ঢাকা, শনিবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৮ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

উদ্যানে জনসমুদ্রের ঢেউ তুলতে চাইছে বিএনপি

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-১১ ২:২৮:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-১২ ৮:৫৯:০১ এএম

এস কে রেজা পারভেজ : প্রায় দুই বছর পর সমাবেশের মতো বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি নিয়ে আসছে বিএনপি। এই সুযোগটির পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করে সরকারকে এক ধরনের বার্তা দিতে চাইছে দলটি। নির্বাচনকালীন সরকার ব‌্যবস্থা নিয়ে সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ায় নামার আগে এই সমাবেশকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। তারা চাইছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসমুদ্রের ঢেউ তোলার।

কার্যত ঘরোয়া রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকা বিএনপি মাঠের কর্মসূচিতে অনেক দিন ধরেই নেই। তাই দীর্ঘ বিরতির পর জনসভার মতো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের কাছে তৈরি হয়েছে অন‌্য ধরনের উন্মাদনা, বাড়তি কৌতুহল। এটিকেই কাজে লাগিয়ে ঢাকায় ‘অভুতপূর্ব’ এক সামবেশ আয়োজনের টার্গেট দলটির, যেখানে অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক লোক সমাগমের কথা ভাবছেন দায়িত্বশীল নেতারা।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সমাবেশ সার্থক করতে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৎপরতা তারই ইঙ্গিত দেয়। তাছাড়া হঠাৎ করেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে চাঙা ভাবও দেখা দিয়েছে। ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ‌্যে রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানের ওই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব‌্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশ থেকে তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব‌্য রাখবেন- এই প্রত‌্যাশা নেতাকর্মীদের।

এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৫ জানুয়ারিতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রাজনৈতিক সমাবেশ করেছিল বিএনপি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে ওই সমাবেশটি করে বিএনপি। প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানের পরিবর্তে তখন বাধ‌্য হয়ে নয়াপল্টনে সমাবেশ করে তারা।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন নেতারা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের যতগুলো প্রস্তুতি সভা বা যৌথ সভা হয়েছে তাতে এই বিষয়ের ওপরই জোর দিয়েছেন দায়িত্বশীলরা। নির্বাচনের প্রায় বছরখানেক আগে হওয়া এই সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির পরিকল্পনায়ও রয়েছে ভিন্নতা। সমাবেশের আদলে এই কর্মসূচির মাধ‌্যমে দলটি ব‌্যাপক সংখ‌‌্যক মানুষ জড়ো করে এটাই দেখাতে চাইছে যে, নিকট অতীতে এই ধরনের জনসভা কখনো হয়নি। নির্বাচনকালীন সরকার ব‌্যবস্থা নিয়ে সরকারের সঙ্গে একটি বোঝাপড়ায় আসার আগে ক্ষমতাসীনদের এক ধরনের বার্তা দিয়ে রাখতে চাইছে বিএনপি। সেজন‌্য বিপুল সংখ‌্যক লোক সমাগমের টার্গেট নিয়ে সব ইউনিটগুলোর দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সমাবেশ উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি শান্তিপূর্ণ এই সমাবেশে বিপুল সংখ‌্যক লোক সমাগম ঘটবে। মানুষ দু:শাসনের বিরুদ্ধে তাদের মৌনসম্মতি জানাতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সমাবেশে জড়ো হবে।’

দলটির একটি সূত্র জানিয়েছ, ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকা থেকে বিপুল সংখ‌্যক লোক এসে সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানের এই সমাবেশে যোগ দেবেন। এর আগে সমাবেশকে কেন্দ্র করে পরিবহন, খাবারের দোকানগুলোতে সরকারের এক ধরনের অলিখিত অবরোধ তৈরি করার অভিজ্ঞতা থেকে এবার বিষয়টিকে গোপন রাখতে চাইছেন দলটির নেতারা। এরই মধ‌্যে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ নিকট দূরের জেলাগুলো থেকেও লোক সমাগমের জন‌্য স্থানীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাবেশে উপস্থিতির এক ধরনের প্রতিযোগিতায় নামবে দলটির মনোনয়ন প্রত‌্যাশীরা। যদিও বিষয়টিকে সেভাবে দেখতে চাইছে না বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা। তারা বলছেন, ‘মানুষ দু:শাসনের বিরুদ্ধে তাদের রায় জানাতে স্বত:স্ফূর্তভাবেই সমাবেশে যোগ দেবেন।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম‌্যান আহমদ আজম খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মানুষ কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে তাদের মনোভাব জানানোর জন‌্য মুখিয়ে আছে। বিএনপির রোববারের সমাবেশে এইর প্রতিফলন ঘটবে। মানুষ পরিবর্তন চায়, তারা ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। ভোটের মাধ‌্যমে তাদের মতামতের প্রতিফলন অনুযায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা দেখতে চায়। সেজন‌্য নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক ও জনগণের মাঝে এক ধরনের জাগরণ তৈরি হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিতির মাধ‌্যমে তারা সরকারকে এই বার্তা দেবে।’

সমাবেশের ব্যাপারে কোনো প্রকার শর্ত আরোপ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আশা করি সরকার সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে সহায়তা করবে।’

এদিকে সমাবেশের দু’দিন আগে শুক্রবার বিকেলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে নিয়ে মির্জা আব্বাস সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান। সেখানে মাঠের কোথায় মঞ্চ নির্মাণ হবে তার একটি সম্ভাব্য নকশা নিয়ে মঞ্চ নির্মাতার সাথে আলাপ করেন।

সরকারের কাছে বিএনপি রাজনৈতিক আচরণ প্রত‌্যাশা করে জানিয়ে উস্কানি না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার জন্য আমরা সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করবো, তারা যেন কোনো রকমের উস্কানিমূলক কার্যক্রম না করে এবং আমাদেরকে সহযোগিতা করে। আমরা সরকারের কাছ থেকে রাজনৈতিক আচরণ আশা করবো। একই সঙ্গে আমরা অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ সকলের সহযোগিতা চাইব, যাতে আমরা নিঃসংকোচে জনমত প্রকাশ করতে পারি।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে ‌‌‘ব্যাপক লোক সমাগম’ ঘটবে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ নভেম্বর ২০১৭/রেজা/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel