ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ইন্টারনেটে অসুখ-বিসুখ সার্চে যা করা উচিত নয়

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৯ ৮:১১:২২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-০৯ ১:০৩:২৯ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : ইন্টারনেটে গুগলকে বলা হয়ে থাকে সবজান্তা। কেননা এমন কোনো বিষয় নেই, যেটা গুগল হাজির করতে পারে না। প্রতিনিয়ত মানুষ তাই সবকিছুই খুঁজে বেড়ায় গুগলে। এমনকি অসুখ-বিসুখের কবলে পড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগেই রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সার্চ করে গুগলে।

তবে গুগলে উপসর্গ সার্চ করার ক্ষেত্রে লোকজন সাধারণ যেসব ভুল বেশি করে থাকেন, সে সম্পর্কে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য লক্ষণ ইন্টারনেটে মানে গুগলে সার্চ করার ক্ষেত্রে ১১টি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব।

* যেকোনো জার্নালের আর্টিকেল সঠিক ভাববেন না

একটি পিয়ার-রিভিউড অ্যাকাডেমিক পেপার কোনো বিশেষ বিষয়ের প্রাথমিক উৎস হতে পারে, কিন্তু এটির তথ্য আপনার জন্য অবধারিতভাবে প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে অথবা এমনকি বিষয়টি এখন আর প্রাসঙ্গিক-ই নয়। প্রথমত, আর্টিকেলটি কোন বছরে প্রকাশিত হয়েছে তা চেক করুন, যদি এটি ১০ বছর আগে লেখা হয়, তাহলে তাতে পুরোনো তথ্য থাকতে পারে। গবেষণার স্যাম্পল সাইজ লক্ষ্য করুন, যদি ছোট হয়, তথ্য প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে- দীর্ঘমেয়াদী অথবা স্বল্পমেয়াদী গবেষণা যেমনই হোক না কেন। এছাড়া গবেষণাটি মানুষ নাকি প্রাণীর ওপর সম্পাদন করা হয়েছে তাও লক্ষ্য করুন। এটি কি বহু বিষয়ের এলোমেলো তূলনামূলক গবেষণা অথবা আগেকার অনেক গবেষণার রিভিউ স্টাডি? ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান এবং আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানস বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সদস্য রবার্ট রাস্পা সতর্ক করেন, ‘যদি তথ্য প্রাথমিক হয়, তা আপনাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। আপনার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে আর্টিকেলটি কোনো নামকরা পিয়ার-রিভিউড জার্নাল অনুসারে লেখা হয়েছে।’

* ‘অ্যাবাউট আস’ সেকশন এড়িয়ে যাবেন না

কিছু সাইটের অ্যাজেন্ডা থাকে, তাই পরামর্শের পেছনে কারা আছে তা জানতে ‘অ্যাবাউট আস’ বা ‘আমাদের সম্পর্কে’ সেকশনে ক্লিক করুন। যদি সাইটে কারা তথ্য প্রদান করছে তার সূত্র না থাকে, তাহলে তা ভালো সাইটের লক্ষণ নয়। কিছু সাইট সম্পূর্ণভাবে ওষুধ কোম্পানি বা সংস্থা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা হার্বাল মেডিসিন বা ভেষজ ওষুধ বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করে। ডা. শ্যাপিরো বলেন, ‘যদি কোনো সাইট ওষুধ বিক্রয় করে অথবা যদি সাইটে স্পন্সর থাকে, তাহলে তথ্যের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সন্দেহ থেকে যায়।’

* শুধুমাত্র সাধারণ গুগলের ওপর নির্ভর করবেন না

গুগল স্কলারের পাশাপাশি গুগল অ্যাডভান্সড সার্চ ব্যবহার করুন, যা হাই-ক্যালিবার সার্চ-রিফাইনমেন্ট টেকনিক প্রোভাইড করে- এটি সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে অরিজিনাল সোর্স খুঁজে পেতে। অ্যাডভান্সড সার্চের মাধ্যমে আপনি সাইটের মধ্যেই সার্চ করতে পারবেন এবং আপনার সার্চকে তারিখ দিয়ে রিফাইন করতে পারবেন, তাই আপনি অধিক সাম্প্রতিক ও প্রাসঙ্গিক আর্টিকেল খুঁজে পাবেন।

* চিকিৎসকের কাছে তাদের প্রিয় স্বাস্থ্য সাইটের নাম জানতে দ্বিধাবোধ করবেন না

চিকিৎসকরা জানেন যে, তাদের অনেক রোগী গুগলে সার্চের মাধ্যমে উপসর্গ সম্পর্কে জানেন। সিয়াটল ম্যামা ডকের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিয়াটলের পিডিয়াট্রিশিয়ান ওয়েন্ডি সু সোয়ানসন জনপ্রিয় ফিজিশিয়ানদের ব্লগ কেভিনএমডি ডটকমে লিখেন: ‘এটি একটি নতুন পৃথিবী...আমরা রোগীদেরকে বিশ্বস্ত ও মূল্যবান কণ্ঠস্বরের দিকে গাইড করবো এবং তাদের অনলাইন জ্ঞানকে কনফার্ম বা রিডিরেক্ট করতে সাহায্য করবো।’ তাই পরবর্তীতে আপনি যখন কোনো চেকআপের জন্য চিকিৎসকের কাছে যাবেন, তখন জেনে নিন যে তিনি রোগীদেরকে মেডিক্যাল তথ্যের জন্য কোন সাইট সাজেস্ট করেন।

* কেবলমাত্র গুগলে সার্চ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবেন না

ইন্টারনেটে কি পড়েছেন শুধুমাত্র তার ওপর ভিত্তি করে কখনো মেডিক্যালীয় সিদ্ধান্ত নেবেন না এবং অবশ্যই এমন সাইটের লেখা পড়ে নয় যা আপনাকে ভালো অনুভব করার জন্য কিছু কিনতে সাজেস্ট করে। আপনি যে আর্টিকেল প্রাসঙ্গিক মনে করেন তার প্রিন্ট বের করুন অথবা এমন আর্টিকেলের প্রিন্ট বের করুন যা সম্পর্কে আপনি জানতে আগ্রহী- এসব নিয়ে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন এবং এটি হচ্ছে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াকে অধিক ফলপ্রসূ করার একটি উপায়। অনলাইনে আপনার উপসর্গ খুঁজুন কিংবা না খুঁজুন, অসুস্থতা অনুভব করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

পড়ুন : ইন্টারনেটে অসুখ-বিসুখ সার্চে যা করা উচিত নয় (প্রথম পর্ব)




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton