ঢাকা, শুক্রবার, ৬ শ্রাবণ ১৪২৪, ২১ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কাজীপুরে মরিচের বাম্পার ফলন

অদিত্য রাসেল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-০২ ৪:৪৩:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-১৪ ৩:৫৫:৪৩ পিএম

অদিত্য রাসেল, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার যমুনা নদীর চর জুড়ে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।

বাম্পার ফলনের সঙ্গে চলতি মৌসুমে মরিচের দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি। এবার ১৩০ কোটি টাকার মরিচ কেনাবেচা হবে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। এক সময় যমুনা নদী চরাঞ্চলবাসীর সব কিছু কেড়ে নিলেও জেগে ওঠা চরে মরিচের আবাদ করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা।

যমুনা নদী বেষ্টিত কাজীপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে এখন মরিচ আর মরিচ। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ভালো ফলন হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।



নাটুয়াপাড়া চর ঘুরে দেখা গেছে, কাঁধে, মাথায় বা ঘোড়ার গাড়িতে করে মরিচ আনছেন কৃষকরা। প্রতি শনি ও বুধবার নাটুয়াপাড়া চরে বসে বিশাল মরিচের হাট। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত পাইকার আসেন এ হাটে। এ ছাড়া ধান ও চাল ব্যবসায়ীরাও বিপুল পরিমাণ মরিচ কিনে চাতালে রেখে দিচ্ছেন। বাজার দরের কোনো পরিবর্তন না হলে এবার চরে ১৩০ কোটি টাকার মরিচ বেচাকেনা হবে।

নাটুয়াপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, মনসুর নগর, মাইজবাড়ী, শুভগাছা এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা এখন মরিচ শুকানো কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যারা মরিচ শুকাতে পারছেন না, তারা গাছে পাকা মরিচ (টোপা মরিচ) তুলেই বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। পৌনে চার কেজি টোপা মরিচ শুকানোর পর তা এক কেজি শুকনো মরিচ হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে শুকানো মরিচের দর প্রতিমণ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।

হাটে আসা ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি মরিচ কেনার জন্য আগে থেকে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অগ্রিম টাকাও দেন। পরে বাজারে যে দাম ওঠে, সেই দরে মরিচ ক্রয় করে ঢাকার বিভিন্ন কোম্পানির কাছে ভালো দামে বিক্রি করেন। প্রতি বছর তিনি এভাবে ব্যবসা করছেন।



কৃষক আব্দুল বাছেদ বলেন, মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও ভালো। তবে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ধানের মতো সরকারিভাবে মরিচ ক্রয় করলে কৃষকরা আরো লাভবান হবে।

কাজীপুর উপজেলার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বকুল বলেন, অপার সম্ভবনা এ চলাঞ্চল শুধু মরিচের জন্য নয়, অন্য যে কোনো ফসলের জন্য আদর্শ ভূমি। তবে সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না।

কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় মোট ১৪১০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। সেই হিসেবে আশা করা হচ্ছে, এবার ২৩৯৭ মেট্রিক টন শুকানো মরিচ উৎপাদন হবে। গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা মণ ধরলে এবার কাজীপুর চরে মরিচ বিক্রি হবে ১৩০ কোটি টাকার উপরে।



রাইজিংবিডি/সিরাজগঞ্জ/২ এপ্রিল ২০১৭/অদিত্য রাসেল/বকুল

Walton Laptop