ঢাকা, সোমবার, ৯ মাঘ ১৪২৪, ২২ জানুয়ারি ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন দেখছে না আ.লীগ’

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৩ ৫:৫৯:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-১৪ ৯:২৪:৫৮ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রয়োজন দেখছে না আওয়ামী লীগ।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলেনে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে সংলাপের কোনো প্রয়োজন আমরা দেখছি না। সেরকম যদি কোনো সংকট সামনের দিনগুলোতে দেখা যায়, তাহলে পরিস্থিতি বলে দেবে তখন কী করতে হবে। সংলাপের পরিবেশটা তো বিএনপিই রাখেনি।

সংবাদ সম্মলেনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ, আবদুস সোবহান গোলাপ, সুজিত রায় নন্দী, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, দেলোয়ার হোসেন, বিপ্লব বড়ুয়া, এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাব দিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের চার বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে সাধারণ মানুষ খুশি হয়েছেন। কিন্তু বিএনপি হতাশ হয়েছে।  

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান যে পথরেখা দেখিয়েছে, সেই পথ বাদ দিয়ে আবার সংলাপ করতে হবে কেন? সংবিধানেই তো আছে। নির্বাচন বিএনপির এজেন্ডা। নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিএনপির অধিকার, সুযোগ নয়। সরকার কি দয়া-দাক্ষিণ্য নিয়ে বসে আছে? দয়া করবে? তাদেরকে আর একবার সাধতে হবে কেন? এটা তাদের সুযোগ নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা নির্বাচনে আসবে, সরকারের দয়ায় নয়। এটা তাদের বুঝতে হবে। এরপরও নির্বাচন করতে যদি করতে যদি কোনো অসুবিধা থাকত, যদি একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন না থাকত, আমাদের সবকিছুই তো ঠিক আছে। কাজেই এখানে বসাবসির কী প্রয়োজন? কোনো জটিলতা আছে বলে তো কেউ মনে করে না।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। দুনিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো এখানে নির্বাচন হবে। তখন সরকার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, ইনক্লুসিভ নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এটাই  নিয়ম, এটাই সংবিধান। যখন সংবিধানে পথরেখা নির্দিষ্ট, নতুন করে কেন সংলাপ? বিএনপির সঙ্গে কেন সংলাপ হবে? এখন আমরা সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।

গত নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন আলাপের প্রসঙ্গ তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেদিন তিনি কি নোংরা ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোনে জবাব দিয়েছিলেন। সেটা  কি এ দেশের মানুষ ভুলে গেছে? সমঝোতা হবে কার সাথে? আগুন-তাণ্ডবের সাথে? যারা প্রধানমন্ত্রীকে তাদের নিজের বাড়িতে অপমান করল সন্তানের লাশ সামনে রেখে, তাদের সাথে? নির্বাচন হবে নিয়ম অনুযায়ী। নির্বাচন কুমিল্লায় হয়েছে, রংপুরে হয়েছে, সামনে ঢাকা সিটিতেও হবে। তারা আসবেন। আরেকবার সাধিলে খাইব, এটা কি সমঝোতা? এটা তাদের অধিকার, এটা তাদের সুযোগ নয়। ক্রাইসিস পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, তারা যা করবেন, যা করতে চান, সেরকম পরিস্থিতি তারা জনগণ দিয়ে করতে পারবেন না। জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করার সক্ষমতা, সামর্থ তাদের নেই। বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনার সততা, পরিশ্রম, কর্মনিষ্ঠা ও উন্নয়ন-অর্জনে খুব খুশি। জনগণ আন্দোলনে আসবে না। তারা করতে চাইবে  ওই আগের বারের মতো আগুন-সন্ত্রাস।

আন্দোলন কি আগুন-সন্ত্রাস? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সেটা যদি এবার করে, জনগণই সেটা প্রতিরোধ করবে।  এটার জন্য সংলাপের প্রয়োজন হবে না, মাঠেই সংলাপ হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি রাজনীতিক দল হিসেবে চিরদিন সংলাপের দরজা বন্ধ করতে পারি না। সংলাপ হতে পারে, তবে কার সাথে বসব, এটার বিষয় আছে। সংলাপ বিএনপির সাথে করতে হবে? কী কারণে,  কোন কারণে?

এর আগে শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ জানুয়ারি ২০১৮/নৃপেন/রফিক

Walton
 
   
Marcel