচেয়েও বিস্ময়কর হচ্ছে, ওই ইনিংসের পর আর একটি টেস্ট সেঞ্চুরিও আসেনি মাহমুদুল্লাহর ব্যাট থেকে!

দিনের হিসাবে ৭ বছর ২৪ দিন পেরিয়ে গেছে। এতো দীর্ঘ সময়েও আর টেস্ট সেঞ্চুরির উল্লাসে মাততে পারেননি মাহমুদুল্লাহ। অথচ দলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যাটসম্যান। অভিষেকের পর টেস্টে এখনও পর্যন্ত ১৩টি অর্ধশতক পেয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। শতক ওই একটাই। তার ওই ১৩ অর্ধশতকের একটি আটকে ছিল নব্বইয়ের ঘরে, সত্তরের ঘরে দুটি এবং ষাটের ঘরে ছয়টি।

টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান এতো দীর্ঘ সময় ধরে সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছেন না, এ নিয়ে নিশ্চয়ই কথা ওঠতে পারে। কিংবা সেঞ্চুরির হিসাব যদি একপাশে সরিয়েও রাখা হয়, তবেওতো মাহমুদুল্লাহর টেস্ট পরিসংখ্যান আহামরি ধরনের কিছুই নয়। এখনও পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন ৩৩টি। ৬২টি ইনিংসে রান ১৮০৯, গড় ৩০.১৮, শতক ১টি, অর্ধশতক ১৩টি। তার সাম্প্রতিক সময়কার পারফরম্যান্স আরো করুণ! গত বছর (২০১৬) টেস্ট খেলেছেন দুটি। চার ইনিংসে রান মোটে ১১৫, গড় ২৮.৭৫, অর্ধশতকও নেই একটি (ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৭ রান)। চলতি বছর খেলা চার টেস্টের ৮ ইনিংসে করেছেন ১৮৮ রান, গড় ২৩.৫০, মাত্র এক অর্ধশতক (ইনিংসে ৬৪ রান, ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে)।

সর্বশেষ ২০ টেস্ট ইনিংসে মাহমুদুল্লাহর অর্ধশতক মাত্র দুটি (শতক তো নেই-ই)! এসব ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫৭০ রান, গড় ২৮.৫!

ওয়ানডের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। ১৩৪ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর ৩২.৮৫ গড়ে রান ২৮৫৮, অর্ধশতক ১৬টি, শতক ২টি। অর্থাৎ, ১৩৪ ম্যাচের মাত্র ১৮টিতে সমীহ জাগানো ইনিংস এসেছে তার ব্যাট থেকে। এ বছর এখন ওয়ানডে খেলেনি বাংলাদেশ। গত বছর ৯ ওডিআই ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর ব্যাট থেকে দল পেয়েছে ২২৯ রান। গড় তার ক্যারিয়ার গড়ের চেয়েও করুণ! মাত্র ২৮.৬২। অর্ধশতক আছে দুটি। ওডিআই খেলার ৮ বছরে এসে পেয়েছিলেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি (২০১৫ সালের মার্চে, নিউজিল্যান্ডে)।

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ দলের কেউ কেউ অব্যাহত খারাপ ফর্মেও দলে জায়গা হারাতেন না। আবার এমনও হয়েছে, কেউ কেউ দুয়েক ম্যাচে খারাপ খেললেই বাদ পড়ে গেছেন! এক্ষেত্রে মাহমুদুল্লাহ তো ‘সৌভাগ্যবান’! টানা খারাপ পারফরম্যান্স করেও দলে টিকে আছেন তিনি। তার এই দলে টিকে থাকা নিয়ে নানা কথাও ওঠছে। কেউ কেউ তো ‘ভায়রা ভাই প্রভাব’র কথাও বলে বসছেন আজকাল!

আমরা ‘কথা ওঠা’ বিষয়ে কথা নাইবা বললাম। কিন্তু মাহমুদুল্লাহর অফ ফর্মের কথা তো বলাই যায়। যেখানে শাহরিয়ার নাফীস, তুষার ইমরান, নাসির হোসাইন, নাঈম ইসলামরা ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েও দলে ডাক পান না, সেখানে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েও কেন মাহমুদুল্লাহ জায়গা হারাবেন না? এটা কি শাহরিয়ার, তুষার, নাসিরদের প্রতি অবহেলা নয়? তাদের সামর্থ্যকে অবজ্ঞা করা নয়?

দীর্ঘ সাত বছরেও যে ব্যাটসম্যান টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পান না, ক্রিকেটের চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই সময়ে তাকে বয়ে চলা কি বাংলাদেশের জন্য অতিশয় জরুরি? ওয়ানডের মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে এখনও খুব বেশি প্রশ্ন ওঠেনি, কিন্তু টেস্টের মাহমুদুল্লাহ যে বড্ড বিবর্ণ!

মাহমুদুল্লাহ নিজে একবার আয়নার সামনে দাঁড়াবেন? তিনি যে নিজের সামর্থ্যরে প্রতি অবিচার করছেন, তা কি বুঝতে পারবেন? টপ অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে ব্যাটিং মাহমুদুল্লাহর। তার ব্যর্থতায় দলের যে ক্ষতি হচ্ছে, এটা তো স্পষ্টই বুঝার কথা। আমাদের নির্বাচকরা কি কিছু করবেন? সুযোগ তো অনেক পেয়েছেন মাহমুদুল্লাহ, এবার কি তাকে কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম দেওয়া যায় না?

লেখক : সাংবাদিক

 


রাইজিংবিডি/সিলেট/১২ মার্চ ২০১৭/কামাল/আমিনুল

Walton
 
   
Marcel