ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগেই স্বস্তির ঈদ

কবীর চৌধুরী তন্ময় : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-০২ ৫:১৪:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-০৪ ১:৫৩:৫৬ পিএম
Walton AC 10% Discount

কবীর চৌধুরী তন্ময়: আমার বাবা প্রায়ই বলেন, ‘ব্রিটিশ শাসনামল নিয়ে আমার খুব বেশি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ নেই। কারণ, তখন সিদ্ধান্ত দেয়ার মতো আমি পর্যাপ্ত পরিপক্ক ছিলাম না। তবে, পাকিস্তান শাসনামল আমার নখদর্পণে। সেইসঙ্গে ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি দাঁড়ি-কমা, সেমিকোলন আমার জানা। তার মাঝেই আমি বড় হয়েছি। মিছিলে মিছিলে এ পথ ধরে অন্য পথে হেঁটে বেড়িয়েছি। সিনিয়রদের সিদ্ধান্ত ছাড়াও আমার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর্যাপ্ত বয়সও তখন ছিল।’

বাবা খুব গর্ব করেই বলেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিশ্বস্ত, গ্রহণযোগ্য নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার ডাক উপেক্ষা করা, আমাদের কারো পক্ষেই সম্ভব ছিলো না। আর তাই ব্যবসা-বাণিজ্য আর পরিবার ফেলে বড় ভাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। আর তোমাদের এই বয়সে শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীজুড়ে শেখ হাসিনার মতন আরেকটি নেতা ও নেতৃত্ব খুঁজে পাবে না। উনিশবার মৃত্যুর চূড়ান্ত কিনারা থেকে ফিরে এসে এই দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মর্যাদার জায়গাটি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর ফরমেটের বাইরে গিয়েও নিজস্ব স্বপ্ন আর কল্পনা-ইচ্ছা শক্তিগুলো একে একে তিনি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।’

পৃথিবীর একমাত্র দেশ বাংলাদেশ, যেখানে স্বাধীনতাবিরোধীরা আজও এদেশের মাটিতে রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে। তারা এখনো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এবং দেশের উন্নয়ন কাজ প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্থ করছে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একের পর এক মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে বিএনপি-জামায়াত। আর এতো কিছুর পরেও ইতিহাসের সেরা উন্নয়ন করে দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। চলমান রেখেছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। বিশ্বের শক্তিধর দেশ থেকে স্বয়ং জাতিসংঘ থেকেও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পাশাপাশি নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও প্রশংসা অর্জিত হয়েছে। স্যোশাল মিডিয়াতে বেশ ঘুরে বেড়াচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় গায়ক মিয়াভির সেলফিতে শেখ হাসিনার হাসিমাখা ছবি। তাকামাসা ইশিহারা মিয়াভি জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার, গিটারিস্ট, সঙ্গীত প্রযোজক ও অভিনেতা। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও প্রশংসা পাওয়া মিয়াভি সমাজসেবকও। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে একটি ভোজসভার আয়োজন করা হয়। আর সেখানেই আমন্ত্রিত ছিলেন জাপানের এই জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলতে দেরি করেননি তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হাসিমুখে তাতে সম্মতি দিয়েছেন। এজন্য মিয়াভি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন: ‘জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে আয়োজিত ভোজসভায় ইউএসএইচসিআর অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলাম আমি। রোহিঙ্গাদের প্রতি যে সহমর্মিতা তাঁরা দেখিয়েছে, সে জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাতে পেরে আমি ধন্য।’ শুধু বাঙালিই নয়, শেখ হাসিনার মানবতার বার্তা আজ যেখানেই পৌঁছেছে, সেখানেই সভ্যতার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। আলোকিত হয়েছে মানুষ আর নতুন প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হয়েছে। যার দৃষ্টান্ত আরেকবার পৃথিবী দেখছে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মিয়াভির মাধ্যমে।

এদেশে রমযান মাস শুরু হতে না হতেই যেভাবে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী তাদের ব্যক্তিগত মুনাফা লাভের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করেছে, যেভাবে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে- এটি আমাদের সবাইকে রীতিমত উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সেইসঙ্গে কৃষক তার ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার খবরগুলো অনেক ভালো কাজকে ঢেকে দিয়েছিল। সাথে যুক্ত ছিল ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনা। সোনাগাজী উপজেলা জামায়াত ইসলামের সাবেক আমীর সিরাজ-উদ-দৌলা কর্তৃক নুসরাতের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে রীতিমত হতবাক করে দিয়েছে।

বৃহৎ জনসংখ্যার ছোট্ট এই দেশের ভিতর কে কখন কোথায় কীভাবে ষড়যন্ত্র করছে এটি সাধারণ চোখে নির্ণয় করা কঠিন। আবার অনেক সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে ষড়যন্ত্রের অগ্রীম বার্তা খুঁজে পেতে। আর এটা যে শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা নয়। আমেরিকার টুইন টাওয়ার থেকে সাম্প্রতিক নিউজিল্যান্ডে সংঘঠিত হামলার খবরও সে দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র অগ্রীম খুঁজে পায়নি। আবার শ্রীলঙ্কার সরকার হামলার অগ্রীম বার্তা পাওয়ার পরেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার আগেই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মাননীয় শেখ হাসিনা নুসরাতের হত্যার সঙ্গে সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার শুধু নির্দেশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি, বরং পুরো ঘটনা মনিটর করেছেন। আর ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রযন্ত্রের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সময়ের সেরা তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমাও দিয়েছে। অন্যদিকে ভ্রাম্যমান আদালত বাজারে বাজারে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখায় অসাধু ব্যবসায়ী হয়ে পড়েছে কোণঠাসা। অনেক খাবারের হোটেলসহ বিউটি পার্লারকেও তাদের অপরাধের জন্য আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে জেল জরিমানা করা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একদিকে অন্যায় অপরাধীর প্রতিরোধক, অন্যদিকে মানবতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হলে তিনি হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন। মুমূর্ষু সেতুমন্ত্রীকে ভরসা দিয়েছেন। তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয়, অন্যদিকে ওবায়দুল কাদেরের অনুপস্থিতিতে সেতু মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কাজের খোঁজ-খবর রেখেছেন। অনেক সময় প্রতিনিধি পাঠিয়ে চলমান কাজের সরেজমিন রিপোর্ট নিয়েছেন। যে কারণে এবারের ঈদে বাড়ি ফেরা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঈদ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়ার ঝক্কি-ঝামেলা আর সড়ক পথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা-এ যেন ইতিহাসে রূপ নিয়েছিল। সেইসঙ্গে পথে পথে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, মলম পার্টি এগুলোও চলার পথে সঙ্গি-সাথীর মতোই ছিল।  কিন্তু, এই কয়েকদিন টেলিভিশন, পত্রিকা আর অনলাইন নিউজ পোর্টালে ঈদ যাত্রার পজেটিভ খরবগুলো আমাদের আলোড়িত করেছে। ট্রেনে অনলাইন টিকেটে অ্যাপস সমস্যা ছাড়া প্রত্যেকটা সংবাদ মাধ্যম খুটিয়ে খুটিয়ে বিশ্লেষণ করে সংবাদ পরিবেশন করেছে। টকশোতে আজীবন নেতিবাচক কথা বলার মানুষগুলোও এখন দেখছি ইতিবাচক কথা বলেছেন।

গণমাধ্যমে জেনেছি, ঈদের লম্বা ছুটি শুরুর আগে অফিস খোলা থাকবে মাত্র একদিন, সোমবার। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওই দিনকে ছুটির আওতায় এনে কর্মীদের ঈদে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ছাড়পত্র দিয়ে। তাই শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। আর এই ঈদ যাত্রায় সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রীরা। ঈদ সামনে রেখে দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু খুলে দেয়ায় এতদিনের যানজটের ভোগান্তি থেকে আজ তারা মুক্তি পেয়েছে। আবার কাঁচপুরে দ্বিতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু চালু হওয়ায় অন্যদের পাশাপাশি ঢাকা থেকে সিলেটের যাত্রীদেরও বড় ধরনের ভোগান্তির অবসান ঘটেছে। কাঁচপুর পার হতে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনেই কেটে যেত, সেখানে এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই পথ পেরিয়ে যেতে পারছেন তারা। আমার জানা মতে, রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে থেকেও শেখ হাসিনা রীতিমত দেশের মানুষের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং তার প্রতিনিধিদের প্রতিনিয়ত মনিটর করতে বলেছেন। অনেকের কাছে ফোন করে কোথায় কী ব্যবস্থা নেয়া যায় এটি নিশ্চিত করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

ঈদের মৌসুমে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি ভালো আছে- এমন দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবারের ঈদযাত্রা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘স্বস্তিদায়ক’ হবে বলেই তার প্রত্যাশা। তিনিও অসুস্থ শরীর নিয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশ পালন করতে একের পর এক মিটিং, মনিটরিং করে যাচ্ছেন। ছুটে যাচ্ছেন রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল ও শ্যামলী এলাকাসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারগুলোতে। যাত্রীদের সাথে কথা বলছেন। তাদের সুবিধা-অসুবিধা জানার চেষ্টা করছেন। আর যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই রেলপথ, নৌ-পথ, বিমান পথের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে হাইওয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ঈদকে ঘিরে শেখ হাসিনার নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল ইতোমধ্যেই দেশের জনগণ ভোগ করতে শুরু করেছে। তাদের মাঝেও স্বস্তি ও আশ্বস্তের হাসি ফুটে উঠেছে। স্যোশাল মিডিয়াতেও অনেকে পজেটিভ মতামত তুলে ধরেছেন। আবার এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরামর্শও দিয়েছেন।

লেখার শেষ ভাগেও আমার বাবার আরেকটি কথা মনে পড়ে গেল। বাবা বলেন, ‘নেতার নেতৃত্ব যদি দেশ, মাটি ও মানবতার কল্যাণের জন্য হয় তাহলে ইতিহাস নিজেই টেনে তুলে তার জায়গাটি নিশ্চিত করবে। যেমনি বাংলাদেশ ইতিহাসের সেরা জায়গাটি নির্ধারণ করে দিয়েছে সর্বকালের মহা মানব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য। শেখ হাসিনাও তাঁর কর্মগুণে বিশ্ব নেতৃত্বে আজ উজ্জ্বল নক্ষত্র। তোমাদের প্রজন্মের জন্য তিনি আল্লাহ’র বিশেষ রহমত।’ আমরা জানি, গুড গভর্নেন্স বলতে সুশাসন, সরকারের নেয়া জনকল্যাণকর উদ্যোগ বা ভালো ব্যবস্থাপনাকে বোঝানো হয়। আর এটি শেখ হাসিনার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ আজ নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলো উপলব্ধি করতে পারছে। আর এটি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশের মাটিতে অবস্থান করেও সর্বাধিক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জুন ২০১৯/তারা

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge