ঢাকা, রবিবার, ৬ কার্তিক ১৪২৫, ২১ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সুদহার নিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে ‘জেন্টেলম্যান এগ্রিমেন্ট’

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৬ ৭:৫৯:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৮-৩১ ৭:৪৪:২৪ পিএম

কেএমএ হাসনাত : ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো অনেকগুলো ব্যাংক তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। এ অবস্থায় ঋণের সুদের কমাতে আবারো অনুরোধ জানানো হয়েছে। যে ব্যাংকগুলো এখনো ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনেনি তারা দ্রুত নামিয়ে আনবে বলে সরকারে সঙ্গে ‘জেন্টেলম্যান এগ্রিমেন্ট’ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি সংস্থাসমূহ কর্তৃক সরকারি বরাদ্দ ও নিজস্ব অর্থের আমানত সংরক্ষণ সংক্রান্ত’ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বৈঠকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী ৮ আগস্ট বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মালিকদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ সময় তারা সরকারি অর্থের একটি অংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রাখা এবং করপোরেট ট্যাক্স কমানোসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরেছিল।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং চলতি বাজেটে করপোরেট ট্যাক্সও কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বেশকিছু বেসরকারি ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ করার ঘোষণা দিলেও কিছু ব্যাংক এখনো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকার কোনো ব্যাংকের ঋণের সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর নির্দেশনা দিতে পারে না। খোলা বাজার অর্থনীতিতে এটা সম্ভব নয়। বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সরকার এখানে হাত দিতে পারে না। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, বিশেষ করে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার ব্যাংকগুলোকে কিছু সুবিধা দিয়ে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমাতে অনুরোধ করেছে।

সরকারের সুবিধা নিয়েও যদি কোনো ব্যাংক ঋণের সুদের হার না কমায়, সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কী করণীয় হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো সঙ্গে ‘জেন্টেলম্যান এগ্রিমেন্ট’ হয়েছে। তারা এমনটা করবে বলে মনে হয় না। তবে কেউ এমনটা করলে সরকারের হাতে হাজারটা ব্যবস্থা আছে।

এর আগে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার ফলে দেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিনিয়োগকারীদের এটা অনেক দিনের দাবি ছিল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কোনো নির্দেশনা দিতে পারি না। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে দিতে পারে। তাদের সঙ্গে ঋণ ও আমানতের সুদের হার নিয়ে কথা বলার জন্যই ডেকেছিলাম। এ বিষয়ে তাদের কোনো নির্দেশনা আমি দেইনি। তবে বিষয়টি কিছু করা যায় কি না, সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা পুরো বিষয় পর্যলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঋণের সুদের হারের বিষয়ে যে ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়েছেন তার আলোকেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার যাতে না বাড়ায় সে বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা বলেছি। তবে তাদের যে অর্থ দেওয়া হয়েছে তা মুনাফা অর্জনের জন্য দেওয়া হয়নি। তাদেরকে বলা হয়েছে, এসব অর্থ মুনাফা খাতে বিনিয়োগ করা যাবে না।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে আমি নির্দেশনা দিতে পারি। তবে আজ তাদেরকেও কোনো নির্দেশনা দেইনি। আমানতের ওপর সুদের হার তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কারণ, লোকজন এখানে বিট করে। আমানতের ওপর সুদের হার যাতে না বাড়তে পারে সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে শেষে সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। 

বিএবির সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের ধারা চাঙ্গা করতে জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে তিন মাস মেয়াদি আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৬ শতাংশ আর ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ। কোনো ব্যাংক এর চেয়ে বেশি সুদ নিতে পারবে না। যেসব ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ আগস্ট ২০১৮/হাসনাত/রফিক

Walton Laptop
 
     
Walton