ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

পুড়ে মরা আজিজা ও ইন্টার্নির উদ্ধত ঘুষি

জাফর সোহেল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-৩০ ২:৩৩:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-৩০ ৫:০২:০২ পিএম

জাফর সোহেল: ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট বিভীষিকাময় একটি জায়গা হয়ে উঠছে। এখানে যারা কাজ করেন তাদের কী পরিমাণ মানসিক শক্তি ব্যয় করতে হয় ভাবলেও আশ্চর্য লাগে! এত শক্তি তাঁরা কোথায় পান? এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন তারা দেহে নিয়ে আসেন মর্মন্তুদ ঘটনা কিংবা বর্বরতার চিহ্ন। দুর্ঘটনা আসলে খুব কমই ঘটে। বেশিরভাগই বয়ে নিয়ে আসেন এই সমাজেরই কিছু মানুষের কিংবা বলা যায় মানুষরূপী অমানুষের হিংস্রতার ছবি। আমাদের সমাজে কতটা ক্ষত তৈরি হয়েছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট তার একটা প্রমাণ।

গত শুক্রবার রাতে বার্ন ইউনিট দেখল আরেকটি বিভীষিকার ছবি। নরসিংদীর শিবপুর থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া দেহ নিয়ে সেখানে আসে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কিশোরী আজিজা। মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় মানুষরূপী কতিপয় দুর্বৃত্ত। সম্পর্কে তারা আজিজার চাচি এবং তারই সাঙ্গপাঙ্গ। ৪০ শতাংশ পুড়ে গেলে কাউকে জীবন ফিরিয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে পরে না বার্ন ইউনিট, আজিজাকে কীভাবে দেবে? আজিজার বাবার মতো বোবা বার্ন ইউনিটও হয়তো ডুকরে কেঁদেছে ভেতরে ভেতরে; কেউ কিছুই করতে পারেনি। গোটা শরীরে, পেটে-পিঠে, মুখে-চোখে আগুনে পোড়া ক্ষতের যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট হতে হতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে কিশোরী আজিজা।  

বার্ন ইউনিট তো বোবা, নির্বাক। আমরা যারা সবাক, তারাই বা কী করছি? এই সমাজে আমরা যারা বেঁচে আছি, খাচ্ছি-দাচ্ছি, নিরাপদে যে যার মতো করে পার করছি দিন-রাত্রি- তারা কীভাবে সান্ত্বনা দেব মেডিকেলের করিডোরে দেয়ালে ঠেস দিয়ে আকুল কান্নায় বুক ভাসানো আজিজার বাবাকে? আজিজার গায়ে কেরোসিন যারা ঢেলেছে তারা এ সমাজেরই মানুষ। সমাজ কেন আজিজাকে এদের হাত থেকে বাঁচাতে পারল না? কিংবা এ কেমন সমাজে আমরা বাস করছি যেখানে একটি মোবাইল চুরির (মিথ্যে অপবাদ) জন্য আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো মানসিকতাসম্পন্ন লোকও রয়েছে। আমরা মানুষ হিসেবে কতটা সামাজিক  প্রশ্নটি তাই এসে যায়।

আজিজার বাবা পোল্ট্রি খামারের শ্রমিক আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘আমার মেয়ে মরতে মরতেও বলে গেছে- ‘বাবা, আমি তো মরে যাব। কিন্তু বাবা বিশ্বাস করো, আমি মোবাইল চুরি করিনি, তারা আমাকে হাতমুখ বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে’।’’ যে মেয়ে জেনে গেছে সে হয়তো আর বাঁচবে না, শেষ মুহূর্তেও কতটা দৃঢ়তা নিয়ে সে সত্যটা বলেছে। কেন, কী দরকার ছিল যন্ত্রণাকাতর মুখে কষ্ট করে এই সত্য উচ্চারণ করার? সে কি বুঝে গেছে, এই সমাজ হয়তো নারকীয় এই ঘটনাকেও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে? সে কি মেনে নিয়েছে এই সমাজ তার কথা কোনদিন বিশ্বাস করবে না?

হয়তো। কারণ, আমাদের সমাজ আক্ষরিক অর্থেই এখন আজিজাদের কথা শুনতে চায় না। তাদের আকুতি শুনে তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া অপবাদ থেকে মুক্তি দেয়ার সামর্থ্য এই সমাজের নেই। তাই তো দুদিন আগে সাতক্ষীরায়ও অপবাদ-অপমান সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়েছে কলেজপড়ুয়া এক তরুণী। সেখানে দিনে দুপুরে রাস্তার ওপর ঐ তরুণীর চুল কেটে নেয় দুর্বৃত্তরা।  পত্রিকার পাতায় প্রায় প্রতিদিনই এমন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আজ নরসিংদীতে, কাল পাবনায়, পরশু সাতক্ষীরায়- ঘটনা থেমে নেই। বগুড়ার তুফান সরকারের অপবাদ দিয়ে মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনা তো খুব বেশি পুরনো হয়নি। ময়মনসিংহে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন কিংবা তারও আগে সিলেটের শিশু রাজনকে যেভাবে হত্যা করা হলো সামান্য চুরির অপবাদ দিয়ে- কোথাও সমাজ কিছুই করতে পারেনি। দুর্বৃত্তদের থামাতে যেমন পারেনি, তেমনি নিরাপরাধকেও রক্ষা করতে পারেনি।

এ কেমন সমাজে আমরা বাস করছি? নাকি অহর্নিশ ব্যক্তিগত বিষয়ে আমরা এতটাই ডুবে আছি যে, আমাদের যে একটি সামগ্রিক সত্তা আছে, সামাজিক জীব যে কারণে আমাদের বলা হয়, অন্যসব প্রাণী থেকে আমরা যে এ কারণেই আলাদা তা-ই আমরা ভুলে গেছি? আমার তো অনেকটা সেরকমই মনে হচ্ছে। আমরা আসলে ভুলে গেছি আমরা মানুষ, সামাজিক জীব। আমরা একে অপরের বিষয়গুলো দেখার কথা। সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর কথা। সমস্যা-সম্ভাবনা শেয়ার করার কথা। কিন্তু আমরা কিছুই করছি না। আমরা কেবল চিন্তা করছি কীভাবে আমি ভালো থাকব; কীভাবে আমি উন্নতি করব; কীভাবে আমি আরো ভালো খাব; আমি আরো ভালো করব; আমি আরো বড় হব- এতেই আমরা মগ্ন। 

যদি তাই না হতো তবে আজিজাকে এভাবে পুড়ে মরতে হতো না। আজিজার বিরুদ্ধে তার চাচিদের অভিযোগ ছিল মোবাইল চুরির। তাও এক সপ্তাহ আগের। এই একটি ঘটনা সেখানকার সমাজের মানুষেরা এক সপ্তাহ ধরে মীমাংসা করতে পারেনি। কেন? এটা কি কঠিন কিছু ছিল? আর মোবাইল চুরির ঘটনা যদি ঘটেও থাকে তার জন্য কি একটি বাচ্চা মেয়েকে পুড়িয়ে মারতে হবে? যারা পুড়িয়ে মেরেছে এই নিষ্পাপ শিশুকে তারা কি মানুষ? তাদের মন কি মানুষের মন? কী দিয়ে, কোন পারিপার্শ্বিকতায় এই মন তৈরি হচ্ছে?

মনে প্রশ্ন জাগে, সমাজে আমরা যারা আরো আছি আমরা কি সবাই এমন মন নিয়েই তৈরি হচ্ছি? আমাদের স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরাও কি এমন মন লালন করছে? এরকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি হলে কিংবা আমাদের নিকটজনেরা কেউ বললে আমরাও কি এমন নারকীয় কাজ করব?

আমার মনে হয় আমাদের সবার নিজেকে এই প্রশ্ন করার সময় এসেছে। কারণ, যারা আজিজাকে পুড়িয়ে মেরেছে তারা আমাদের সমাজেরই লোক। বাইরের কেউ নয়। সুতরাং এ ঘটনার দায় কেবল তাদের নয়, আমরা যারা সমাজের বাকিরা আছি, তাদের সবার। আমরা সবাই মিলেই কিন্তু এমন সমাজ তৈরি করছি, যেখানে সামান্য কারণে অন্যের ওপর নৃশংসতা চালানোর মন তৈরি হচ্ছে। আমরা সমাজে দুর্বৃত্ত তৈরি করছি। অতএব দুর্বৃত্তের আঘাত এই সমাজে ঘটতেই থাকবে; দুর্বৃত্তের আস্ফালন চলতেই থাকবে, তাদের অন্ধ আক্রোশের শিকার বাড়তেই থাকবে দিনের পর দিন।     

আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে আমরা এ থেকে বের হবো। কীভাবে এই সমাজের মধ্যে যারা বাস করি তাদের মন ও মননে মানবিকতার বিষয়টি ঢোকাবো। সবাইকে সে চিন্তা করতে হবে। আমাদের সবাইকে কথা বলতে হবে। অন্যের কথা শুনতে হবে। অন্যের সমস্যা দেখতে হবে, খোঁজ নিতে হবে। সমাজ কখন, কোনদিকে চলে যাচ্ছে সে বিষয়ে সবাইকে ভাবতে হবে; সমস্যা দেখা দিলে সমাধানে সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

সমাজ গঠন করার, সমাজের মানুষের মনন গঠন করার একটা বিষয় যে আছে তা নিয়েও ভাবতে হবে। আমরা যার যার মতো আছি বলেই সামজিক বিষয়গুলো ঠিকঠাক চলছে না। সঠিক পথে নেই সমাজ। আমরা যদি আবার একীভূত হতে শিখি, সামাজিক জীব হিসেবে বাঁচতে শিখি, চলতে শিখি তাহলে সমাজও সঠিক পথেই চলবে। বঙ্কিমের কপাল কুণ্ডলার ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’র মতো আমাদের বলতেই হবে ‘সমাজ তুমি পথ হারাইয়াছ’। এখন হারানো পথ থেকে, বাঁকা পথ থেকে সমাজকে সোজা পথে, সঠিক পথে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। চোখ বন্ধ করে রাখলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সামাজিক বিচ্যুতি থামবে না। নিজেও নিরাপদ থাকতে পারব না। আজ আজিজার দেহ পুড়েছে, কাল আপনার-আমার মেয়ের দেহ পুড়বে।

২.
সামাজিক বিচ্যুতি কি না জানি না, তবে বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দ্বিতীয়বারের মতো যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটালো তাও সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার সংকটের চিত্র তুলে ধরে। শনিবার সেখানে মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধ মাকে ভর্তি করেন এক ব্যক্তি। বয়োজ্যেষ্ঠ ঐ ব্যক্তির সঙ্গে তার ছেলেও ছিলেন। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দাদির স্যালাইন শেষ হয়ে যাওয়ায় ইন্টার্ন ডাক্তারকে ‘আপু’ সম্বোধন করে বিষয়টি জানান তার ছেলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সঙ্গে বাক বিতণ্ডায় লিপ্ত হন সেই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক। এক পর্যায়ে কাছাকাছি থাকা দুজন পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐ তরুণকে কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে একটা কক্ষে নিয়ে যান এবং শারীরিকভাবে আঘাত করেন। টেলিভিশনের পর্দায় দেখলাম সেই তরুণের মুখমণ্ডল আপাদমস্তক ব্যান্ডিজ করা। মনে হলো ডাকাতি করতে গিয়ে বেচারা গণপিটুনি খেয়েছে। একই ঘটনায় মারপিট করা হয় তুলনামূলক বয়োজ্যেষ্ঠ ঐ তরুণের বাবাকেও। তিনিও কাঁদতে কাঁদতে ঘটনার বর্ণনা দেন। খবরে জানা গেল, এই ঘটনার জেরে ৮৫ বছরের ঐ বৃদ্ধাকে রিলিজ করতে বাধ্য করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়!

অনেকটা রোমহর্ষক একটা ঘটনার মতো মনে হচ্ছে বিষয়টা। একটা দেশের উচ্চশিক্ষিত, সামাজিকভাবে সম্মানিত একটি পেশায় যারা আসছেন তারা কী করে এমন মারমুখি আচরণ করতে পারেন? তারা কি কেবল ডাক্তারি বিদ্যাই শিখছেন, নৈতিক কোনো জ্ঞান তাদের দেয়া হচ্ছে না? কেউ যদি ন্যূনতম নৈতিকতাও লালন করে থাকে সে তো এমন নির্দয় হতে পারে না। ‘আপু’ বলাটা মোটেই অসম্মানজনক ব্যাপার নয়। যদি খারাপ লেগেই থাকে তাও বুঝিয়ে বলার বিষয় আছে। তাতেও সন্তুষ্ট না হলে একটু গালমন্দ করা যেতে পারে। মারধরের মতো, বিশেষ করে সন্ত্রাসী স্টাইলে কারো ওপর হামলে পড়ার মতো আচরণ কীভাবে দেখায় ডাক্তাররা? নিঃসন্দেহে এটি একটি সন্ত্রাসী কাজ। 

এর আগেও এই একই মেডিকেলে ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সরকার দলীয় সমর্থক এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে বহিষ্কার করায় দেশব্যাপী ধর্মঘটও পালন করেন চিকিৎসকরা। এটা কী ধরনের শিক্ষা? নৈতিক শিক্ষার ন্যূনতম কোনো স্পর্শ এই চিকিৎসকরা পাচ্ছে কি না সেটা নিয়েই এখন সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আর এদের পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাই বা কী? আমাদের চিন্তা করতে হবে এই দুর্বৃত্তপনা আর কতদিন চলতে দেয়া হবে। কোথাও একটা দাঁড়ি-কমা আমাদের দিতেই হবে। না হলে এগুলো বন্ধ হবে না। পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসক শুধু ওষুধের নাম মুখস্থ করলেই হবে না, তাকে সামাজিক হতে হবে, নৈতিক হতে হবে, মানবিক হতে হবে। দু-একজন দুষ্টুলোক সব জায়গায় আছে। তাদের অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আমাদের সমস্যাটা হলো, আমরা কোনো একজন অপরাধীর দায় গোটা সমাজের ওপর চাপিয়ে দেই। একজন চিকিৎসক কোনো না কোনো কারণে অন্যায় করতেই পারেন। তাকে তার অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করতে দেয়াটাই হলো বাকিদের দায়িত্ব। তার অপরাধ চাপা দেয়া কোনোভাবেই বাকিদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি, গাড়িচালক এবং ডাক্তার- এই দুই পেশার ক্ষেত্রেই কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলে সবাই এক যোগে রাস্তায় নেমে পড়েন। তারা ভুলে যান, গোটা গোষ্ঠীর মধ্যে দু-একজন খারাপ লোক থাকতেই পারে। তাদের কর্মের জন্য তারা ফল ভোগ করবে। এটাও যদি বাধাগ্রস্ত করেন তাহলে তো যারা দুষ্টু লোক আছে তারা আরো প্রশ্রয় পাবে, আরো অন্যায় করবে। সুতরাং চিকিৎসক সমাজকে বলি, নিজেদের পেশার সুনাম ও আস্থা ধরে রাখতে হলেও দয়া করে এসব প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করুন। অন্যায়কে অন্যায় বলার সাহস করুন। নতুন চিকিৎসকদের নীতি-নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বোধের মতো বিষয়গুলোতেও শিক্ষা দিন।

লেখক: সাংবাদিক

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ অক্টোবর ২০১৭/তারা

Walton
 
   
Marcel