ঢাকা, বুধবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৩ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

আ.লীগ ভারতে দেনদরবার করতে গিয়েছিল কি না-প্রশ্ন বিএনপির

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৬ ১২:৪৮:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৬ ৪:৪২:৪৬ পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : ক্ষমতায় টিকে থাকতে আওয়ামী লীগ নেতারা ভারত সফরে গিয়েছিল কি না-তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বদলবলে ভারতে গিয়েছিলেন কি ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেনদরবার করতে? বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার জেনে গেছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০/২২ টির বেশী আসন পাবে না। তাই এক তরফা নির্বাচনের পক্ষে নাক গলাতে তারা দৌঁড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে।’

‘দেশকে গণতন্ত্রহীণ করে আওয়ামী সরকার সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে গোটা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে। হানিফ সাহেবের বক্তব্যে জাতির সামনে ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে আসলো, গণতন্ত্র বিধ্বংসী আওয়ামী লীগের পকিল্পনার বহিঃপ্রকাশ ঘটলো। কিন্তু জনগণ এবার আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না’, বলেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে। ২০১৮ সাল নয়, ২০২৪ সালে নয়, ২০২৯ সালের পরে তাদের ক্ষমতায় আসার জন্য ভাবনা করতে হবে।’

‘আওয়ামী লীগ নেতার এই বক্তব্য স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারেরই যথার্থ প্রতিধ্বনি। এই বক্তব্যে গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে বাকশাল পুরোদমে চালু রাখার ইঙ্গিতবাহী। তারা যে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তার বক্তব্য সেটিরই বহিঃপ্রকাশ।’

রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বেআইনি কারাবাসে আটকে রেখে তাকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তার অসুস্থতা তীব্র থেকে তীব্রতর করার এক ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের যে অংশ, তা হানিফ সাহেবের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে মানুষের উদ্বিগ্ন মনকে অন্যদিকে নিবদ্ধ করার জন্যই সরকারের নানা কারসাজির মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্ভট, ভুয়া ও হাস্যকর প্রশ্ন তোলা আরেকটি কারসাজি।’

তারেক রহমানের পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সবার কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমি পরিষ্কার ভাষায় আবারো বলতে চাই-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে শত শত দেশের নাগরিকরা যেভাবে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম নিয়ে অবস্থান করেন সেভাবেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্টে পলিটিক্যাল এসাইমেন্টের জন্য তার পাসপোর্টটি জমা দিয়েছেন, সারেন্ডার করেননি।’

এ সময় সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাই-আপনি কীভাবে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন? রাজনৈতিক আশ্রয়ে কীভাবে ছিলেন? আপনার ছোট বোন শেখ রেহানা কীভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করেছিলেন? গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখতে পেলাম। জাতির সামনে এর জবাব দেবেন কী?’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ এপ্রিল ২০১৮/রেজা/ইভা

Walton Laptop
 
   
Walton AC