ঢাকা, সোমবার, ৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কার্যালয়ের দলিলে ঋণ : ষড়যন্ত্র খুঁজছে বিএনপি

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৭ ৭:২৫:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-০২ ৯:০৪:২৯ এএম

এস কে রেজা পারভেজ : বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতা দলের ‘কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দলিল’ বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করায় ভবনটি এখন নিলামে উঠতে পারে বলে গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে, তাতে অবাক ও বিস্মিত হয়েছেন দলটির নেতারা।

৩৫ বছরের আগে ভবনটির দলিলের বিনিময়ে যে ব্যাংকঋণ নেওয়া হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত জানেনই না তারা। বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। খবরটি প্রথম জানলেন বলে এই প্রতিবেদকের কাছে জানান তারা। তবে দীর্ঘদিন আগের এই ঘটনার ইস্যু ধরে কার্যালয় নিলামে তোলার সম্ভাবনার বিষয়টিতে ‘সরকারের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতারা।

ঢাকার চতুর্থ অর্থ ঋণ আদালতে করা মামলার সূত্রে জানা যায়, বিএনপি বহিষ্কৃত নেতা, স্থায়ী কমিটির প্রাক্তন সদস্য এবং প্রাক্তন মন্ত্রী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী ও তার বন্ধু এ এইচ খান ১৯৮০ সালের ২০ আগস্ট ব্যাংক অব ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। ১৯৮১ সালের ২১ আগস্ট সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও তারা ব্যাংকে একবারের জন্যেও যোগাযোগ করেননি। ব্যাংক থেকে অসংখ্য চিঠি দেওয়া হলেও এর কোনোটির উত্তর তারা দেননি। ১৯৮৮ সালের ৭ ডিসেম্বর এক নম্বর আসামি এ এইচ খান ব্যাংক বরাবর একটি চিঠি লিখে তার এসওডি ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত গুলশানের চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর বাড়ির পরিবর্তে ২৮/১ নম্বর নয়াপল্টনের পাঁচতলা বাড়িসহ ৬.১৮ শতাংশ জমি সিকিউরিটি হিসেবে জমা রাখার আবেদন করেন, যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালের ১৬ আগস্ট ওই সম্পত্তি ব্যাংকের কাছে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলমূলে বন্ধক রাখা হয়।

প্রতি মাসে সোয়া ৩ লাখ টাকা করে এক বছরের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করার জন্য তারা চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু ঋণগ্রহীতারা তা পরিশোধ করেননি। বরং উচ্চ আদালতে দুবার রিট করে মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত করান। সে পাওনা এখন প্রায় ১৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী খেলাপি ঋণ উদ্ধারের জন্য অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে বন্ধক রাখা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়। সে নিয়মে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর গুলশানের বাসভবন এবং নয়াপল্টনের পাঁচতলা ভবনটি বিক্রি করে পাওনা আদায় করবে।

বিষয়টি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিএনপির কার্যালয় নিলাম হতে পারে বলে গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে, সেটি সঠিক নয়। নিউজটিই ভিত্তিহীন। কারণ তানভীর যে দলিলটি বন্ধক দিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে সেটি মূলত সাইফি গ্লাস হাউজের ফটোকপি দলিল, যার কাছ থেকে বিএনপি ওই সম্পত্তি জিয়া চ্যারিটেবলের নামে কেনে। সেটি বিএনপি কার্যালয়ের নামে কেনা দলিল নয়।’

সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সম্পত্তিটি কেনার পর তখন দলিল হয় নাই। ৮২-তে এরশাদ (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এর দখল হারায়। তখন এরশাদের ক্ষমতাবলে রাজিয়া নামের এক নারী এটি দখলে নিয়ে নেন। কিন্তু তিনি এই সম্পত্তির মালিক নন। এটা কোর্টের মাধ্যমে ৯২ সালে আবার আমরা দখল ফেরত পাই। ৯৬ সালে এটি জিয়া চ্যারিটেবলের নামে দলিল হয়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘পার্টি অফিসের এখন যে ভবন, তার নিচতলায় ওই সময়ে সাইফি গ্লাস হাউস ছিল, তারাই ছিল মালিক। সেখান থেকে বিএনপি কিনেছে। ওই সাইফি গ্লাস হাউজের নামেই ব্যাংক থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে এ এইচ খান মর্গেজ দিয়েছিলেন তানভীরের গুলশানের জমিদার বাড়ি। তানভীর ছিলেন থার্ড পার্টি গ্যারান্টার। এর মূল দলিল আবার তানভীর যে কোনোভাবে নিয়ে নিয়েছে।’

বিএনপি কার্যালয় নিলামের কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই মামলা পেন্ডিং আছে। আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। কাজেই এটা কেউ নিলাম করতে পারবে না। যেহেতু বিএনপি বিপদে আছে তাই কীভাবে আরো ফাঁসানো যায় এজন্য এটি করা হয়েছে।’

এই প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ব্যাংকঋণের এই বিষয়টি এত দীর্ঘ সময়ে গোপন থাকা সাংঘাতিক বিপজ্জনক একটি বিষয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কেউই কিছু জানে না। বিএনপিকে নিঃশেষ করার একটি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পুরোনো এই বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে। কারণ এর আগেই গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তবে এটি নিয়ে বিএনপি অবাক হলেও কিছু মনে করছে না। কারণ বিএনপি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে। ’

তবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দলিল বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির দুই নীতিনির্ধারক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। এই পুরো বিষয়টিই তাদের কাছে অজানা জানিয়ে রাইজিংবিডিকে তারা বলেন, ‘কেউ যদি এটা করে থাকে, তবে এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু পার্টি অফিসের দলিল বন্ধক রাখতে পারে না।’

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পার্টি অফিস নিলামে তোলার মতো কোনো বিষয় এটি নয়। গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে, কার্যালয় নিলামে তোলা হবে। তবে যাই হোক না কেন সবকিছু বিস্তারিত জেনে এই বিষয়ে কথা বলব।’

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/রেজা/সাইফুল/এএন

Walton
 
   
Marcel