ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

খরগোশ চাষে স্বাবলম্বী কালাপানি গ্রামবাসী

ইকবাল হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১৬ ৫:৪৭:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-১৭ ৯:৩১:৪৪ পিএম

ইকবাল হাসান, নেত্রকোনা : খরগোশ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নেত্রকোনার কলমাকান্দার কালাপানি গ্রামবাসী। একসময় দারিদ্রপীড়িত পাহাড়াঞ্চলে মানুষের ভাগ্য বদলেছে খরগোশ পালনে। ছেলেমেয়েদের পড়াশুনাসহ সংসারের খরচ চালিয়েও এখন স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন ওই গ্রামের মানুষ। সরকারি সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে খরগোশ পালন করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এলাকাবাসী।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের ভারত লাগোয়া সীমান্তবর্তী গ্রাম কালাপানি। মেঘালয় ঘেষা এ গ্রামে প্রত্যেক বাড়িতেই এখন খরগোশ চাষ করা হচ্ছে। দুই বছর আগে ওয়ার্ল্ডভিশনের সহযোগিতায় গ্রামের মোট ৩২টি বাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় খরগোশ চাষ। এরপর কাজটি লাভজনক হওয়ায় আর পেছন ফিরে তাকায়নি দারিদ্রপীড়িত সীমান্তের কর্মহীন এই মানুষগুলো।

জানা গেছে, একটি প্রাপ্তবয়স্ক খরগোশ প্রতি মাসে কয়েকটি বাচ্চা দেয়। পালন করতে তেমন কোনো খরচ হয় না। গাছের সবুজপাতা ও শাকসবজি খায় খরগোশ। লাভজনক হওয়ায় গ্রামবাসী খরগোশ চাষে উৎসাহিত হয়। গ্রামের মানুষ অনেকেই এখন খরগোশ চাষ করে। লাভজনক কাজে পরিণত হয় গ্রামবাসীর খরগোশ পালন। আর পরিণত একেকটি খরগোশ বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে। খোরগোশের ছোট্ট বাচ্চা বিক্রি হয় প্রতি জোড়া ৮০০ টাকা করে।

কালাপানি গ্রামের খরগোশ চাষ করে স্বাবলম্বী নারী পারুল রিচিং বলেন, একসময় ছিল তিন বেলা খাইতে পারতাম না। এখন আর সে অবস্থা নেই। খরগোশ পাইলা অনেক লাভ হইছে। এখন তিন বেলা খাইতে পারি, কোনো অসুবিধা হয় না। আমাদের গ্রামে এখন আর অভাব নেই। ছেলেমেয়েদের পড়াশুনাসহ সংসারের খরচ চলে।

 


গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা স্টিফেন নকরেক জানান, কয়েক বছরের ব্যবধানে পুরো গ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে খরগোশ চাষ। আর খরগোশ চাষ করে ভাগ্য বদলেছে গ্রামের অনেকের। তবে দুর্গম সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় চিকিৎসাসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ভালভাবে খরগোশ লালন-পালন করতে পারছে না কেউ কেউ। বর্ষাকালে কিছুটা অসুবিধে হয়। তখন অনেক খরগোশের বাচ্চা মারা যায়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি তিনি নিয়মিত পশু চিকিৎসক পাঠিয়ে লাভজনক এ কাজকে সহযোগিতা করার দাবি জানান।

কলমাকান্দার লেংগুরা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, দুবছর আগে ওয়ার্ল্ডভিশন এ গ্রামের লোকদের  সহযোগিতা করেছিল। বর্তমানে আর কেউ তাদের সহযোগিতা করছে না। ফলে খরগোশ পালনে নানা রকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনভিজ্ঞ এসব লোকদের তদারকি করলে লাভজনক এ কাজে এলাকার দরিদ্রতা দূর হবে।

নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শংকর কুমার বসাক জানান, শুরুতে কালাপানি গ্রামের লোকদের খোরগোশ পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তের এ গ্রামে নিয়মিত পশু চিকিৎসক পাঠিয়ে খরগোশ পালনে সহযোগিতা করা হবে।

 

 

রাইজিংবিডি/নেত্রকোনা/১৬ এপ্রিল ২০১৭/ইকবাল হাসান/রিশিত

Walton Laptop