ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:
তিব্বতের স্বাধীনতার দাবি ত্যাগ করলেন দালাই লামা        সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলনে হচ্ছে ‘ভাষানীতি’        ‘রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন মানবতাবিরোধী অপরাধ’        কেরানীগঞ্জে ৩০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে যুক্তরাষ্ট্র        ‘গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে সেনাবাহিনী অবদান রাখবে’        মির্জা ফখরুলের দুই মামলা হাইকোর্টে স্থগিত        রোহিঙ্গা ফেরতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর        ২ কোটি টাকার বেশি থাকলে দিতে হবে সারচার্জ        মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের        মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় চীন       

চুয়াডাঙ্গার মাটিতে বিদেশি ফল ‘মাস্ক মেলন’

এম এ মামুন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১১ ৯:৪১:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৭ ৪:০১:০৫ পিএম

এম এ মামুন, চুয়াডাঙ্গা : দেশে প্রতি বছর ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার গ্রীষ্মকালীন ‘মাস্ক মেলন’ ফল আমদানি করা হয়। যার পুরোটাই আসে তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এবং ভারত থেকে।

কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে এ ফলের উৎপাদন হচ্ছে। ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার আমদানিনির্ভর বাজারে কিছুটা হলেও যোগান দিতে সক্ষম হয়েছে চুয়াডাঙ্গার সবজিগ্রাম খ্যাত গাড়াবাড়িয়ার ‘এগ্রি কনসার্ন ফার্মের’ উৎপাদিত ‘মাস্ক মেলন’। এটিকে সুইট মাস্ক মেলন বা ক্যান্টালুপ ও বলা হয়।

সারা দেশের মধ্যে একমাত্র চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে ১২ বিঘা জমিতে ‘সুইট মাস্ক মেলন’ ফলের আবাদ হয়েছে। আগামী দিনে অন্য অর্থকরী ফসলের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল নতুন এই ফল চাষ ও উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। ‘এগ্রি কনসার্ন ফার্ম’ কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দেশে এর উৎপাদন বাড়লে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়েও রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।



চুয়াডাঙ্গার এগ্রি কনসার্ন ফার্মের দায়িত্বপ্রাপ্ত এরিয়া ম্যানেজার খায়রুল ইসলাম জানান, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক বন্ধু ড. শেখ আব্দুল কাদেরের কৃষি গবেষণাধর্মী ‘এগ্রি কনসার্ন’ ফার্মের আওতায় গত সাত বছর ধরে গবেষণার পর এই ফল চাষে সাফল্য পেয়েছে।

গত ২০১৪ সাল থেকে এর উৎপাদন শুরু করা হয়। ফার্ম কর্তৃপক্ষ চলতি বছরে ১২ বিঘা জমিতে এর আবাদ করেছে। মার্চ মাস থেকে এর চারা দেওয়াসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষে এপ্রিলে চারা রোপণ করলে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। প্রতিবিঘায় খরচ হয় ৬০-৬৫ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি উৎপাদন হয় আড়াই থেকে তিন মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। কর্তৃপক্ষ চলতি বছরে আশানুরূপ সাফল্যও পেয়েছে।  

খায়রুল ইসলাম জানান, গ্রীষ্মকালীন এই ফলের চাহিদা রয়েছে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, রাজশাহী ও খুলনাসহ দেশের আর্ন্তজাতিক মানের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বড় বড় ফাস্ট ফুডের দোকানে।



এ ফলের সঙ্গে অল্প দুধ, চিনি ও বরফ মিশিয়ে এক গ্লাস মিক্সড ফ্রুটস জুস বিক্রি করা হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। এর ক্রেতা সাধারণত বিদেশি  পর্যটক, বায়ার, দেশের উচ্চবিত্ত ঘরের সদস্যরা। রাজধানীর চেইন শপ, ফলের দোকান থেকেও সাধারণ মানুষ ‘সুইট মাস্ক মেলন’ ক্রয় করে থাকেন। এর স্থানীয় বাজার মূল্যও ভালো।

এই ফল কেজি প্রতি ৮শ’ থেকে ৯শ’ বা  ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হয়। আগামীতে এই ফলের চাষ বৃদ্ধি করতে কর্তৃপক্ষ কৃষকদের মধ্যে এর বীজ অবমুক্ত করবে বলে জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, দেশে এর উৎপাদন বাড়াতে পারলে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ তালহা জুবাইর মাশরুর বলেন, মাস্ক মেলন ফলটি দেশে নতুন। এটার বাজার দেশে এবং বিদেশে রয়েছে। যেহেতু এটা একটা উচ্চ ফলনশীল ফল, এটা চাষ করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।



রাইজিংবিডি/চুয়াডাঙ্গা/১১ জুলাই ২০১৭/এম এ মামুন/বকুল

Walton
 
   
Marcel