ঢাকা, সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বইমেলা হোক ফাগুন মাসের আগুনঝরা দিনজুড়ে

জেনিস আক্তার : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৭ ১০:৩৩:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-০৭ ১০:৩৩:৪৮ পিএম

জেনিস আক্তার : শহরের ডালে একলা কোকিল এখনো ডেকে ওঠেনি, তাই বলে বসন্তের আগমনী গান থেমে নেই। আমাদের মনে বসন্ত আসে বইমেলা শুরু হবার সাথে সাথে। মন সেজে ওঠে বাসন্তী রঙে। চারপাশের প্রকৃতির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, প্রকৃতিতে ফাগুন আসতে দেরী নেই। যতোই ইট কাঠ থাকুক না কেন ফাগুনের বাতাস ক্রমশ বইতে শুরু করেছে। আমরা অনুভব করছি, ঐ বুঝি আমের মুকুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল, ধুলো উড়ল আকাশে। পিচ ঢালা পথের ওপর শুষ্ক পাতার ওড়াওড়িতে বোঝা যাচ্ছে- পাতাদের ঝরে যাবার দিন সমাগত।

অমর একুশে গ্রন্থমেলাতেই অনুভব করা যায় বসন্তের বার্তা। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের যে বীরত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই এই ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজন করা হয় গ্রন্থমেলার। এই গ্রন্থমেলার নামকরণও করা হয়েছে সেকথা স্মরণ রেখে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। অধিবর্ষের গ্যাড়াকলে প্রাণের এই মেলা ২৮ কিংবা ২৯ দিনে হয়, এবার পড়ল ২৮ দিনে। প্রাণের সঞ্চারে একদিন যেন কমে গেল। সেই ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। এই ৩২টি বই ছিলো চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশী শরণার্থী লেখকদের লেখা বই। তিনি একাই মেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েক বছর। পরে অন্যান্যরাও অণুপ্রাণিত হন।

সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন। পরে ১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আয়োজন সম্পন্ন করেন। বেশ কয়েক বছর পূর্বে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রন্থমেলা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হতো। পরে সবার আগ্রহ আর ভালোবাসায় ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে থাকে। যেহেতু বাংলা ফাগুন মাসের ৮ তারিখের ভাষা অন্দোলনে আমাদের ভাষা সৈনিকেরা শহীদ হন, সেই স্মৃতি থেকেই এই গ্রন্থমেলা আয়োজন করা হয় এ মাসে। বইমেলার সাথে ফাগুনেরও সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বইমেলা ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু করে ফাগুন মাসজুড়ে চললে বইপ্রেমীদের প্রাণের আকুতি মেটে।

সেই এক টুকরো চটের উপর ৩২টি বইয়ের ক্ষুদ্র মেলা কালানুক্রমে বাঙালির সবচেয়ে আপন মেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলা একাডেমি চত্বরে স্থান সংকুলান না-হওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। শুধু সম্প্রসারণই না এবার পুরো পাঁচ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বেড়েছে মেলার পরিধি! পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে মেলার সময়। মেলা আগে রাত আটটা পর্যন্ত থাকলেও, এখন হয়েছে রাত নয়টা পর্যন্ত। এত কিছু ধীরে ধীরে বিস্তৃত হলেও মেলার দিন বাড়েনি। যদিও বিভিন্ন সময় এ দাবি উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এবারও চার দিন বাড়ানো হয়েছিল। সুতরাং এতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ফাগুন মাসজুড়ে মানে মার্চের মাঝামাঝি মেলা শেষ হবে। মেলা চলবে প্রায় ৪৫ দিন। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে নয়।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, মেলা ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হলেও, অনেক স্টল গোছাতে এবং প্রেসের ব্যস্ততায় বই বিলম্বে বের হয়ে মেলায় আসতে আসতে ১০ দিন লেগেই যায়। মেলার প্রাণটা আমরা পাই ১০ তারিখের পর থেকে। আর ২৮ তারিখ মেলা শেষ হবে বিধায় মেলার ঝিমানো ভাবটা আমরা দেখতে পাই ২১ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই। তাহলে হিসাব করলে দাঁড়ায় আমরা মেলাটা পাচ্ছি মোটে ১০ দিন! এই ১০ দিন বইপ্রেমীদের জন্য কম সময় বলেই মনে করি। এতে লেখক-পাঠক-প্রকাশক, বইপ্রেমী সবার জন্যই ভালো হবে। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বিশেষ অনুরোধক্রমে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক: কবি ও সাহিত্যিক



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
   
Walton AC