ঢাকা, শুক্রবার, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

কী বার্তা দিলেন খালেদা জিয়া?

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-০২ ১০:৩৬:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-০৪ ৩:২৬:৪৭ পিএম

এস কে রেজা পারভেজ : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে দু’দফায় সরকার বিরোধী আন্দোলনের পর প্রায় সবগুলো কর্মসূচির জন্যই সরকারের অনুমতি নিতে হয়েছে বিএনপিকে। কিছু কর্মসূচির অনুমতি মিললেও বেশিরভাগই আলোর মুখ দেখেনি। অনুমতি না মিললে বিএনপি সমাবেশ করা থেকে বিরত থেকেছে।

তবে নতুন বছরের শুরুতে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (১ জানুয়ারি)  উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রসমাবেশ করার জন্য অনুমতি নেয় সংগঠনটি। সকাল ১০টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ তৈরিসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিতে গেলেও তারা ঢুকতে পারেনি। এরপর বেলা ২টার দিকে তারা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে বিক্ষোভ করে।

বেলা আড়াইটার পর সেখানে যান বিএনপির মহাসচিবসহ বেশ কয়েকজন নেতা। কিন্তু কিছুতেই মিলনায়তনের গেট না খোলায় এক পর্যায়ে মিলনায়তনের বাইরেই ট্রাক এনে অস্থায়ী মঞ্চ সাজিয়ে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এরই মধ্যে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে যান খালেদা জিয়া। সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে মিলনায়তনের দরজা খুলে দেয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ। পরে ভেতরে গিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটা কি ধরনের গণতন্ত্র। দেশে যে গণতন্ত্র নেই সেটি আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১৮ হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার বছর।’



এর আগে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব’ করার শামিল বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু আজকে হয় নাই। গতকালও সারা দেশে পুলিশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলোতে তাণ্ডব চালিয়েছে। সেসব জায়গায়ও অনুমতি দিয়ে যখন নেতাকর্মী জড়ো হয়েছে, তখন পুলিশ সেখানে গিয়ে মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে, আহত করেছে এবং গ্রেপ্তার করেছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, এই দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কোনো স্পেস নেই।’

দলীয় সূত্র বলছে, সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মামলা দ্রুত নিস্পত্তির চেষ্টা এবং আলোচনার প্রশ্নে সরকারের অনমনীয় আচরণ বিএনপিকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। এই পর্যায়ে সরকারের সঙ্গে দর কষাকাষির প্রশ্নে ছাড় দেওয়ার অবস্থান থেকে ক্রমেই সরে আসতে চাইছে দলটি। খালেদা জিয়ার মামলায় রায় নেতিবাচক হলে বিএনপি পুরোপুরি হার্ডলাইনে চলে যাবে। দলটির নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের নেতারাও এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন। আজকে বিএনপি নেত্রীর চমকপ্রদ উপস্থিতির মাধ্যমে বিএনপি সরকারের প্রতি একটি বার্তা দিতে চেয়েছে।

দলটির নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে সরকার তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চাইছে। তারা এক প্রকার হুমকি দিয়েই রেখেছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তাছাড়া হঠাৎ করেই ‘দেশব্যাপী বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার’ করার বিষয়টি পর্যবেক্ষন করছে বিএনপি।

বিএনপির কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের নেতার মতে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে অবস্থানে আছে, তাতে তারা বিএনপির সংলাপের ডাকে সাড়া দেবে না, যদি না সেভাবে চাপ তৈরি করা যায়। তবে বিএনপি আরো কিছুদিন ছাড় দেওয়ার মানসিকতা দেখাবে। কিন্তু পরিস্থিতি না পাল্টালে বিএনপির হার্ডলাইনে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।



সেক্ষেত্রে কি ধরনের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি মাঠে নামতে চাইছে জানতে চাইলে তারা সেই বিষয়টি সময়ের ওপর ছেড়ে দেন। মঙ্গলবার সমাবেশস্থলে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি সরকারের কাছে এক ধরনের বার্তা বলে মন্তব্য করেন তারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সমাবেশ নিয়ে সরকার দিনভর যে নাটক করেছে, তা স্পষ্টত গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া। সরকার কোনোভাবেই চাইছে না বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিক। এজন্য তারা ষড়যন্ত্র করছে একটি ঘোলাটে পরিবেশ তৈরি করে বিএনপিকে ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’ ফেলে দিতে। এটা সরকারের পরিকল্পিত আচরণ।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার আগামী নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো ধরনের নাটক করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনে বিএনপি সর্বোচ্চ হার্ডলাইনে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি গত কয়েক বছরে সংলাপের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সাড়া দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি হার্ডলাইনে গেলে দায় সরকারের। সমাবেশে আসার মাধ্যমে বিএনপি প্রধান সেই বার্তা দিয়ে দিয়েছেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সরকার বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার পালনের ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। সেই অধিকার আমাদের জোর করে আদায় করতে হচ্ছে। কিন্তু আমরা তা চাই না। আমরা চাই আমাদের অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে। কিন্তু সরকার সেই সুযোগ দিচ্ছে না।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৮/রেজা/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Walton