ঢাকা, শনিবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৮ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রস্তুতি ম‌্যাচে আত্মবিশ্বাসের রসদ বিএনপিতে!

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-০৬ ৮:০৭:৫০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-০৭ ৩:০০:২৮ পিএম

এস কে রেজা পারভেজ : নির্বাচনকালীন সরকার ব‌্যবস্থা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দরকষাকষিকে সামনে রেখে খালেদা জিয়ার উখিয়া সফরে মানুষের ‘স্বতস্ফূর্ততা’ বিএনপিকে আত্মবিশ্বাসের রসদ দিয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

মূল দাবি নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামার আগে এই সফরকে প্রস্তুতি ম‌্যাচ হিসেবে বিবেচনা করছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, উখিয়া সফর মানবিক বিষয় নিয়ে হলেও সেখানে যাত্রাপথে মানুষের যে স্বতস্ফূর্ততার প্রকাশ ঘটেছে, সেটি অভূতপূর্ব। শিগগিরই দেশের বিভিন্ন স্থানের দলীয় প্রধানের সফরের রাজনৈতিক কর্মসূচি আসবে। উখিয়া সফরের ‘জনপ্রিয়তার প্রমাণ’ পরবর্তী সফরের আগে প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই সফরগুলোতেও জনগণের এই ধরনের স্বতস্ফূর্ততা থাকলে সরকারের কাছে একধরনের ম‌্যাসেজ পৌঁছে যাবে।

ভবিষ‌্যতে দেশব‌্যাপী আরো সফর হবে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস‌্য ব‌্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে বাধার সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না। শত বাধা আমাদেরকে বন্ধ করতে পারবে না, আমাদেরকে রোধ করতে পারবে না। আমাদের যাত্রাপথে কোনো রকমের বাধা... যতরকমের বাধা দেন না কেন- এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’

‘বেগম খালেদা জিয়া যে উদ্যোগ নিয়েছেন, আমরা তার সঙ্গে থাকব। যেখানে খুশি সেখানে আমরা যাব এবং শত বাধা থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশের মানুষের কাছে যাব, জনমত সৃষ্টি করব’, বলেন তিনি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, রোহিঙ্গা ক‌্যাম্প পরিদর্শন খালেদা জিয়ার ত্রাণ তৎপরতার কর্মসূচি আক্ষরিক অর্থেই মানবতার জন‌্য হয়েছে। সেখানে দলীয় রাজনীতির কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এজন‌্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তার যাত্রাপথে কোথাও কোনো পথসভা বা বক্তব‌্য রাখেননি। তিনি মূলত তার সফরগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলার সার্কিট হাউজগুলোতে গিয়ে কথা বলেন। কিন্তু এবার তার ব‌্যতিক্রম হয়েছে। পুরো সফরে তিনি মুখ থেকে একটা কথাও বের করেননি। এরপরও বিএনপির প্রতি মানুষের এই ধরনের আগ্রহে খোদ দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া নিজেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সফরের মধ‌্যেই তিনি তার পাশে থাকা নেতাদের এই বিষয়ে নিজের অভিব‌্যক্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানানোর মাধ্যমে সরকারের প্রতি মানুষ নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস‌্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের জনগণ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওই বঞ্চনা থেকে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কক্সবাজারের যাত্রাপথে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় দাঁড়ানো মানুষের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে। মানুষ অনেকদিন অপেক্ষা করেছে। টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খালেদা জিয়া ত্রাণ বিতরণে যাওয়ার পথে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমে মানুষ সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

বিএনপি নেতাদের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনকালীন সরকার ব‌্যবস্থা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা-সমঝোতায় আসতে ক্ষমতাসীনদের নেতিবাচক অবস্থানের মূল কারণ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে না পারা। খুব শিগগিরই এই ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি। সেজন‌্য দুই বিকল্প রেখে এগোচ্ছে দলটি। আসছে আরো কর্মসূচি। শেষ পর্যন্ত আলোচনার দ্বার খোলা রাখার পক্ষে দলটি। তবে আলোচনায় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতায় না আসলে রাজপথই হতে পারে শেষ ঠিকানা।

দলীয় সূত্র বলছে, খুব শিগগিরই দেশের বিভিন্ন জেলা সফরে যাবেন বিএনপি নেত্রী। উদ্দেশ‌্য, মানুষের মাঝে একধরনের গণজোয়ার সৃষ্টি করা। এরই মাঝে দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের গতিবিধি ও হস্তক্ষেপ পর্যবেক্ষনে রাখবে বিএনপি। পরিস্থিতি দেখে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে চুড়ান্তভাবে সংলাপের ডাক দেবে বিএনপি। এর মধ‌্যে নিরপেক্ষ সরকার ব‌্যবস্থার একটি রূপরেখাও দেবে দলটি। বিএনপি চায় নির্বাচনকালীন সরকার ব‌্যবস্থা নিয়ে সব মহল থেকে একটা চাপ আসুক। অতীতের মতো রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এড়িয়ে কীভাবে সরকারকে বাধ‌্য করা যায় সেই ধরনের কর্মসূচির কথা ভাবছে দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার সব পথ বন্ধ হলে রাজপথই বেছে নিতে পারে বলে জানিয়েছে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের সূত্র।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে নেতিবাচক অবস্থানে থাকলেও দলটিকে অবশ্যই সমঝোতায় আসতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) কখনো সমঝোতায় আসতে চায়নি, কিন্তু করতে হয়েছে, সমঝোতায় বসতে হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি আছে। সমঝোতা এবং আলোচনা ছাড়া কখনও এখানে কিছু হয় নি।’

‘অবশ্যই তাদের আলোচনায় আসতে হবে। যত কিছুই বলুক আলোচনায় আসতে হবে। আলোচনায় না আসলে এটাই প্রমানিত হবে, তাদের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। শুধু ক্ষমতায় থাকতে চায় এবং এটাই একমাত্র ইচ্ছা’, বলেন বিএনপির এই নেতা।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না জেনেই সব ‘ভালো প্রস্তাবগুলো’ তারা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সংঘাত চাই না। আমরা সমঝোতার মধ্য দিয়ে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন চাই। বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেওয়া নয়, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ নভেম্বর ২০১৭/রেজা/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel