ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

নিজে করুন নিজের চিকিৎসা (প্রথম পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-০৯ ১০:১৯:২০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-০৯ ১২:৪১:০৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : আমাদের শরীর সবসময় সমস্যামুক্ত বা রোগমুক্ত থাকবে এমন গ্যারান্টি দেওয়া যায় না। কখনো কখনো শরীর এমন কিছু সমস্যার আওতায় আসে যার চিকিৎসা আমরা ঘরে অবস্থান করে করতে পারি।

কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে রিডার্স ডাইজেস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। রিডার্স ডাইজেস্টের জন্য প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ডিনিস ম্যান, এমএস (মাস্টার অব সার্জারি)।

১. আর্থ্রাইটিসের জন্য গ্রিন টি ও ঝাল মরিচ

আর্থ্রাইটিস থেকে আরোগ্যলাভের জন্য অনেক ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু এসবের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি সম্ভবত গ্রিন টি। আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড রিউম্যাটোলজির ২০১৬ সালের জানুয়ারি সংস্করণে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, গ্রিন টি-তে এপিগ্যালোকেটেচিন-৩-গ্যালেট(ইজিসিজি) নামক একটি অতীব কার্যকরী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যা রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ নির্দেশক জয়েন্ট পেইন হ্রাস করতে পারে। গবেষকরা এ উপকারিতা পাকাপোক্ত করার জন্য দৈনিক দুই বা তিন কাপ গ্রিন টি পান করার পরামর্শ দেন।

আঘাত বা দুর্ঘটনা ব্যতীত স্বাভাবিক বা বয়সজনিত অস্টিওআর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা লাঘবে লাল ঝাল মরিচ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের মতে, ঝাল মরিচের ক্যাপসাইসিন নামক উপাদান অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জয়েন্ট পেইন, কাঠিন্যতা ও ফোলা কমাতে পারে। প্রতিদিন চারবার করে যন্ত্রণাদায়ক জয়েন্টে ক্যাপসাইসিন ক্রিম মাখতে পারেন।

২. বাগ বাইটের জন্য ওটমিল ও মধু

বাগ বাইট বা ছারপোকার কামড়ের কিছু উপসর্গ রয়েছে যা অবহেলা করা উচিত নয়। বাগ বাইটের ফলে সৃষ্ট চুলকানির জন্য ওটমিল ব্যবহার করতে পারেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত জর্জ ওয়াশিংটন স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড হসপিটালের ডার্মাটোলজির সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম ফ্রিডম্যান বলেন, ‘আঠাল ওটমিলের দীর্ঘ ইতিহাস আছে এবং সমানভাবে নির্ভরযোগ্য জৈবিক ভিত্তি রয়েছে এটির প্রদাহবিরোধী ও চুলকানিবিরোধী প্রভাবের জন্য।’ ওটমিলের ক্রিম বা ওভার-দ্য-কাউন্টার বাথ পাউডারের খোঁজ করুন এবং লেবেলের নির্দেশনাবলী অনুসরণ করুন।

যদি আপনি ইতোমধ্যে বাগ বাইট খুঁচিয়ে ফেলেন, তাহলে ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর মধু ‘মানুকা হানি’ (অন্য কোনো মধু নয়) ব্যবহার করুন- এ মধু নিউজিল্যান্ড থেকে আসে এবং ক্ষত চিকিৎসার জন্য এটি অনুমোদিত। ডা. ফ্রিডম্যান বলেন, ‘এটি একটি কার্যকরী অসমোটিক এজেন্ট- এটি ক্ষত বা চর্মের ভেতর পানি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট প্রবেশ করায়।’ তিনি আরো বলেন, চর্ম হাইড্রেটেড থাকলে চুলকানি বন্ধ হতে পারে এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান বাগ বাইট সৃষ্ট ইনফেকশন ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. ঠান্ডার জন্য চিকেন স্যুপ

নিউ ইয়র্ক সিটির লেক্স হিল হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ লেন হরোভিটজ বলেন, ‘একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঠান্ডার জন্য চিকেন স্যুপ কার্যকরী।’ চিকেন স্যুপ প্রদাহবিরোধী প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে যা আপার রেসপিরেটরী ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা উপরিস্থ শ্বাসপ্রশ্বাসীয় অংশের সংক্রমণের উপসর্গকে শান্ত করতে পারে। মেডিক্যাল জার্নাল চেস্টে প্রকাশিত গবেষণার মতে, ‘গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, চিকেন স্যুপ নিউট্রোফিল নামক শ্বেত রক্তকণিকাকে তাদের ট্র্যাকে থামিয়ে দেয়, তাদের নড়াচড়া হ্রাস করে এবং উপসর্গকে দমন করে।’ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা চিকেন স্যুপের সকল ওষুধীয় উপাদান সম্পর্কে জেনে নিন। কোল্ড বা ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ লাং ডিজিজ হয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে স্ট্রেপ টেস্ট বা ইনফ্লুয়েঞ্জা টেস্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. কাশির জন্য মধু

মধুর অনেক বিস্ময়কর ওষুধীয় উপকারিতা রয়েছে এবং কাশি হ্রাস হচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম। আর্কাইভস অব পিডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেডিসিনের গবেষণা মতে, ‘কাশি হ্রাস এবং শিশুর ঘুমের উন্নতির জন্য হানি-ফ্লেভারড ওভার-দ্য-কাউন্টার কফ সাপ্রেস্যান্টের তুলনায় স্টোর-বাট হানি অধিকতর কার্যকরী।’ যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, ‘২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য ওভার-দ্য-কাউন্টার কাশির ওষুধ অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।’ গবেষকরা ২ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের অর্ধ চা-চামচ মধু, ৬ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুদের ১ চা-চামচ মধু এবং ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের ২ চা-চামচ মধু খাওয়াতে বলেন। কিন্তু ১ বছরের নিচের শিশুদের মধু খাওয়াবেন না, কারণ এতে ইনফ্যান্টাইল বটিউলিজম হয়ে তাদের জীবন সংশয় হতে পারে।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য তিসি বীজ

কোষ্ঠকাঠিন্যের সর্বোত্তম সমাধান হচ্ছে, ফাইবার এবং ফাইবার ভোজনের প্রমাণিত উৎসের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি বীজ। সাউথ ক্যারোলিনার মাউন্ট প্লীজ্যান্টের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট উইল বুলসিভিচ বলেন, ‘গ্রাউন্ড ফ্ল্যাক্সসিড বা চূর্ণিত তিসি বীজের চার রকম মেকানিজম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।’ তিনি বলেন, ‘যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য এ ঘরোয়া চিকিৎসা বা তিসি বীজ গ্রহণ করবেন তাদের জন্য এটি দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় উভয় ফাইবারের বড় উৎস, উভয় ফাইবার ভিন্ন কাজ করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অদ্রবণীয় ফাইবার মলের স্তূপ তৈরি করে, স্তূপকৃত মলকে অন্ত্রে দ্রুত চলাচলে সাহায্য করে এবং দ্রবণীয় ফাইবার গাট গার্ডেনের ফার্টিলাইজার হিসেবে কাজ করে, ভালো ব্যাকটেরিয়ার বিকাশ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।’ তিনি যোগ করেন, ‘গ্রাউন্ড ফ্ল্যাক্সসিড বা চূর্ণিত তিসি বীজের অনন্য উপাদান হচ্ছে এটির দ্রবণীয় ফাইবারের মিউসিলেজ। মিউসিলেজ হচ্ছে চটচটে ও আঠাল পদার্থ যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মলকে স্তূপ ও নরম করে।’ গ্রাউন্ড ফ্ল্যাক্সসিড হচ্ছে উদ্ভিদভিত্তিক ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের চমৎকার উৎস- যা মল নরম করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফাইবার সমৃদ্ধ ডায়েটের অংশ হিসেবে দৈনিক দুই থেকে তিন চা-চামচ গ্রাউন্ড ফ্ল্যাক্সসিড খেতে পারেন। বুলসিভিচ বলেন, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন নিশ্চিত করতে ফ্ল্যাক্সসিড খাওয়ার সময় প্রচুর পানি পান করুন।

৬. কাটা, আঁচড় ও পোড়ার জন্য মধু

অ্যাফেক্ট হেলথ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা এবং কানাডার টরন্টোর ন্যাচারোপ্যাথিক ডাক্তার নাদিয়া কুমেন্টাস বলেন, ‘আমার সবসময়ের প্রিয় ঘরোয়া ওষুধের একটি হচ্ছে মানুকা হানি (মধু)- যা কাটা, পোড়া ও আঁচড়ে শতভাগ কাজ করে।’ তিনি বলেন, ‘এটির কার্যকরী অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ও ক্ষত নিরাময় ক্ষমতা আপনাকে দ্রুত আরোগ্যলাভে সহায়তা করবে, ক্ষতচিহ্ন হ্রাস করবে এবং ইনফেকশন প্রতিরোধ করবে।’ তিনি ক্ষতের ওপর মানুকা হানির পাতলা প্রলেপ দিতে বলেন এবং প্রলেপযুক্ত ক্ষতস্থান আর্দ্র রাখার জন্য তা ঢেকে রাখতে বলেন।

৭. মাথাব্যথার জন্য ক্যাফেইন

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের পুষ্টিবিজ্ঞানী ক্লেয়ার মার্টিন বলেন, ‘কোনো মাথাব্যথা যদি মারাত্মক কোনো সমস্যার লক্ষণ না হয়, তাহলে ক্যাফেইন এ মাথাব্যথা উপশম করবে।’ তিনি বলেন, কিছু কফি, চা, সোডা অথবা একটি চকলেট বার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতে পারেন। তিনি যোগ করেন, মাথাব্যথার সময় আপনার রক্তনালী সম্প্রসারিত হয় এবং ক্যাফেইন এ সম্প্রসারিত রক্তনালীকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে।

৮. হেমোরয়েডের জন্য নিতম্ব স্নান

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরা হেমোরয়েড বা অর্শ উপশমের জন্য সিৎজ বাথ বা নিতম্ব স্নানের পরামর্শ দেন। নিতম্ব স্নানের জন্য একটি অগভীর বাটি বা পাত্র আপনার টয়লেটের ওপর ফিট করুন। উষ্ণ পানিতে ১৫ মিনিট বসে থাকুন, এভাবে দিনে কয়েকবার বসুন- বিশেষ করে বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগের পর। এতে জ্বালাময় স্থান প্রশমিত হতে পারে।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)



রাইংজিংবিডি/ঢাকা/৯ নভেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel