ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

সফলতার পথে ৩০ লাখ শহীদ স্মরণে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১৭ ৯:০৪:৪৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-২৭ ৮:০৮:৫৭ পিএম

হাসান মাহামুদ : মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী এক বছরে সারা দেশে ৩০ লাখ গাছের চারা লাগানোর ঘোষণা রয়েছে সরকারের। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্তরে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। একদিন পর প্রধানমন্ত্রী এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং স্বতস্ফুর্ততায় এখনই কর্মসূচির সফলতা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২ এপ্রিল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে এবার জুন মাসে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের সময় সারা দেশে ৩০ লাখ গাছ লাগাবে সরকার।  এই মহতী কার্যক্রমে যোগ দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত হয়, দেশে বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ১৭ লাখ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। তাদের কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে সফল করা হবে। চারা উৎপাদনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় বন বিভাগকে।

এরপরের সব কার্যক্রম অনেকটা রূপকথার মতোই। কেবল দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নয়, দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানও এই কাজে এগিয়ে এসেছে। দেশের অনেক স্থানে সরকারের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের মতো করে কর্মসূচি হাতে নিতে দেখা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এসব সংস্থার পক্ষ থেকে সড়ক এবং বিভিন্ন স্থাপনাকে ঘিরে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে আসা তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে দেশের ২০টির মতো স্থানে শহীদ স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এসব স্থানে বেশকিছু চারা রোপণও করা হয়েছে। যদিও তারা অপেক্ষায় আছেন প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের। এরপর এসব স্থানে দ্রুত এগিয়ে চলবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন। এরপর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উদযাপনের লক্ষ্যে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশি প্রজাতির এসব গাছ লাগানো হবে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনের পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাণিজ্য মেলার মাঠে সাত দিন পরিবেশ মেলা এবং মাসব্যাপী বৃক্ষ মেলা চলবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এতে একদিকে প্রতীকীভাবে আমাদের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে, পাশাপাশি এটি দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে ৩০ লাখ গাছের চারা সরবরাহ করা হয়েছে। কোন কোন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসব চারা রোপণ করা হবে-তাও ঠিক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে এই কর্মসূচির বিষয়ে আশাতীত সাড়া পাওয়া গেছে। ৩০ লাখ চারা রোপণের বিষয়টি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর একটি প্রয়াস মাত্র। পরিস্থিতির বিবেচনায় মনে হচ্ছে এই কার্যক্রমে আরো বেশি চারা রোপণ হতে পারে। তবে ৩০ লাখ চারা রোপণ হয়েছে, আমরা এটাই ধরে নেব।

মন্ত্রী আরো বলেন, এরই মধ্যে আমরা জেনেছি অনেকে বিষয়টিকে প্রতীকী হিসেবে নিয়ে নিজেরাও কার্যক্রম হাতে নিচ্ছেন। যেমন, একটি জেলার জেলা পুলিশ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে শেরপুরে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সরকারের মূল কর্মসূচি ৩০ লাখ চারা রোপণের বাইরে হলেও এসব কর্মসূচির অবশ্যই আবেদন রয়েছে। বিশেষত্বও রয়েছে।

কর্মসূচি উপলক্ষে দু’দিন আগে রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, এতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হলেও এবার জুন মাসে রোজা থাকায় এবং গাছের চারা প্রস্তুতির জন্য দিবসটি পালনের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়। এবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি।’ আর ‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই, নগর-প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই' প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ মেলা হবে। পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া স্টলের মধ্যে নির্বাচিত তিনটি স্টলকে সনদ দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশে বর্তমানে মোট আয়তনের সাড়ে ১০ শতাংশ বন রয়েছে। ২৫ শতাংশ বন থাকা দরকার। বাস্তবতা হচ্ছে জায়গা ও জনসংখ্যা মিলিয়ে তা ২০ শতাংশ উন্নীত করা সম্ভব। আগের থেকে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। সামাজিক বনায়ন হচ্ছে, অনেকেই জমিতে গাছ লাগাচ্ছেন। দেশের ২২ শতাংশের মত জায়গা সুবজ আচ্ছাদনের মধ্যে আছে। কেবল বনায়নের মধ্য দিয়ে নয়, সামাজিক বনায়ন ও গৃহস্থলী বনায়ন করতে পারলে আমরা ২৫ শতাংশে নিতে পারব। এজন্য সবাইকে আরো সচেতন করতে হবে।

পরিবেশবিদদের মতে, সরকারের গৃহীত এ উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায়ও অনন্য অবদান রাখতে পারে। বিশ্বে তাপ ও উষ্ণতা বাড়ছে।  ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে আগামী ৪০ বছরের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মানুষের গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে মাত্র প্রতিষেধক বেশি করে গাছ লাগানো। বাংলাদেশের আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি প্রয়োজন। কিন্তু আছে ১১ ভাগেরও কম। যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২২ ভাগ, মিয়ানমারে ৪৮ ভাগ এবং ভুটানে ৬৯ ভাগ বনভূমি রয়েছে। বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এই অবস্থায় সরকারের গৃহীত এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ জুলাই ২০১৮/হাসান/ইভা

Walton Laptop
 
     
Walton