ঢাকা, রবিবার, ৬ কার্তিক ১৪২৫, ২১ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বাংলাদেশ মিশনগুলোতে কর্মরতদের পোশাক ভাতা দ্বিগুণ হচ্ছে

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৫ ৯:১৩:৪২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-০৫ ৩:২৬:৫১ পিএম

কেএমএ হাসনাত : বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরতদের পোশাক ভাতা দ্বিগুণ হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে সায় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পোশাক ভাতা ৭ থেকে ১২ গুণ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো  পোশাকভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব সম্পর্কে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর ধরে এই ভাতা বৃদ্ধি করা হয়নি। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কথা বিবেচনায় এনে পোশাকভাতা বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে এই ভাতা সর্বোচ্চ ৮০ ভাগ বৃদ্ধি করা যায় বলে অর্থমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করা  হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই ভাতা দ্বিগুণ করার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। পররাষ্ট্র  ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহে নতুন পদায়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার হিসেবে প্রথম নিয়োগ পাওয়ার পর বর্তমান নির্ধারিত পোশাকভাতা রয়েছে  ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা। মিশনে প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবাহিত কর্মকর্তাদের পোশাকভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা। অবিবাহিত কর্মকর্তাদের ৪ হাজার ৮০০ টাকার পরিবর্তে ৪৫ হাজার টাকা। বিবাহিত যেকোনো স্টাফের ক্ষেত্রে ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৫ হাজার টাকা এবং অবিবাহিত স্টাফের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।

বিশেষ পোশাকভাতা ক্যাটাগরিতে (মস্কো, অটোয়া, বেইজিং ও স্টকহোম মিশনের জন্য) বিবাহিত কর্মকর্তার পোশাকভাতা ৬ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪০ হাজার টাকা। অবিবাহিত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিবাহিত স্টাফরা বর্তমানে পোশাক ভাতা পাচ্ছেন না। তাদের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং  অবিবাহিত স্টাফদের জন্য ১৪ হাজার টাকা পোশাক ভাতার প্রস্তাব করা হয়।

মিশনে প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবাহিত গাড়িচালক ও নন-ক্লারিক্যাল স্টাফদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পোশাকভাতা ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং অবিবাহিত গাড়িচালক ও নন-ক্লারিক্যাল স্টাফদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১ হাজার ২০০  টাকার পরিবর্তে ১২ হাজার টাকা করার অনুরোধ করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই এ সম্পর্কে একটি জিও জারি করবে বলে জানা গেছে। জিও জারির তারিখ হতে নতুন পোশাকভাতা কার্যকর হবে।

জানা গেছে, এর আগে পোশাকভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ ফরেন সার্ভিস রুলস অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশে মিশনসমূহে পদায়িত হলে কেবল প্রথমবার পদায়িত হওয়ার সময় এবং রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনার হিসেবে পদায়িত হওয়ার সময় দ্বিতীয়বার পোশাকভাতা পেয়ে থাকেন। ১৯৯৯ সালে এই পোশাকভাতা সর্বশেষ পুনঃনির্ধারণ করার পর গত ১৭ বছর তা বৃদ্ধি করা হয়নি। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল সকল দেশেই জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যয় প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য ৮ হাজার টাকা পোশাকভাতা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিদ্যমান পোশাকভাতা বর্তমান বাজারদরে এক সেট মানসম্মত পোশাক কেনাও সম্ভব নয়।

তবে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পোশাকভাতা বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত/ হাইকমিশনারদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পোশাকভাতা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার টাকা। মিশনে প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবাহিত কর্মকর্তাদের পোশাকভাতা ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১৮ হাজার টাকা। অবিবাহিত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৮০০ টাকার পরিবর্তে ৮ হাজার ৫০০ টাকা, বিবাহিত যেকোনা স্টাফের ক্ষেত্রে ৪ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা, অবিবাহিত যেকোনো স্টাফের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া, বিশেষ পোশাকভাতা (মস্কো, অটোয়া, বেইজিং ও স্টকহোম মিশনের জন্য) বিবাহিত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা, অবিবাহিত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা। অন্য স্টাফদের জন্য কোনো পোশাকভাতার প্রস্তাব করা হয়নি।

অন্যদিকে, বিবাহিত গাড়িচালক ও নন-ক্লারিক্যাল স্টাফদের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং অবিবাহিতদের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে আদেশ (জিও) জারির তারিখের পর থেকে এ ভাতা বৃদ্ধি কার্যকর হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার জন্য তৈরি সারসংক্ষেপে বলেছেন, ‘সরাসরি দ্বিগুণ করাই উত্তম হবে।’

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮/হাসনাত/রফিক  

Walton Laptop
 
     
Walton