ঢাকা, বুধবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

পেট্রোবাংলার চেয়ারম‌্যান ও বিসিএমসিএলের পরিচালকদের তালিকা তলব

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৫ ৮:৪১:৫৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-১৩ ৩:৩৪:৪৮ পিএম

এম এ রহমান মাসুম : ২৩০ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাতের মামলা তদন্তে ২০০৪ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা পেট্রোবাংলার চেয়ারম‌্যান ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমেটেডের (বিসিএমসিএল) পরিচালকদের তালিকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল ইসলামের সই করা চিঠি বুধবার পেট্রোবাংলার বর্তমান চেয়ারম‌্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।

দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে কয়লা আত্মসাত মামলার তদন্তের স্বার্থে ২০০৪ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১২ বছরে দায়িত্বে থাকা পেট্রোবাংলার চেয়ারম‌্যানগণের নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ওই সময়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমেটেডের পরিচালনা পর্ষদের সদস‌্যদের নাম, বর্তমান পদবী ও স্থায়ী ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছে।

কয়লা আত্মসাতের মামলা তদন্তে ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলা ও বিসিএমসিএলের ৩৭ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আরো কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। এ কারণেই পেট্রোবাংলার প্রাক্তন চেয়ারম‌্যান ও বিসিএমসিএলের পরিচালকদের তালিক চাওয়া হয়েছে বলে দুদকের অন‌্য একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে জানিয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট বিসিএমসিএলের প্রাক্তন এমডি হাবিব উদ্দিন আহমেদ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি, কয়লা চুরি বা দুর্নীতি হয়নি। যেটুকু কয়লা গায়েব হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেটুকু প্রকৃত অর্থে সিস্টেম লস। তদন্তে এক সময়ে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। সে বিশ্বাস বা আস্থা আমার রয়েছে। আমাদের এখানে যেটুকু কয়লা উবে গেছে তার পরিমাণ ১.৪ শতাংশের বেশি হবে না। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য।

১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা ঘাটতির অভিযোগে বিসিএমসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বাদী হয়ে কোম্পানির সদ্য প্রাক্তন এমডি হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনকে আসামি করে গত ২৪ জুলাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানায় একটি মামলা করেন। তফসিলভুক্ত হওয়ায় অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক।

মামলার আসামিরা হলেন- বিসিএমসিএলের মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক খালেদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদ, মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) আকরামুল হক, উপব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) খলিলুর রহমান, উপব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মোরশেদুজ্জামান, উপব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহিদুর রহমান, উপব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন নাথ বর্মণ, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অপারেশন) জোবায়ের আলী, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি ও গোপাল চন্দ্র সাহা, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন), কোম্পানি সেক্রেটারি আবুল কাশেম প্রধানিয়া ও মোশারফ হোসেন।

মামলার পরপরই ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ২১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চিঠি দেয় দুদক। কাগজে-কলমে বেশি কয়লার মজুত দেখিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খতিয়ে দেখতে ২৩ জুলাই তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিল দুদক।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮/এম এ রহমান/রফিক

Walton Laptop