ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

গোপালগঞ্জের গ্রামে নৈতিক শিক্ষার পাঠশালা

বাদল সাহা : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৮ ২:২৭:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-১৩ ২:৪৪:৪৯ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : জেলার বিলাঞ্চল খ্যাত কোটালীপাড়ার প্রত্যন্ত এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বুলেট মল্লিক বাদল নামের এক যুবক। গ্রামের বাড়ির আঙিনায় ‘হেনা শিশু কানন বিদ্যা নিকেতন’ নামে গড়ে তুলেছেন ১০টি পাঠশালা।

এসব পাঠশালায় শিশুদের  প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতার শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে।বঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় ফিরিয়ে আনাই এই শিক্ষার লক্ষ্য।

এসব পাঠশালা ঘুরে দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ এলাকা কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। এসব গ্রামের শিশুরা অন্য এলাকার আর দশটা শিশুর মতো গড়ে উঠতে পারে না। কয়েক কিলোমিটার দূরে দূরে রয়েছে স্কুল। ফলে  এসব এলাকার শিশুরা স্কুলে যেতে না পারায় বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার আলো থেকে। অন্য দিকে যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায়ও অনেক শিশু শিক্ষা থেকে ঝরে যাচ্ছে।
 


এসব বঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনার কথাই ভেবেছেন এলাকারই যুবক বুলেট মল্লিক বাদল। তিনি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন ‘হেনা শিশু কানন বিদ্যা নিকেতন’ নামে ১০টি পাঠশালা।

এসব পাঠশালায় শিশুদের বিনামূল্যে ব্যাগ, খাতা, কলম, পেন্সিল, স্কুল পোশাকসহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি পাঠশালাগুলোতে ধর্মীয়, নৈতিক শিক্ষা, খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা করানো হয় শিশুদের। ফলে আগ্রহ নিয়ে পাঠশালাতে যাচ্ছে শিশুরা।

প্রতিটি পাঠশালায় ২৫/৩০ জন করে শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করে আসছে গত দেড় বছর ধরে। পাঠশালায় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অক্ষর জ্ঞান দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগি করে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতি পাঠশালায় এক করে শিক্ষক রয়েছেন। যারা বিনা পয়সায় শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।
 


বুলেট মল্লিক বাদল জানালেন, নিজের রোজগারের ও বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের টাকায়ই চলছে এ পাঠশালাগুলো। নৈতিক শিক্ষা দেওয়ায় শিশুরা ভদ্র আর দ্বায়িত্ব নিয়েই বেড়ে উঠছে। তবে পাঠশালার ঘর মাত্র একটি হওয়ায় বৃষ্টি হলেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বুলেট মল্লিক বাদল কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ি গ্রামের সুভাষ মল্লিকের ছেলে। তিনি ২০১৩ সালে এলএলবি পাশ করেছেন। এখন ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

সেতু মল্লিক নামে একজন অভিভাবক জানালেন, এলাকার অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র। সন্তানদের প্রাইভেট পড়ানোর সঙ্গতি নেই। অনেকেই প্রাথমিক গন্ডি পার হওয়ার আগেই ঝরে যাচ্ছিলো। এখন সরকারি প্রাইমারি ছুটির পর শিক্ষার্থীরা হেনা শিশু কানন বিদ্যা নিকেতনের পাঠশালায় আসে। এখানে বসেই তারা প্রতিদিনের স্কুলের পড়া সম্পন্ন করে। পাঠশালা থেকে তাদের ড্রেস, ব্যাগ, খাতা, পেন্সিল, কলম, চক, সিলেট বিনামূল্যে দেওয়া হয়।লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদেরকে নৈতিক শিক্ষা ও গান-বাজনা শেখানো হয় । গত বছর এ সব শিশুরা ভালো রেজাল্ট করেছে।
 


শিক্ষক বিজয় মল্লিক ও তপু মল্লিক বলেন, ‘এই পাঠশালায় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অক্ষর জ্ঞান দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগি করে গড়ে তোলা হয়। এ ছাড়া প্রতিদিনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির শিশুরা স্কুল ছুটির পর এ পাঠশালায় আসে। তারা এখানে বসে স্কুলের প্রতিদিনের সব পড়া সম্পন্ন করে বাড়ি ফিরে যায়। বাড়িতে গিয়ে আর তাদের পড়াশোনা করতে হয়না। এখান থেকে শিশুরা নৈতিক শিক্ষাও গ্রহণ করছে ।

পাঠশালার উদ্যোক্তা বুলেট মল্লিক বাদল বলেন, ‘বঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় শামিল করতেই আমি পাঠশালা করার চিন্তা করি। দেড় বছর আগে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব সহ আরো অনেকের আর্থিক সহযোগিতায় স্কুল শুরু করি। এখন ১০টি স্কুল চলছে। আরো ১৪টি স্কুল করার উদ্যোগ নিয়েছি।’




রাইজিংবিডি/গোপালগঞ্জ/২৮ এপ্রিল ২০১৮/বাদল সাহা/টিপু

Walton Laptop
 
     
Walton