ঢাকা, রবিবার, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

৮ ধরনের মাথাব্যথা ও পরিত্রাণের উপায়

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২২ ১০:৫৫:০৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-১৮ ৫:০৪:৫৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : হেডেক অর্থাৎ মাথাব্যথা মানে শুধুমাত্র মাইগ্রেন নয়। মাথাব্যথার প্রকারভেদ রয়েছে। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বা বিষয় অনুসারে মাথাব্যথার নামকরণ করা হয়ে থাকে। কেন মাথাব্যথা হচ্ছে তার কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারলে এ ব্যথা উপশমের সর্ব্বোচ্চ চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।

১. মাথার একপাশে: মাইগ্রেন
যদি মাথাব্যথা আপনার মাথার একপাশে (মাথার বামপাশ অথবা ডানপাশ) অবস্থান করে এবং মাথায় ধকধকানি ও স্পন্দন অনুভূত হয়, তাহলে তা মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে। মাইগ্রেনে ভোগার এক ডজনেরও বেশি কারণ রয়েছে, পরিত্রাণ পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার মেডিক্যাল সেন্টারের স্নায়ুবিশারদ ডা. রাইসা ভিলানুয়েভা বলেন, মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্র হয় এবং কার্যক্রমে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এটি অন্যান্য উপসর্গের মাধ্যমেও প্রকাশ পেতে পারে (যেমন- লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সেনসিটিভিটি বা আলো ও শব্দ সংবেদনশীলতা)। যত দ্রুত সম্ভব মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং বিশ্রাম নিতে রাইসা ভিলানুয়েভা উপদেশ দেন। যদি এ ব্যথা বারবার আপনার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলে, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

২. মাথার চারদিক জুড়ে: টেনশন হেডেক
মানসিক চাপ বা বিষণ্নতাজনিত মাথাব্যথাকে টেনশন-টাইপ হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা বলা হয়। ভিলানুয়েভা বলেন, রোগীরা প্রায়সময় বলেন যে, এ ব্যথায় ভাইস বা আঁটসাট যন্ত্র মাথার চারদিকে চেপে আছে বলে মনে হয়। ওভার দ্য কাউন্টার পেইন রিলিভার, যেমন- এনএসএআইডি বা অ্যাসিটামিনোফেন, সেবনে এ ব্যথা অঙ্কুরে বিনষ্ট হতে পারে। দ্য জার্নাল অব হেডেক অ্যান্ড পেইনে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায়, শুধুমাত্র অ্যাসিটামিনোফেন বা প্ল্যাসেবো সেবনের পরিবর্তে অ্যাসপিরিন, অ্যাসিটামিনোফেন এবং ক্যাফেইনের সমাহারে তুলনামূলক দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, এ তিনটি ওষুধ একত্রে গ্রহণে এ ধরনের মাথাব্যথা দুই ঘণ্টা পর সেরে যায়।
 


৩. মুখমণ্ডলে: সাইনাস হেডেক
যদি আপনি চোখে এবং গালে চাপ অনুভব করেন, তাহলে তা সাইনাস হেডেকের লক্ষণ বলে ধরে নিতে পারেন। ভিলানুয়েভা উল্লেখ করেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাইনাস হেডেক খুব বিরল এবং প্রায়সময় তা আসলে মাইগ্রেন, যার কারণে মুখমণ্ডলে ব্যথা হতে পারে। আপনার যদি ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ধরা পড়ে এবং সাইনাস ইনফেকশনের অন্যান্য উপসর্গ, যেমন- দুর্বল বা রুগ্ন দাঁত, ঘ্রাণানুভূতির অভাব, থাকলে আপনার ডাক্তার আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক (ব্যাকটেরিয়াল উপসর্গের ক্ষেত্রে) প্রেসক্রাইব করতে পারেন অথবা ন্যাজাল ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে বা অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন।

৪. হঠাৎ মাথার যেকোনো অংশে: থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক
অন্ততপক্ষে ১৬টি লক্ষণ রয়েছে যাতে আপনার মাথাব্যথা অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে এবং তাদের মধ্যে থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক একটি হতে পারে। থান্ডারক্ল্যাপ হেডেকের ক্ষেত্রে মাথার ভেতর বজ্রাঘাত অনুভূত হয়। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশনের মতে, এ ব্যথা তীব্র হয়, কমপক্ষে পাঁচ মিনিট থাকে এবং আপনি হয়তো জানতেও পারবেন না কেন তা হচ্ছে। মাথাব্যথার প্রকারভেদের মধ্যে এ ধরনের মাথাব্যথা বিপদাশঙ্কার নির্দেশ করতে পারে। আপনার যদি এরকম মাথাব্যথা হয়, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন অথবা ইমার্জেন্সি রুমে যান। ব্রেইন অ্যানিউরিজম, স্ট্রোক অথবা ব্রেইন হেমোরেজের কারণে এ মাথাব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা সেবা নিন।

৫. চোখের পিছনে: ক্লাস্টার হেডেক
যদি আপনি অনুভব করেন যে চোখের পিছন থেকে কোনোকিছু আপনাকে খোঁচা দিচ্ছে, তাহলে তা ক্লাস্টার হেডেকের লক্ষণ হতে পারে। ভিলানুয়েভা বলেন, এই মাথাব্যথাকে সুইসাইড হেডেকও বলে, কারণ এতে ব্যথা খুব খুব তীব্র হয়। তিনি আরো বলেন, এটি প্রায়ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি প্রভাবিত করে এবং এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ, যেমন- ব্যথার সঙ্গে চোখে লালতা, আক্রান্ত চোখ থেকে পানি পড়া, আক্রান্ত পাশে রানি নোজ অথবা আক্রান্ত চোখের পাতা ঢলে পড়া, জড়িত থাকতে পারে। এটি হলে আপনার মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং আপনি জেগে উঠতে চাইবেন। ভিলানুয়েভা বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি নির্ণীত হওয়ার আগে লোকেরা অনেক বছর ধরে এতে ভুগে থাকে। এই মাথাব্যথার ক্ষেত্রে সঠিক ডায়াগনোসিস খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাইগ্রেনের চেয়ে এর চিকিৎসা ব্যবস্থা ভিন্ন। এটি থেকে মুক্তি পেতে আপনার ডাক্তার হাই-ফ্লো অক্সিজেন ট্রিটমেন্টের (ফেইস মাস্ক থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করা) পরামর্শ দিতে পারেন।
 


৬. মাথার উপরিভাগে বা মুখমণ্ডলের উপরিভাগে: অ্যালার্জি হেডেক
অ্যালার্জি হেডেক সাইনাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও তা ঋতুভিত্তিক হয়ে থাকে এবং অন্যান্য উপসর্গ, যেমন- রানি নোজ (ঠান্ডা বা অ্যালার্জির কারণে নাক থেকে তরল আসা), হাঁচি এবং ওয়াটারি আইজ (অ্যালার্জির কারণে চোখ থেকে পানি নিঃসরণ) দেখা দিতে পারে। সঠিকভাবে এ সমস্যা শনাক্ত করতে ডাক্তার থেকে ডায়াগনোসিস করা উচিত। ভিলানুয়েভা বলেন, মাথাব্যথা থেকে পরিত্রাণ পেতে ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ বা অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যালার্জি প্ররোচক বিষয়সমূহ এড়িয়ে চলুন।

৭. কপাল বা মাথার একপাশে: এয়ারপ্লেন হেডেক
আকাশপথে ভ্রমণের সময় কপাল বা মাথার একপাশে কোনোকিছু বিদ্ধ হওয়া বা খোঁচা মারা প্রকৃতির ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যাকে এয়ারপ্লেন হেডেক বলে। আকাশপথে ভ্রমণ খুব একটা কঠিন না হলেও গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, প্রতি ১২ জনে একজন লোক এয়ারপ্লেন হেডেকে ভুগে। এয়ারপ্লেন যাত্রায় প্রেসার বা চাপের পরিবর্তনের কারণে এ ব্যথা হয়ে থাকে। এই ব্যথার ঝুঁকি কমাতে স্ট্রেস বা মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন, হাইড্রেটেড থাকুন এবং ব্যথা উদ্ভব হচ্ছে অনুভূত হলে ওভার দ্য কাউন্টার পেইনকিলার সেবন করুন।

৮. মাথার যেকোনো অংশে: এক্সারশনাল হেডেক
যদি কাজকর্মের সময় বা পরে এক্সারশনাল হেডেক (শ্রমসংক্রান্ত মাথাব্যথা) হয়ে থাকে, তাহলে তা ব্যায়াম বা অনুশীলন কিংবা উত্তেজনা বা কামোত্তেজনায় বেড়ে যেতে পারে। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশনের মতে, এক্সারশনাল হেডেক পাঁচ মিনিট থেকে দুইদিন পর্যন্ত লেগে থাকতে পারে। ভিলানুয়েভা বলেন, এই মাথাব্যথার বিভিন্ন রকম উপসর্গ আছে। তিনি আরো বলেন, এসব উপসর্গ হতে পারে তীব্র মাথাব্যথা, এক-পার্শ্বস্থ মাথাব্যথা, স্পন্দিত মাথাব্যথা, একটানা মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব। প্রকৃতপক্ষে এই মাথাব্যথা বিরল এবং অনুশীলন বা ব্যায়াম প্ররোচিত, মাইগ্রেন এটি থেকে ভিন্ন, কিন্তু আপনাকে ডাক্তার দেখাতে হবে যিনি মূল কারণ (যেমন- হেমোরেজ) নির্ণয়ের জন্য আপনাকে পর্যবেক্ষণ করবেন। সুখবর হল, কোনো মেডিক্যাল সমস্যার কারণে যদি এ ধরনের ব্যথা না হয়ে থাকে, তাহলে তা সাধারণত ছয় মাস পর চলে যায়। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডশনের মতে, এই সময়ের মধ্যে আপনি ওয়ার্কআউটের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পূর্বে ন্যাপ্রক্সেন সেবন করতে পারেন যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যেকোনো নতুন ওষুধ গ্রহণের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC