ঢাকা, বুধবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

একক প্রার্থীর বিষয়ে জোর দিলেন তৃণমূলের নেতারা

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৩ ১০:৩৯:২৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-২৩ ৭:০৪:২৩ পিএম

নৃপেন রায় : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক বছর পূর্ণ হয়েছে সোমবার। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এই এক বছরের পথচলাকে তৃণমূল নেতারা মোটামুটিভাবে সফল বললেও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। দলকে তারা আরো সুসংগঠিত করার কথা বলেন।

তৃণমূলের নেতারা রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে দলের কর্মকাণ্ড, নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। দলের অনেকে আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিটি সংসদীয় আসনে নৌকার একাধিক প্রার্থী যাতে না থাকে সে বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দলকে তৈরি এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর বিশৃঙ্খল তৎপরতার লাগাম টেনে ধরার কথা বলেন।

২০১৬ সালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন হয়। এতে অষ্টমবারের মতো আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দলের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। আর প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে হন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের।

কাউন্সিলে পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব অর্পণের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা যে গুরুত্বদায়িত্ব আমার ওপর আবারও অর্পণ করলেন, তা আমি বহন করব। ৩৫ বছর একটা দলের সভাপতি, তবে একটা সময় আমাকে বিদায় নিতে হবে। আর এখন থেকেই আগামী নির্বাচনের জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়ী হয়ে যাতে দেশবাসীর সেবা করতে পারি সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।

এরপর সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতিমন্ডলীর ১৯টি পদের মধ্যে ১৬টি এবং ৪টি যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ পদের নাম ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে কয়েকধাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহীর দুইজন সদস্য এবং সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অবশিষ্ট রেখে কমিটি ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পরিধি বাড়িয়ে ৮১ করা হয়।

গত এক বছরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড বিশ্লেষণে তৃণমূলের নেতারা জানান, আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি একটি গতিশীল কমিটি। নবীণ-প্রবীণের সমন্বয় করে নেত্রী দলের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে এই কমিটি উপহার দিয়েছেন। এই কমিটির অধিকাংশ নেতাই বয়সে তরুণ। নেতারা নেত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। দলে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি সংসদীয় আসনে নৌকার একাধিক প্রার্থীর বলয় গড়ে উঠেছে। অনেকে প্রচার কাজে নেমে পড়েছেন। এতে গ্রুপিং ও কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আবার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করে বলয় গড়ে তুলেছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান কমিটিকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

এব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী রাইজিংবিডিকে বলেন, মাননীয় নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমন্বয় করে প্রবীণ এবং নবীনদের সমন্বয়ে কমিটি করেছেন। তিনি মোটামুটিভাবে সুন্দর একটি কমিটি উপহার দিয়েছেন। এই এক বছরের মধ্যে ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে মোটামুটিভাবে পার্টির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরে কর্মীরা তাকে (কাদের) ছাত্রলীগের কর্মীরা, যারা এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা অফিসে গেলে আর যাই হোক না কেন বিভিন্œ সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারছেন। একইসাথে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতারাও বিভিন্ন বিভাগের যেসব জেলায় সংকট আছে, তার সমাধানের চেষ্টা করছেন। অনেকক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। বাকী যেসব সমস্যা আছে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাতও কমিটির সফলতা কামনা করে বলেন, এবার আওয়ামী লীগের যে কমিটি দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি কর্মকান্ডে বিশেষ করে কাদের ভাই সব ব্যাপারে খুব খোলামেলা, কর্মীদের সব সময় সার্বিকভাবে সাহায্য করেন, খোঁজ খবর রাখেন।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হওয়ার পর থেকে উনি আজ পর্যন্ত আমাকে তিন/চার বার ফোন করে দলের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে আরফানুল হক বলেন, আমার তরফ থেকে থেকে বলতে পারি, কাদের ভাই একজন সার্থক সাধারণ সম্পাদক। উনি এক সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ওই সময় আমি কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ছিলাম। আমি তখন থেকেই কাদের ভাইকে দলের প্রতি ওনার যে কমিটমেন্ট আছে, সেগুলো উনি করেন, দেখে এসেছি। আর কমিটিতে যারা আছেন তারা প্রায় সবাই খুব অ্যাকটিভ। এজন্য আমি নেত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।  কারণ আওয়ামী লীগ একটি গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিটি অঞ্চলে গতিশীল হচ্ছে। গত এক বছরে যে কাজ করেছেন, অবশ্যই ওনারা এটার প্রশংসাযোগ্য। আমি স্যাটিসফায়েড।

গত কমিটির আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাথে বর্তমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের তুলনা টেনে তিনি বলেন, উনি (আশরাফ) ভদ্রলোক। আমি ওনাকে ব্যাক্তিগতভাবে অসম্ভব শ্রদ্ধা করি। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তার চেয়ে কাদের ভাইয়ের কর্মকা- গতিশীল। উনি সব জায়গাতেই দৌড়াদৌড়ি করছেন।

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃঞ্চ দে মূল্যায়নে বলেন, কমিটির কর্মকান্ড সন্তোষজনকভাবে চলছে। আমাদের বিভিন্ন জেলায় অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে সেগুলো নিরসন করা জরুরি যাতে আগামী নির্বাচনে আমাদের মধ্যে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে। এটাই হল এখন আমাদের মূল সমস্যা। আরেকটি হচ্ছে, ছাত্রলীগের রাজনীতিকে আরো নিয়ন্ত্রণ করা। যেহেতু কাদের ভাই সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন, এটাও ওনার একটা দায়িত্ব। ছাত্রলীগের কিছু কর্মকা- আমাদের দলের জন্য ক্ষতি করছে। তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং ছাত্রলীগকে আরো সৃজনশীল ও গঠনমূলক রাজনীতি করতে হবে।

শরিয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে আওয়ামী লীগের আহ্বানে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বড় একটি দল। এখানে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকাতেই একাধিক প্রার্থী আছে। তারাও তাদের সমর্থন বাড়াতে কাজ করছেন, আগামীতে মনোনয়ন পায় সেজন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। সে ক্ষেত্রে সবাই কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলি তুলে ধরা চেষ্টা করছি। কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের কাছে গতিশীলই মনে হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবীর কুমার রায় বলেন, নতুন কমিটি ভাল। কাজও ভাল করছে। সেক্রোটরি সাহেবের এ্যাকটিভিটি ভাল এবং গতিশীল।  গত জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের মিশন-ভিশন বাস্তবায়নে এই কমিটিকে আরো বেশী গতিশীল হওয়া উচিত কি না, এমন মূল্যায়নে তিনি বলেন, এখনো তো অনেক সময় বাকি। তবে পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে (তৃণমূল) প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে মিটিং হলে ভাল হবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ অক্টোবর ২০১৭/নৃপেন/এনএ

Walton Laptop
 
     
Walton