ঢাকা, রবিবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ডায়াবেটিসের পাঁচ বিপজ্জনক লক্ষণ

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১২ ৯:৫৩:১৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-১২ ২:৪৪:৩৪ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : আপনার রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার ভালো কারণ রয়েছে: ডায়াবেটিস হচ্ছে এমন এক অবস্থা যা অত্যধিক উচ্চ রক্ত শর্করা থেকে হতে পারে এবং এটি শরীরে কিছু মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে, যেমন- কিডনি রোগ, হৃদরোগ অথবা ক্যানসার।

ডায়াবেটিসের জটিলতা নির্ণয় করা সবসময় সহজ নয়। ফাস্টিং ব্লাড সুগারের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১২৬ মিলিগ্রাম বা এর বেশি হলে অথবা এ১সি ৬.৫ শতাংশ বা এর বেশি হলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরা হয়।

জনস হপকিন্স মেডিসিনের এন্ডোক্রিনোলজি, ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিজমের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর নেস্টোরাস ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘অন্যান্য রোগের মতো ডায়াবেটিস সুস্পষ্ট উপসর্গ প্রকাশ করে না। অনেকক্ষেত্রে ডায়াবেটিস একটি নীরব রোগ।’ এ কারণে আপনাকে ডায়াবেটিসের উপসর্গ সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। ডায়াবেটিসের প্রধান দুটি লক্ষণ হচ্ছে, ঘনঘন মূত্রত্যাগ করা ও পিপাসা লাগা। এ প্রতিবেদনে ডায়াবেটিসের পাঁচটি বিপজ্জনক লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* দৃষ্টি সমস্যা

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার চোখের পেছনে ছোট রক্তনালীতে শর্করা জমা হতে থাকে। উচ্চ রক্ত শর্করার কারণে এমনটা হয়ে থাকে এবং এর ফলে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মায়ো ক্লিনিকের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অ্যাড্রিয়ান ভেলা বলেন, ‘আপনার চোখে পুষ্টি সরবরাহ ও রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখতে আপনার শরীর ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীর পাশে নতুন রক্তনালী সৃষ্টি করে।’ শুনতে ভালো মনে হতে পারে, কিন্তু সমস্যা আছে: ডা. ভেলা বলেন, ‘এসব নতুন রক্তনালী দুর্বল এবং তারা ব্রেকেজ, লিকিং ও ব্লিডিং প্রবণ।’ এর ফলে দৃষ্টি তির্যক হতে পারে এবং এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও যেতে পারে।

নতুন রক্তনালী আপনার চোখের পেছনে অবস্থিত দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী টিস্যুর পাতলা স্তর রেটিনায়ও ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে রেটিনা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘যদি অবিলম্বে এর চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে তা অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।’

যদি আপনার দৃষ্টি ঝাপসা হয় অথবা চোখের সামনে ছোট রেখা বা বিন্দু বা ব্লব দেখেন, তাহলে তা আপনার চোখে রক্তপাতের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চোখের দৃষ্টির সামনে অথবা ফ্লাশিং লাইটের উপস্থিতিতে পর্দা দেখলে তা রেটিনা বিচ্ছিন্ন হওয়ার লক্ষণ হতে পারে এবং এক্ষেত্রেও আপনাকে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় এসব সমস্যা ধরা পড়তে পারে। বোস্টনে অবস্থিত উইমেন’স হসপিটালের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট আলেকজান্ডার তুরচিন বলেন, ‘যদি এসব সমস্যা তাড়াতাড়ি নির্ণীত হয়, তাহলে লেজার ট্রিটমেন্ট ও ইনজেকশন উভয়ের মাধ্যমে চোখের আরো ড্যামেজ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।’

* বাহু বা পায়ে অসাড়তা

 

যখন আপনার স্নায়ুতে রক্ত সরবরাহকারী ছোট রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আপনি আপনার পা, বাহু ও হাতে অসাড়তা অনুভন করতে পারেন। ডা. ভেলা বলেন, ‘শরীরের দীর্ঘতম স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক।’ এ কারণে পা ও বাহুর স্নায়ু ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্য স্নায়ুর থেকে বেশি। যদি আপনি পা অথবা বাহুতে দীর্ঘস্থায়ী অসাড়তা, রণন বা ব্যথা অনুভব করেন তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘সেরে ওঠে না এমন ক্ষতের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, কারণ এর চিকিৎসা করা না হলে অঙ্গচ্ছেদনের প্রয়োজন হতে পারে।’ এ কারণে ডায়াবেটিকদের তাদের পায়ের ব্যাপারে অতিরিক্ত সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

* যৌন অক্ষমতা

ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘লিঙ্গ উত্থানের জন্য দুটি ঘটনা ঘটা প্রয়োজন: আপনার পুরুষাঙ্গে ভালো রক্তপ্রবাহ প্রয়োজন হবে এবং আপনার মস্তিষ্ক থেকে শক্তিশালী স্নায়ু সংকেত প্রয়োজন হবে। ডায়াবেটিস উভয় মেকানিজমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’ ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘সংবহন ও স্নায়ু সমস্যা ছাড়াও ডায়াবেটিস পুরুষদের যৌন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ফ্যাক্টরকেও বিরূপভাবে প্রভাবিত করে, যেমন- টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাস পাওয়া।’ তিনি বলেন, ‘যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে রক্ত সংবহন সমস্যার ক্ষেত্রে সেবনকৃত ভায়াগ্রার মতো ওষুধ সবসময় ভালোভাবে কাজ করবে না।’ এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা আপনাকে ইনজেক্টেবল মেডিকেশন দিতে পারে, যা অধিক কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

* ক্লান্তি

যখন আপনার রক্ত শর্করা অত্যধিক বেড়ে যাবে, আপনার কিডনি আপনার রক্ত থেকে আবর্জনা ফিল্টার করার জন্য অতিরিক্ত কাজ করবে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, ‘কিডনি অধিক পরিশ্রম করলে তাদের রক্তনালী ড্যামেজ হতে পারে।’

ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘যখন কিডনির ছোট রক্তনালী ড্যামেজ হবে, আপনার শরীর ভালোভাবে টক্সিন ফিল্টার আউট করতে পারবে না।’ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, ড্যামেজ ও ক্ষতের কারণে কিডনি ফেইলিউর হতে পারে- যে ক্ষেত্রে অবশেষে আপনার কিডনি ডায়ালাইসিস অথবা ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হবে।

ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘অনেক বছরের একটি পিরিয়ডে ধীরে ধীরে কিডনি ডিসফাংশন হতে থাকবে এবং রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষা ছাড়া কিডনি ড্যামেজ ডেভেলপ হচ্ছে কিনা তা জানা কঠিন হতে পারে।’ কিন্তু ক্লান্তি হচ্ছে প্রাথমিক উপসর্গ এবং কিডনি ড্যামেজের অগ্রসর পর্যায়ে ক্লান্তির সঙ্গে বমিবমি ভাব, মাথাঘোরা, ঝিমুনি ও চুলকানি হতে পারে। এমনকি আপনি স্বাভাবিক মাত্রায় ঘুম গেলেও সবসময় কোনো কারণ ছাড়াই ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন।

ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘কিডনি ড্যামেজের প্রাথমিক পর্যায়ে রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণ করলে কিডনি ড্যামেজ সেরে ওঠতে পারে। তাই ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর যত দ্রুত সম্ভব রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

* বুকে ব্যথা বা টাইটনেস

ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লোকদের কার্ডিওভাস্কুলার রোগের চারগুণ বর্ধিত ঝুঁকি রয়েছে।’ এর কারণ হচ্ছে, আপনার হৃদপিণ্ডের পার্শ্ববর্তী রক্তনালীর অত্যধিক রক্ত শর্করা প্লেক সৃষ্টিতে অবদান রাখে, যার ফলে ধমনী সংকুচিত হয়- এটি এমন অবস্থা যা হার্ট অ্যাটাকের দিকে নিয়ে যায়।

ডা. ম্যাথিউডাকিস বলেন, ‘হৃদপিণ্ডের ধমনীসংক্রান্ত রোগের উপসর্গসমূহের মধ্যে বুকের মধ্যখানে বা বামপাশে প্রেশার বা টাইটনেস অন্তর্ভুক্ত এবং এটি এক্সারসাইজ অথবা ইমোশনাল স্ট্রেস ও শ্বাসকষ্ট দ্বারা উদ্দীপিত হয়।’ যখন ধমনী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায় তখন হার্ট অ্যাটাক হয়। ডা. ভেলা বলেন, ‘ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও হৃদরোগের অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে, যেমন- উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা ও অলস জীবযাপন। এসবের সঙ্গে উচ্চ রক্ত শর্করা হৃদপিণ্ডের অবস্থাকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যায়।’

তথ্যসূত্র : ম্যান’স হেলথ




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ মে ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
   
Walton AC