ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ফরিদপুরে পেঁয়াজদানা উৎপাদনে বিপ্লব

মো. মনিরুল ইসলাম টিটো : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-০৫ ৫:০৮:০৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-১৪ ৩:৪৯:১৯ পিএম
সদর উপজেলার অম্বিকাপুরের একটি পেঁয়াজ বীজের খেত

মো. মনিরুল ইসলাম টিটো, ফরিদপুর : অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছরও ফরিদপুরে বাম্পার ফলন হয়েছে পেঁয়াজদানার। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের প্রত্যাশা স্বাচ্ছন্দে ঘরে তুলতে পারলে হাজার কোটি টাকার পেঁয়াজদানা উৎপাদন করতে পারবেন তারা।

ফরিদপুরের সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ও ভাষাণচরসহ বিভিন্ন মাঠজুড়ে আবাদ হচ্ছে পেঁয়াজ বীজের। ধান-পাটসহ অন্যান্য ফসল কম লাভ হওয়ায় এবং পেঁয়াজদানা আবাদ অধিক লাভজনকের কারণে এখন পেঁয়াজদানা আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এতে প্রতিবছরই বাড়ছে পেঁয়াজের আবাদ।

অম্বিকাপুর মাঠের পেঁয়াজদানা আবাদকারী মো. আকতার হোসেন ও ভাষাণচর মাঠের দানা আবাদকারী আবু সাঈদ চৌধুরী বারী জানান, স্থানীয়ভাবে প্রচুর পেঁয়াজদানা উৎপাদিত হলেও কোনো হিমাগার না থাকায় ঝুঁকিতে থাকেন তারা। এমনকি সংরক্ষণ করতে না পারায় স্বল্পমূল্যে দানা বিক্রি করতে বাধ্য হন। কৃষকদের দাবি এ বীজ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করলে আরো বেশি লাভবান হবেন কৃষকরা।



কয়েকজন পেঁয়াজদানা আবাদকারী জানান, দানা আবাদ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক চাষি এনজিও এবং মহাজনের কাছ থেকে ঋণ করে চাষাবাদ করে থাকেন। এতে অধিক হারে সুদ পরিশোধ করে খুব বেশি লাভবান হতে পারেন না বলে দাবি কৃষকদের। তাদের মতে সহজশর্তে এবং বারোমাসি মেয়াদে ঋণ প্রদান করা সম্ভব হলে এ পেঁয়াজদানা আবাদে বিপ্লব ঘটাতে পারেন তারা।

সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল বাশার মিয়া জানান, কৃষকদের দানা আবাদের ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। প্রদান করা হয় কৃষি উপকরণও।

তিনি জানান, ফরিদপুরের উৎপাদিত দানা মানসম্পন্ন হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে এ দানার বেশ চাহিদাও রয়েছে। এ বছর ফরিদপুরে এক হাজার কোটি টাকার পেঁয়াজদানা উৎপাদিত হবে।

পেঁয়াজদানা আবাদকারীদের সহজশর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ফরিদপুরে ‘কালো সোনা’ খ্যাত পেঁয়াজদানা ব্যাপক হারে উৎপাদন হওয়ায় জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্যের তালিকাভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফরিদপুরে এ বছর ২৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজদানা আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে ১৮৫২ মেট্রিক টন দানা উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার বাজার মূল্য এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। 



রাইজিংবিডি/ফরিদপুর/৫ এপ্রিল ২০১৭/মো. মনিরুল ইসলাম টিটো/রিশিত

Walton Laptop