ঢাকা, শনিবার, ৬ কার্তিক ১৪২৪, ২১ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

গরম পানি পানের বিস্ময়কর ৭ উপকারিতা

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৫ ৯:০৫:১০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-০৫ ১:৪৯:২৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : আপনি হয়তো গরম পানি ও লেবুর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে থাকবেন। কিন্তু শুধু গরম পানি পানের উপকারিতা সম্পর্কে অবগত আছেন কি?

প্রাচীন চৈনিক পথ্য ব্যবস্থা এবং ভারতীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী, দিনের শুরুতে এক গ্লাস গরম পানি পান আপনার পরিপাক প্রক্রিয়াকে সচল রাখবে এবং স্বাস্থ্যের নানারকম উপকার সাধন করবে।

তার মানে এই নয় যে, পানি যত বেশি গরম, তত বেশি উপকারিতা। গরম পানির তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করা উচিত নয়। মুখ ও গলার এপিথেলিয়াল কোষের ক্ষতি এড়াতে গরম পানির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হবে ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

১. ওজন কমাতে সাহায্য করে
শুধু গরম পানি পান ওজন কমায় না, কিন্তু ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। পুষ্টিবিজ্ঞানী ও রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান কারা ওয়ালশ বলেন, বিপাক প্রক্রিয়াকে অধিকতর কার্যকরী করতে গরম পানি ও লেবু দিয়ে সকাল আরম্ভ করুন, যা সারাদিন আপনার শরীরকে বেশি করে ক্যালরি পোড়াতে সামর্থ্য যোগাবে। তিনি যোগ করেন, শরীরের স্ফীতি প্রতিরোধ করতে গরম পানি অন্ত্রকে খালিও করে, এভাবে আপনি অতিরিক্ত যে ওজন বহন করছেন তা দূর হয়।


২. সাইনাস সমস্যা দূর করে
অনেকেই শ্বাসরোধী নাকের চিকিৎসায় ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে। আপনিও এ দলে থাকলে, চেষ্টা হিসেবে গরম পানি পান করে দেখতে পারেন। মাস্টার অব সার্জারি এবং মেডিক্যাল ডাক্তার নেসোশি ওকিকি-ইগবোকি বলেন, গরম পানি রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা শ্বাসপ্রশ্বাস অঞ্চলের সংক্রমণের কিছু উপসর্গ উপশম করতে পারে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রমাণ হয় যে, ঠান্ডা পানির চেয়ে গরম পানি পানে নাকের কনজেশন বা নাক বন্ধ সমস্যায় দ্রুত উপকার পাওয়া যায়, কারণ উচ্চ তাপমাত্রা মিউকাস চলাচলের গতিকে বৃদ্ধি করে। ড. ওকিকি-ইগবোকির মতে, আমরা তরলের মাধ্যমে তাপমাত্রা গ্রহণ করে কিছু উচ্চতর শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সংক্রমণের উপসর্গ যেভাবে সামলাতে চাই তাতে তারতম্য হতে পারে।

৩. দাঁতের উপকার করে
ঠান্ডা পানির বদলে গরম পানি পান করলে দাঁতের উপকার হতে পারে। মেডিক্যাল ডাক্তার এবং ডেন্টাল সার্জারির ডাক্তার স্যান্ডা মোলডোভানের মতে, দাঁত ও দাঁতের স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধারে গরম পানি অধিকতর ভালো এবং গরম পানি সহজে শোষিত হয়। মোলডোভান ব্যাখ্যা করেন, কিছু হোয়াইট ফিলিং ম্যাটারিয়াল ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে দাঁত থেকে ফিলিং আলগা হয়ে পড়ে। আবার পানি যাতে অত্যধিক গরম না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। যেকোনো অত্যধিক তাপমাত্রা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই আপনার মুক্তোর মতো সাদা দাঁতকে ভালো রাখতে কক্ষের তাপমাত্রার সঙ্গে গরম পানির তাপমাত্রার সংগতি রেখে পান করতে পারেন।

৪. হজমকে সহজসাধ্য করে
গরম পানির ভ্যাসোডাইলেটর ইফেক্ট রয়েছে। এর মানে হল, গরম পানি রক্তনালীকে প্রশস্ত করে এবং রক্তপ্রবাহকে অন্ত্রের দিকে অগ্রসর হতে উদ্দীপিত করে, যা পরিপাক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিক্যাল ডাক্তার লুইজা পিটার বলেন, খালি পেটে গরম পানি পান পরিপাক প্রক্রিয়া থেকে অন্ত্র পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রক্তপ্রবাহকে ত্বরান্বিত করে। গরম পানির পরিপাক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা এখানেই শেষ নয়। এটির ত্বরিৎ হাইড্রেটিং ইফেক্টও রয়েছে। এ কারণে খাবার খেলে তাপমাত্রা চর্বিকে অতিক্ষুদ্র ফোঁটায় বিভক্ত করে চর্বিকে অধিক হজমসাধ্য করে।

৫. শরীরের টক্সিন বের হতে সাহায্য করে
গরম পানি পান শরীরের কোর টেম্পারেচার বা মূল তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়, ঘাম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে এবং এভাবে শরীর টক্সিন নিষ্কাশন করে। ড. লুইজা পিটার বলেন, নিয়মিত লেবুমিশ্রিত গরম পানি পান করলে, গরম পানি আমাদের আহারকৃত অ্যাসিডিক খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে। লেবুর প্রতি অনীহা থাকলে, গ্রিন টি পান করে দেখতে পারেন, যা ফ্রি রেডিক্যাল অ্যাকটিভিটি কমিয়ে দিতে পারে।

৬. সহজাত ব্যথা দূর করে
ঠান্ডা পানি পানে পেশি সংকুচিত হয়, কিন্তু গরম পানি পানে টিস্যুতে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং পেশি শিথিল হয়। ড.পিটার বলেন, গরম পানি সকল প্রকার ব্যথায় সাহায্য করতে পারে, যেমন- জয়েন্ট ব্যথা, মেন্সট্রুয়্যাল ক্র্যাম্প বা মাসিকের সময় ব্যথা। ঘুমুতে যাওয়ার পূর্বে গরম পানি পানের প্রশান্তিদায়ক প্রতিক্রিয়া আছে যা আপনাকে দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে সহায়তা করবে, আপনাকে পেট ভরা আছে প্রকৃতির অনুভূতি দেবে এবং মধ্যরাতে আপনার মধ্যে ক্ষুধা জাগ্রত করবে না।

৭. কোষ্ঠকাঠিন্য ঢিলা করে
অন্ত্র অতি সামান্য নড়াচড়া বা একেবারেই নড়াচড়া না করলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এবং প্রায়ক্ষেত্রে তা হয়ে থাকে শরীরে পানির অভাবে। আপনি যদি কোনো কিছু খাওয়ার পূর্বে গরম পানি পানের মাধ্যমে প্রতিদিন শুরু করেন, তাহলে আপনার অন্ত্রের নড়াচড়ার উন্নতি হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা কমে যাবে। ড. লুইজা পিটার বলেন, বর্ধিত তাপমাত্রা ইন্টেস্টাইনাল পেরিস্টালসিস বা অন্ত্রের পেশির অনৈচ্ছিক সংকোচন ও শিথিলকরণকে উদ্দীপিত করে এবং অন্ত্রের মন্থর নড়াচড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে। ভালো ফলাফল পেতে সারাদিনব্যাপী অল্প অল্প করে গরম পানি পান করতে পারেন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel