ঢাকা, সোমবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২১ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

মাহে রমজানে দোয়া বেশি কবুল হয়

আসিফ খান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-০৮ ৭:২৭:০৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-০৯ ১২:১০:৫৭ পিএম

আসিফ খান : মুসলমানদের জন্য রমজান মাস আল্লাহ তাআলার অশেষ নেয়ামত। রমজানের মাহাত্ম, ফজিলত ও মর্তবা তাদের কাছে রয়েছে যারা এ মাসের বরকত সম্পর্কে অবগত। মাহে রমজানের আজ ১২তম দিন। অর্থাৎ মাগফিরাতের দ্বিতীয় দিন আজ। প্রথম দশকে রাব্বুল আলামিন তার অপার রহমত ও করুণার দ্বার খুলে দিয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় দশকে তিনি অবারিত করে দিয়েছেন তার মাগফিরাত অর্থাৎ ক্ষমার ভাণ্ডার। তাই রমজানে আমাদের উচিত বেশি বেশি করে আল্লাহর কাছে দোয়া তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা।

দোয়া অর্থ হচ্ছে ডাকা। রাব্বুল আলামিনের কাছে কোনো কিছু চাওয়াকে দোয়া বলে। বান্দা তার যে কোনো প্রয়োজনে আল্লাহ তাআলাকে ডাকবেন, তার কাছে চাইবেন। আল্লাহও তা পছন্দ করেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় হাবিবকে (সা.) লক্ষ্য করে বলেন, ‘যখন তোমার কাছে আমার কোনো বান্দা আমার সম্পর্কে পছন্দ করে তখন তুমি বলো, আমি তোমাদের খুবই নিকটে এবং যখন কেউ আমাকে ডাকে (দোয়া করে) আমি তার ডাকে সাড়া দেই।’ –(সূরা বাক্বারা-১৮৬)

নোমান বিন বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘দোয়াই হচ্ছে এবাদত। -(আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)। আরেক হাদিসে রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন- ‘আল্লাহর কাছে দোয়ার চাইতে বেশি সম্মানিত জিনিস আর কিছু নেই।’ -(তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

বান্দাহ যেমন তার নিজের জন্য দোয়া করবে, তেমনি অন্যের জন্যও দোয়া করা উচিত। নিজের মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়িসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া করতে হবে। পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশি, দেশবাসি এবং সব জীবিত ও মৃত মুসলমান নর-নারীর জন্য দোয়া করা দরকার। হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে সেই দোয়া কবুল হয়। তার মাথার কাছে নিয়োজিত ফেরেশতা আমিন বলেন এবং আরো বলেন, তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ হোক।’ –(মুসলিম)

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘তিন দোয়া কবুল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মা-বাবার দোয়া, মজলুমের দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া।’ -(আবু দাউদ, তিরমিজি) অপর এক হাদিসে এসেছে, আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন- যে আল্লাহর কাছে কিছু চায় না আল্লাহ তার ওপর রাগ করেন।’ -(তিরমিজি)

সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু দুঃখের সময় নয়, সুখের সময়ও দোয়া করা, তার শুকরিয়া আদায় করা উচিত। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি চায় যে তার দুঃখের সময় আল্লাহ তার দোয়া শুনবেন, সে যেন সুখের সময়ও দোয়া করে।’ -(তিরমিজি)

মাহে রমজান যেহেতু ফজিলতের মাস। তাই এই মাসে যাবতীয় ভোগ-লালসা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর হুকুম মানার কারণে রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত হন। আর তারা দোয়া করলে রাব্বুল আলামিন সে দোয়া কবুল করেন। বিশেষ সময়ে ও মওসুমে দোয়া বেশি কবুল হয়। অনুরূপভাবে বিশেষ স্থানে এবং বিশেষ লোকের দোয়াও কবুল হয়। পবিত্র রমজানে দোয়া বেশি কবুল হয়। বিশেষ ব্যক্তি ও অবস্থা যেমন ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়।

হযরত আমর বিন আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। তাই ইফতারের সময় আমাদের সবার বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।’ -(ইবনে মাজাহ)

রাসূলে করিম (সা.) ইফতারে সময় বিভিন্ন ধরনের দোয়া করেছেন। মুয়াজ বিন যাহরা থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইফতারের সময় বলতেন- ‘হে আল্লাহ আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া নেয়ামত দিয়েই ইফতার করছি।’ –(আবু দাউদ)

হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘যার জন্য দোয়ার দরজা খোলা হয়, তার জন্য রহমতের দরজা খোলা হয়। আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও শান্তির চাইতে অধিকতর প্রিয় দোয়া নেই।’ সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেছেন- ‘আল্লাহ চিরঞ্জীব ও সম্মানিত। বান্দাহ তার কাছে দুই হাত তুললে তিনি খালি হাতে তাকে ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন।’ –(তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

রমজান মাসে রাসূল (সা.), সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িনরা ইবাদত বন্দেগির পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে আহাজারি রোনাজারি করে দোয়া করেছেন। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর সান্নিধ্য ও নৈকট্য লাভে সক্ষম হয়েছেন। তাই রমজানের পুরো মাস জুড়ে আমাদের ইবাদত বন্দেগির সঙ্গে সঙ্গে বেশি বেশি দোয়া করা জরুরি। রাব্বুল আলামিন আমাদের সে তাওফিক দান করুন। -আমিন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ জুন ২০১৭/আসিফ/এনএ

Walton Laptop