ঢাকা, শনিবার, ২ পৌষ ১৪২৪, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘লন্ডন বার্তা’র অপেক্ষায় বিএনপি

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-০১ ৭:০৯:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-১৩ ৩:০৫:৫৭ পিএম

এস কে রেজা পারভেজ : আড়াই মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরে কি দিক নির্দেশনা দেন, সেই অপেক্ষায় আছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীরা এখন ক্ষণ গুণছেন কখন আসবেন তাদের নেত্রী। খালেদা জিয়া দেশে ফিরে আসার পর সহায়ক সরকার ও আগামী নির্বাচন নিয়ে দলের রাজনৈতিক অবস্থান কি হবে, তা নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে কৌতূহল বিরাজ করছে। এ ছাড়া ছাত্রদল, কৃষকদলসহ বিএনপির কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনে নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয় নিয়ে তৃণমূলে আলোচনা চলছে।

খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই লন্ডনে যান। ৮ আগস্ট লন্ডনের মুরফিল্ড হাসপাতালে তার ডান চোখে অস্ত্রোপচার হয়। লন্ডনে তিনি তার পায়ের চিকিৎসাও করান। অক্টোবর মাসের এই চলতি সপ্তাহে অথবা পরের সপ্তাহে তিনি দেশে ফিরতে পারেন বলে গুলশান কার্যালয় সূত্র বলছে।

দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, তারা আশায় আছেন দলীয় প্রধান সফরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত আনবেন, যা ভবিষ্যতে বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্যা করবে। তারা চান, বিএনপি প্রধান দেশে ফিরে নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করুন। পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।   

জানতে চাইলে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে যুক্ত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এইচ এম রাশেদ বলেন, ‘গণতন্ত্র ফেরাতে বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডন থেকে এসে দিক নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো। ম্যাডাম লন্ডন থেকে এসে কি বার্তা দেন সে ব্যাপারে আমরা নেতা-কর্মীরা অধীর আগ্রহে আছি।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক দল নেতা অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, ‘একটি অবাধ নির্বাচনের আয়োজনে ম্যাডাম কি রূপরেখা দেন আমরা সেই আশায় আছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, একটি অবাধ নির্বাচন আয়োজনে জনগণকে ঐক্যেবদ্ধ করতে তিনি কর্মসূচি দেবেন। নেতা-কর্মীরা তার ফেরার অপেক্ষায় আছে।’  
 
লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে খালেদা জিয়া চোখ ও পায়ের চিকিৎসা নিয়েছেন। এই সময়ে কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় কোনো নেতাই তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। লন্ডন বিএনপি একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাইলেও সেটি নিয়ে এখনো তিনি কোনো ইতিবাচক সাড়া দেননি। লন্ডনে এর আগেও সফরে গেছেন বিএনপি নেত্রী কিন্তু নেতা-কর্মী থেকে নিজেকে অনেকটা আড়ালে রাখার বিষয়টি এর আগে কখনো ঘটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, দলের সংকটকালে বিএনপির দ্বিতীয় প্রধান নেতা ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বেশকিছু বিষয় নিয়ে আলোচনায় সিদ্ধান্তের বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতেই তিনি এমনটি করেছেন।

লন্ডন বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এর আগে ম্যাডাম যখন লন্ডন এসেছেন তখন তার সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে এমনটি হতে দেখিনি। এবার তিনি কাউকে তার সঙ্গে মতবিনিময় করার সুযোগই দেননি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, তিনি যা করছেন তা সঠিক-ই করছেন। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটু খারাপ লাগা কাজ করলেও বৃহত্তর স্বার্থে আমরা বিষয়টি মেনে নিচ্ছি।’

জানা গেছে, ১৫ আগস্ট নিজের জন্মদিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমুহে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি বাতিল করেন তিনি। যুক্তরাজ্য বিএনপি এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরকেও সাক্ষাৎ দেননি তিনি।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর আগে দলের অভ্যন্তরে বেশ আলোচিত বিষয় ছিল। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফরে মা-ছেলের বৈঠকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে বলে বিশ্বাস করেন তারা। যার মধ্যে আগামী একাদশ নির্বাচনে দলের কৌশল, মনোনয়ন প্রার্থীদের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা, সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর কর্মকৌশল, আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের সম্পর্ক বৃদ্ধি প্রভৃতি রয়েছে। এ ছাড়া সরকারের সঙ্গে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের বিষয়ে দর-কষাকষির বিষয়টি তো রয়েছেই। অর্থাৎ বিএনপি সহায়ক সরকারের যে কথা বলছে তার রূপরেখা কেমন হবে সেটি প্রকাশ করার বিষয়টি রয়েছে। খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে এগুলো দৃশ্যমান হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির নীতি নির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যি লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ফিরবেন। আর সেখানে যেহেতু বিএনপির আরেক নেতা দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন তাই স্বাভাবিকভাবে দুই নেতার মধ্যে সবকিছু নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে দেশের রাজনীতি, দলীয় সাংগঠনিক বিষয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অবস্থানসহ সার্বিক বিষয় প্রধান্য, পাবে ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেত্রীর ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি ফিরে এসে দল ও দেশের জন্যর দিক নির্দেশনা দেবেন।’  

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ অক্টোবর ২০১৭/রেজা/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel