ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘অনুভূতি’র আওয়ামী লীগ ছুটছে হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৩ ২:০৩:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-১২ ৩:১৩:০৮ পিএম

নৃপেন রায় : আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, এটা অনুভূতি। এই হাজারো বন্ধুর রক্ত, চার নেতার রক্ত, ভাষা আন্দোলনের রক্ত, সেই অনুভূতি। এই অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে- নাম আওয়ামী লীগ।’ অনুভূতির সেই ধারায় ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ এক বছর পূর্তি হলো। এই এক বছরে অনুভূতির আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয়ের মিশন নিয়ে সংগঠনের কর্মকা- গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করে গেছে।

২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন হয়। এই সম্মেলনে টানা অষ্টমবার সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রথমবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন হন ওবায়দুল কাদের। আর সৈয়দ আশরাফ হন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য। এরপর কার্যনির্বাহী সংসদেও স্থান পায় এক ঝাঁক নতুন মুখ। ৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির দুটি সদস্য পদ এবং সভাপতিমন্ডলীর পদে ফাঁকা রয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকদের নামের তালিকা গত এক বছরেও চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি।

তবে গত এক বছর ধরে দলকে গতিশীল করার লক্ষ্যে বর্ধিত সভা, বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা, কর্মীসভা, জেলা কমিটি অনুমোদন, তৃণমূলের কোন্দল নিরসনে ধারাবাহিক বৈঠক, কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল অধিবেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনসহ সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূল লক্ষ্য আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের জয়লাভ। যেটি হবে আওয়ামী লীগের উপর্যুপরি তৃতীয় অর্থাৎ হ্যাটট্রিক জয়। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে দলের কর্মকাণ্ড।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংগঠনিক কর্মকা-ে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে গত এক বছর ধরে নিরন্তর ছুটে চলেছেন। তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ঢাকায় অবস্থানকালে প্রতিদিন নিদেনপক্ষে একবার ধানমিন্ডতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢুঁ মেরেছেন। নেতাকর্মীদের সময় দেন। তৃণমূল থেকে আগত কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ-অনুযোগ শোনার চেষ্টা করেন। সভাপতির কার্যালয়ে অযাচিত ভীড় বা আড্ডাবাজির জন্য দলের কর্মী-সমর্থক-শুভান্যুধায়ীদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেন। আবার কখনো কঠোরতা প্রদর্শন করে কর্মীদের শাসন করেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে আদর্শিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষবাবে সতর্ক করেছেন। এসব কর্মকা-ে তিনি দলের ভিতর-বাইরে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন।

তবে তিনি সব আলোচনা-সমালোচনা উপেক্ষা করে দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণে বিরামহীন ছুটে চলেছেন। গত বছর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর ২৪ অক্টোবর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে একটি কমিউিনিটি সেন্টারে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার পুরস্কার পেয়েছি। এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। দায়িত্ব পালনে আমি দেশের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি। দায়িত্বপালন করতে গিয়ে ঘাম-শ্রম-মেধা-শক্তি-সামর্থ্য সবকিছু উজাড় করে দেব। নেতৃত্বের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব। আওয়ামী লীগ একটি বিশাল দল। এই দায়িত্ব সুবিশাল।

দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করার প্রত্যয়ে তিনি বলেন, আগে এটা পারতাম না। এখন আমি রাস্তা দেখব, সঙ্গে নেতাকর্মীদের কথাও শুনব। তাৎক্ষণিক সমাধান দেব। এটা আমার বাড়তি লাভ। বাড়তি পরিশ্রম না। সে দিন তিনি আরো বলেছিলেন, আমাদের আচরণ সামনে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে আরও গুণগত পরিবর্তন হবে। আমাদের নিজেদের বদলাতে না পারলে আমরা দেশকে পরিবর্তন করতে পারব না। আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। আর সম্মেলনের পর দলের এজেন্ডার ব্যাপারে তিনি দুটি এজেন্ডার উল্লেখ করে বলেছিলেন, আমরা দুটি এজেন্ডা হাতে নিয়েছি। এক সাম্প্রদায়িক পরাশক্তিকে পরাজিত করা। দুই আগামী নির্বাচনের জন্য দলের প্রস্তুতি নেওয়া। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করব।

আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে ৩৫ বছর ধরে দললের সভাপতির দায়িত্ব পালনের গুরুদায়িত্বের কথা তুলে ধরে গত সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আপনারা যে গুরুত্বদায়িত্ব আমার ওপর আবারও অর্পণ করলেন, তা আমি বহন করব। ৩৫ বছর একটা দলের সভাপতি, তবে একটা সময় আমাকে বিদায় নিতে হবে। আর এখন থেকেই আগামী নির্বাচনের জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়ী হয়ে যাতে দেশবাসীর সেবা করতে পারি সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব। সেদিন তিনি দলের নতুন সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আস্থা-বিশ্বাসে বলেছিলেন, ছাত্রনেতা থেকে সে (কাদের) এ পর্যন্ত উঠে এসেছে। সে সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় দল আরো শক্তিশালী হবে বলে আমি মনে করি।

আর তার আগে জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে সূচনা এবং সমাপনী বক্তব্যে নেতাকর্মীদের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ দুই দফায় আট বছর ক্ষমতায় রয়েছে। এত উন্নয়ন আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে সক্ষম হয়েছি। তৃতীয় দফায় নির্বাচনে জয়ী হতে নেতাকর্মীদের জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের কল্যাণে আমরা কী করেছি, সেটাই তুলে ধরতে হবে। ব্যাপকভাবে সরকারের বিশাল উন্নয়ন ও সফলতাগুলো প্রচার করতে হবে। ঘরে ঘরে সরকারের উন্নয়নের কথা পৌঁছে দিতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে, তাদের জন্য আমরা কী কী করেছি, বলতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই কেবল মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নারী সরকারপ্রধান হিসেবে টানা প্রায় ৯ বছরসহ ১৪ বছর দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে ৩৫ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

আওয়ামী লীগের আদর্শিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত বছর সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলের লক্ষ্য এবং মূল্যায়নে বলেছিলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সন্তান। আওয়ামী লীগের ঘরেই আমার জন্ম। আওয়ামী লীগ যখন ব্যথা পায়, আমারও কিন্তু হৃদয়ে ব্যথা লাগে। আওয়ামী লীগের একটা কর্মী যদি ব্যথা পায় সেই ব্যথা আমিও পাই। আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়। হাজারো শহীদের রক্ত, জাতির পিতার রক্ত, জাতীয় চার নেতার রক্ত, হাজার হাজার নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ। আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, এটা অনুভূতি। এই হাজারো বন্ধুর রক্ত, চার নেতার রক্ত, ভাষা আন্দোলনের রক্ত, সেই অনুভূতি। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য এদেশে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে. এরপরেও কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে পারে নাই এবং কোনো দিনই পারবে না, কোনো দিনই পারবে না। আওয়ামী লীগ অজেয় রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি পৃথিবীর কোনো শক্তি নাই এই আওয়ামী লীগকে স্তব্ধ করে দিতে পারে।’




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ অক্টোবর ২০১৭/নৃপেন/এনএ

Walton
 
   
Marcel