ঢাকা, রবিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ২২ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

স্ট্রেসের যে ৮ উপসর্গ আপনাকে অসুস্থ করছে

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-২১ ১১:৩৯:৪১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-২১ ১১:৩৯:৪১ এএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জরিপ থেকে জানা যায়, আমেরিকার অধিবাসীরা পূর্বের তুলনায় বর্তমানে বেশি স্ট্রেস বা মানসিক চাপে ভুগছেন এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক বলেন যে, স্ট্রেস তাদের শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

আপনার যদি নিচের উপসর্গগুলোর যেকোনো একটি থাকে, তাহলে স্ট্রেস আপনাকে অসুস্থ করে তুলছে।

১. আমবাত ওঠে
আপনার ত্বকে যদি হঠাৎ চুলকানিমূলক লাল চাকা বা লাল দাগ বা আমবাত ওঠে, তাহলে এর জন্য স্ট্রেস (অ্যালার্জি নয়) দায়ী হতে পারে। যখন আপনার শরীর অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কবলে পড়বে তখন ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরোধ তন্ত্র দুর্বল হয়ে যাবে এবং অসুস্থতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম প্রতিহত করতে শরীরে হিস্টামিন কেমিক্যাল নির্গত হবে। স্ট্রেস দূর না হলে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে এবং প্রচুর পরিমাণে আমবাত ওঠবে। স্ট্রেসের কারণে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে গেলে আপনার ত্বক বিভিন্ন কিছুর (যেমন- সাবান, লোশন, লন্ড্রি ডিটারজেন্ট, ঠান্ডা এবং গরম) স্পর্শে জ্বালাতন করতে পারে।

২. ওজন বাড়ে কিংবা কমে
নিউ ইয়র্ক সিটির মাউন্ট সিনাইয়ে অবস্থিত আইচ্যান স্কুল অব মেডিসিনের ওষুধের উপদেষ্টা এবং এমডি শান্না লেভিন বলেন, ‘স্ট্রেস করটিসল হরমোন নিঃসরণে ভূমিকা রাখে, যা রক্ত শর্করা প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে আপনার শরীরের সামর্থ্যকে খর্ব করবে এবং ফ্যাট, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট বিপাকে পরিবর্তন ঘটায়, যার ফলে ওজন বাড়তে পারে কিংবা কমতে পারে।’ স্ট্রেস মানুষকে স্বাস্থ্যহানিকর স্বভাবে নিয়োজিত রাখে, যেমন- অতিভোজন বা নিম্নভোজন।

৩. মাথাব্যথা হয়
আপনি কখনো মাথাব্যথায় না ভোগে থাকলেও অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে হঠাৎ মাথাব্যথা হতে পারে এবং তা অবিরত চলতে পারে। স্ট্রেস কেমিক্যাল নির্গত করে যা ব্রেইনের স্নায়ু এবং রক্তনালীতে পরিবর্তন এনে মাথাব্যথার উদ্রেক করে। স্ট্রেস মাইগ্রেনকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বা আরো খারাপ অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে। স্ট্রেসে থাকলে মাংসপেশী সংকুচিত হয়, যার ফলে মাথাব্যথা হয়ে থাকে।

৪. পাকস্থলীর কার্যক্রম ব্যাহত হয়
স্ট্রেস একাধিক উপায়ে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট বা ডাইজেস্টিভ ট্র্যাক বা পাচন এলাকার কার্যক্রম ব্যাহত করে। স্ট্রেসের কারণে শরীরে বেশি করে ডাইজেস্টিভ অ্যাসিড বা পাচন অ্যাসিড উৎপাদন হয়, এর ফলে বুকজ্বালা হয়। মায়ো ক্লিনিকের ইন্টারনাল মেডিসিন ফিজিশিয়ান এবং এমডি ডেবোরা রোডস বলেন, স্ট্রেস পাকস্থলী থেকে ধীরে খাদ্য খালি করে, এ কারণে পেটে গ্যাস জমে ও পেট ফাঁপা হয় এবং কোলন বা মলাশয় সংকোচন ঘটিয়ে ক্র্যাম্পিং ও ডায়রিয়ার দিকে ধাবিত করে।

৫. সবসময় ঠান্ডা লাগে
স্ট্রেস ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে, যার ফলে আপনি সহজেই অসুস্থ হয়ে যাবেন এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হবে। ড. লেভিন বলেন, ‘যখন লোকজন স্ট্রেস বা মানসিক চাপে থাকে, তারা অসুস্থ হয়ে যায়। তাদের ঠান্ডা লাগতে পারে বা ঠান্ডা ফোস্কা ওঠতে পারে, যা ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসকে দমন করতে না পারার ফলে হয়ে থাকে।’ পিটসবার্গে অবস্থিত কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা স্বেচ্ছাকর্মীদের কোল্ড ভাইরাস বা ঠান্ডা ভাইরাস সংক্রমিত করেন, তাদের মধ্যে যারা স্ট্রেসে ভুগতেন তাদের ঠান্ডা অসুস্থতা একটু আধটু স্ট্রেসে ভোগাদের তুলনায় দ্বিগুণ ছিল।

৬. ব্রণ ওঠে
টিনেজ সময়টাতে হয়তো আপনার ব্রণ ছিল, এখন নেই। কিন্তু হঠাৎ আপনার মুখমণ্ডলে ব্রণের জগাখিচুড়ি অবস্থা হতে পারে, যা সম্ভবত স্ট্রেসের কারণে ওঠতে পারে। স্ট্রেসে থাকলে শরীরে বেশি পরিমাণে করটিসল হরমোন উৎপন্ন হয়, যা ত্বকের গ্ল্যান্ডে প্রচুর তৈল উৎপাদনের কারণ। এই অতিরিক্ত তৈল নোংরা এবং মৃত ত্বক কোষসহ লোমের গ্রন্থিকোষের ভেতর আটকা পড়ে, এ কারণে ব্রণ সৃষ্টি হয়।

৭. মস্তিষ্ক ঝাপসা বা কুয়াশাচ্ছন্ন হয়
স্ট্রেস আপনাকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলবে। ড. লেভিন বলেন, অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোন বা করটিসল হরমোন মনোযোগ সমস্যা, স্মৃতি সমস্যা, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতায় ভোগায়।

৮. চুল পড়ে যায়
প্রতিদিন কিছু চুল বা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি চুল পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক, কারণ পুরোনো চুলের গ্রন্থিকোষের জায়গা নতুন চুলের গ্রন্থিকোষ দখল করে। কিন্তু স্ট্রেস এই চক্রকে ব্যাহত করতে পারে। মায়ো ক্লিনিক ডট ওআরজির মতে, ‘উল্লেখযোগ্য স্ট্রেস রেস্টিং ফেজে প্রচুর পরিমাণে চুলের গ্রন্থিকোষ নিয়ে আসে এবং কয়েকমাস পর এসব চুল ঝরে পড়ে।’ স্ট্রেস শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে চুলের গ্রন্থিকোষকে আক্রমণে প্রভাবিত করে অতিরিক্ত পরিমাণে চুল ঝরাতে পারে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel