ঢাকা, রবিবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

জাল ট্রেড লাইসেন্স-ইটিআইএনে ঋণ নেন শাহজাহান ও নিরঞ্জন

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৬ ১০:০০:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-০৬ ১০:০০:০৫ পিএম

এম এ রহমান মাসুম : জাল ট্রেড লাইসেন্স ও ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ইটিআইএন) ফারমার্স ব্যাংকে জমা দিয়ে ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। ওই টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে তার বাড়ি বিক্রির টাকা হিসেবে দেওয়া হয়।

রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ তথ্যের সত্যতা পান সংস্থাটির অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।

মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জিজ্ঞাসাবাদে ঋণ সংক্রান্ত অনেক তথ্য দিয়েছেন। যা যাচাই-বাছাই করা হবে। তবে তাদের দেওয়া নথি-পত্র যাচাই করে দেখা গেছে, বন্ধকি সম্পদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সত্যতা পাওযা গেলেও ৪ কোটি টাকা ঋণ নিতে তারা যে ট্রেড লাইসেন্স ও ইটিআইএন দিয়েছে তা জাল। ওই সার্টিফিকেটের কোড নম্বরের বাস্তব প্রমাণ মেলেনি।

জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা কখন কাকে ডাকবে কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করবে এটা তার বিষয়। এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না।

অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মো. শাহজাহান সাংবাদিকদের জানান, রঞ্জিত তার বন্ধু। টাঙ্গাইলের ধরবাড়ী এলাকায় তার দোকান আছে। রঞ্জিতের কথামতো ঋণ নিয়ে তাকে দিয়েছেন। রঞ্জিত সে টাকা কাকে দিয়েছেন সেটা তিনি বলতে পারেন না।

অপরদিকে নিরঞ্জন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কৃষিকাজ করেন। চাচার কথামতো তাকে সহায়তার জন্য ঋণ নিয়েছেন।

তবে ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার সঙ্গে আসা তাদের দুই আইনজীবী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, প্রাক্তন প্রধান বিচাররপতি এস কে সিনহাকে তার বাড়ি বিক্রির ৪ কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। আইনজীবীরা হলেন- আফাজ মাহমুদ রুবেল এবং নাজমুল আলম।

আইনজীবীরা বলেন, এস কে সিনহার উত্তরার ৬ তলা বাড়িটি ৫ কাঠা জমির ওপর ছিল। এ বাড়িটি ২০১৬ সালের শুরু দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্ত্রি রায় ৬ কোটি টাকায় ক্রয় করেন। এ সময় বায়না দলিলকালে তিনি ২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিলেন। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য নিরঞ্জন ও শাহজাহানের সহযোগিতা নেন। নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা শান্ত্রি রায়ের স্বামী রঞ্জিতের চাচা (চাচা শ্বশুর)। আর শাহজাহান রঞ্জিতের বন্ধু।

তারা বলেন, বাড়ি কিনতে বাকি ৪ কোটি টাকা ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে নিরঞ্জন ও শাহজাহান ২ কোটি টাকা করে মোট ৪ কোটি টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শান্ত্রি রায় জামিনদার হন। জামিনদার হিসেবে টাঙ্গাইল ও ঢাকার আশপাশের বেশকিছু জমি বন্ধক রাখেন শান্ত্রি।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে জমির বায়না দলিল হয় এবং ওই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহা সোনালী ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পে-অর্ডারের পরে ২৪ নভেম্বর হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি শান্ত্রি রায়কে বুঝিয়ে দেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণের নামে আত্মসাত ও পে-অর্ডারে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি টাকা জমা দেওয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ এখনো চলছে। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ওই দুই ব্যবসায়ীর ঢাকার উত্তরায় তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং টাঙ্গাইলের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়।

তবে দুদকের তলবি নোটিশে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ নেই। তবে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নাম উল্লেখ করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ২ কোটি টাকা করে মোট ৪ কোটি টাকা ঋণ নেন শাহজাহান ও নিরঞ্জন। এরপর একই বছরের ১৬ নভেম্বর সেই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন। ওই বিষয়ে সম্প্রতি দুদকে আসা এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তা যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংক যাত্রা শুরুর চার বছর না যেতেই নানা অনিয়মে ধুঁকছে। এরই মধ্যে চাপের মুখে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও ছাড়তে হয়েছে মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ মে ২০১৮/এম এ রহমান/রফিক

Walton Laptop
 
   
Walton AC