ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

শেয়ার কেলেঙ্কারি: ৬৫ কোটি টাকা আত্মসাতে আসছে আরো ১২ মামলা

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০১ ৮:৩৪:১৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-০২ ৩:৫৩:৩৪ পিএম

এম এ রহমান মাসুম : শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে আরো প্রায় ৬৫ কোটি টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অভিযোগে শিগগিরই আরো ১২ মামলা করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এসব মামলায় ফাঁসছেন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ঊর্ধ্বতন পাঁচ কর্মকর্তা ও ১০ ব্যবসায়ী। আগামীকালই এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করবেন বলে সংস্থাটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানে সম্প্রতি বেশকিছু নথিপত্র দুদক কর্মকর্তাদের হাতে আসে। যেখানে মামলা দায়ের করার মতো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায় দুদক। এরই মধ্যে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা  আত্মসাতের অভিযোগে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের প্রাক্তন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও সহকারী মহাব্যবস্থাপকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ আগস্ট মামলা দায়ের করে দুদক।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা বেশ আগে থেকে দুদকে অনুসন্ধান পর্যায়ে ছিল। কিন্তু অকাট্য প্রমাণের অভাবে তা আইন কাঠামোতে আনা সম্ভব হয়নি। আমাদের অনুসন্ধানে সম্প্রতি আইসিবির বেশকিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। গত বৃহস্পতিবার ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরো ৬৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় ১২ মামলা দায়ের করা হবে। সম্ভাব্য আসামির সংখ্যা হবে ১৫। এর মধ্যে ১০ জন ব্যবসায়ী ও ৫ জন আইসিবিআর বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তা। অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে, দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য এ বিষয়ে রাইজিংবিডিকে বলেন, শেয়ারবাজার থেকে ৬৪ কোটি ৫৩ লাখ আত্মসাতে আরো ১২ মামলার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। তবে মামলা দায়েরের আগে আসামিদের পরিচয় দেওয়া আইনসিদ্ধ হবে না। মামলা দায়ের করার পরই বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ৩০ আগস্ট ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রাক্তন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) টিপু সুলতান ফারাজি, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. এহিয়া মন্ডল, মোহাম্মদ সামছুল আলম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ধনঞ্জয় কুমার মজুমদার, আইএফআইসি ব্যাংকের পল্লবী শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সামাদ ও ব্যবসায়ী মো. শরিকুল আনামসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। রাজধানীর রমনা মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হন।

এর মধ্যে আইসিবির প্রাক্তন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) টিপু সুলতান ফারাজি, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. এহিয়া মন্ডল ও আইএফআইসি ব্যাংকের পল্লবী শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সামাদকে মৎস্য ভবন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সংস্থাটি। যারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

যদিও আদালতে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন ও ফিরোজ উদ্দিন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তারা বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তারা কোনো অপরাধ করেননি। নিজেদের স্বার্থে তারা কিছু করেননি। দুদক ডেকে নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। তাছাড়া আসামিরা অসুস্থ, যেকোনো শর্তে জামিন দিতে পারেন। জামিন দিলে তারা পলাতক হবেন না।

অন্যদিকে, দুদকের পক্ষে মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। জামিন দিলে তাদের পলাতক হওয়ার আশঙ্কা আছে। আমি তাদের জামিনের বিরোধিতা করছি।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ সেপ্টেম্বর ২০১৮/এম এ রহমান/রফিক

Walton Laptop
 
     
Walton