ঢাকা, শুক্রবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অভাবে পাওয়া যাচ্ছে না শতভাগ সফলতা

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৭ ৮:০২:৫৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০৪ ৪:১৩:৫৬ পিএম
অলংকরণ : গিয়াস উদদীন সিজার

হাসান মাহামুদ : পোল্ট্রি ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানমুখী একটি সমৃদ্ধ শিল্প। দেশের অপার সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত। কিন্তু এ শিল্পকে ঘিরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর কার্যক্রমের অভাব রয়েছে। এমনকি খাতভিত্তিক সুষম উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতিমালার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।

জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে দেশের কোনো খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করা হয়নি সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এসব কারণে এখনো শতভাগ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লবের পথ দেখানো পোল্ট্রি শিল্পের।

আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্প নতুন বিপ্লবের পথ দেখিয়েছে। বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার ছোট-বড় খামার রয়েছে। এছাড়াও আছে ব্রিডার ফার্ম, হ্যাচারি ও মুরগির খাবার তৈরির কারখানা। পোল্ট্রি শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি, কাঁচামাল ও ওষুধ প্রস্তুতকারক এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে পোল্ট্রি শিল্প। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে কৃষির পরই সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে বাংলাদেশের অন্যতম বিকাশমান এই শিল্প। বাংলাদেশে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ মাংস এবং ডিম আসে পোল্ট্রি থেকে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, প্রায় ১ লাখ প্রাণী চিকিৎসক, পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ, পুষ্টিবিদ সরাসরি নিয়োজিত রয়েছেন। অনেক কর্মহীন যুবক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে গড়ে তুলেছে ছোট ও মাঝারি পোল্ট্রি খামার। এতে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ রয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা।

কিন্তু এখনো নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প হিসেবে পোল্ট্রি শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি সরকার। এ শিল্পের জৈবনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি নয় সব খামার : পোল্ট্রি ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানমুখী একটি সমৃদ্ধ শিল্প। দেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের অনেক পোল্ট্রি শিল্প গড়ে উঠেছে, যা কয়েক বছর আগে কেউ চিন্তাও করতে পারত না। এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে পোল্ট্রি খামার নেই। শুধু সরকারের অপেক্ষায় বসে না থেকে এবং চাকরির প্রতি নির্ভরশীল না হয়ে বাঙালি সমাজে নারী-পুরুষরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি নিয়ে পোল্ট্রি শিল্পকে সমৃদ্ধ অর্থকরী শিল্পে পরিণত করেছে। কিন্তু দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে গড়ে ওঠা অধিকাংশ খামারই বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি নয়। এমনকি জাতীয়ভাবেও পোল্ট্রি শিল্প পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিচালিত হয় না।

খামার তৈরি এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে চাহিদা এবং লেয়ার প্যারেন্টেরে হিসেব রাখা খুব জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে এই বিষয়টি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। যদিও এক্ষেত্রে খামারীদের তুলনায় নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব বেশি। কারণ, আমাদের দেশে মোট কত ডিম দরকার, আর এর জন্য কত লেয়ার প্যারেন্ট দরকার- এই চিন্তাটা কখনো প্রান্তিক খামারীরা করবে না। এটা করতে হবে তাদের, যারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছেন।

বিকাশমান খাত হিসেবে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দেওয়াও খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো বিজ্ঞানি, গবেষক, পোল্ট্রি খামারি ও উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে কাজ করার মতো প্লাটফর্ম তৈরি না হওয়ায় এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।

পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে বড় হলেও এর সমস্যা অনেক। গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির বিকাশমান খাতটি সম্প্রতি নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়ে এর প্রবৃদ্ধিতে ভাটা পড়েছে। বিভিন্ন কারণের মধ্যে রয়েছে- পোল্ট্রি ফিডের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুরগি ও ডিমের মূল্য হ্রাস। ফলে বিপর্যয়ের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে পোল্ট্রি খামারগুলো। বাচ্চার দাম বেড়েছে, এটিও এ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

ডিমের মূল্য উৎপাদন খরচের প্রায় কাছাকাছি। ডিমের জন্য কোনো সংরক্ষণাগারও নেই দেশে। ফলে এখন পর্যন্ত ফ্রিজিং করা ছাড়া ডিম নষ্ট হওয়া রোধের কোনো কার্যক্রম বা পদ্ধতি চালু হয়নি দেশে।

জাতীয়ভাবে পোল্ট্রি খামার তৈরির জন্য এবং পোল্ট্রি খাতের বিকাশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মতভাবে এই খাতটি গড়ে তোলার কোনো পরিকল্পনা বা কর্মসূচি এখনো সরকার গ্রহণ না করায় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। বিভিন্ন খামারে হঠাৎ করেই নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া, উৎপাদন কম হওয়া প্রভৃতি এর প্রভাব বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। ফলে ঝরেও পড়ছেন অনেক খামারি।

গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যান নেই : পোল্ট্রি এরই মধ্যে দেশে প্রতিষ্ঠিত একটি শিল্প হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এ শিল্পের উন্নয়নে কাজও করছে সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও অধিদপ্তর। পাশাপাশি খাতটি বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। কিন্তু এখনো এ খাতের কোনো গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যান নেই কিংবা এ জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। ফলে জাতীয় নীতি গ্রহণে এটি একটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পোল্ট্রি শিল্পের একটি গ্রহণযোগ্য ও উন্মুক্ত ও সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রয়োজন। যেখানে থাকবে বিভিন্ন পোল্ট্রির সংখ্যা, প্রতিদিনের ডিম, ব্রয়লার, বাচ্চা, খাদ্য ইত্যাদির উৎপাদন, হ্যাচারি ও ফিডমিলের উৎপাদন ক্ষমতা ও বর্তমান উৎপাদন, ওষুধ উৎপাদন এবং আমদানির সঠিক তথ্য। ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ের চাহিদার হিসেবও এতে উল্লেখ থাকা জরুরি। প্রয়োজন দেশে কতটা ডিম দরকার আর এর জন্য কত লেয়ার প্যারেন্ট দরকার, তার হিসেবে রাখা।

কার্যকর ভেটেরিনারি সেলের অভাব : পোল্ট্রি শিল্পে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ভ্যাক্সিন, পুষ্টি সামগ্রী ইত্যাদি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে ভেটেরিনারি ও মানুষের ওষুধ একই ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের অধীনে, যেখানে পোল্ট্রি গুরুত্ব পায় খুব কম। মাঝে মধ্যেই এসব ওষুধের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আবার খামারিরাও সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ পাচ্ছেন না। মুরগি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এদের সময়মতো ওষুধ, পুষ্টি সামগ্রী না দিতে পারলে সে মারা যাবে অথবা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই খামারিদের কাছে সুবিধাজনকভাবে ওষুধ পৌঁছাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে যৌথভাবে কাজ করা জরুরি। পাশাপাশি ঔষধ প্রশাসনের ভেটেরিনারি সেলকেও কার্যকর করা প্রয়োজন।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় ভেটেরিনারি পণ্যের আমদানি অথবা উৎপাদন দিনের পর দিন পড়ে থাকে। এক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, এনিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি পৃথক ‘ভেটেরিনারি সেল’ তৈরি করা যেতে পারে। এতে ভেটেরিনারি পণ্যের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। ফলে উন্নতমানের ভেটেরিনারি পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত হতে পারে।

জাতীয় প্রানিসম্পদ নীতিমালায় সুষ্পস্টভাবে এই সেল গঠনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

উন্নয়ন নীতিমালা ও পৃথক বোর্ড প্রয়োজন : পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে ২০০৮ সালে করা হয়েছিল জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা। যেখানে পোল্ট্রিকে প্রাণিজ কৃষিখাত ঘোষণা করে শস্যখাতের সমান সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কাগুজে নীতিমালাতেই আটকে আছে যার উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতাকেই দায়ী করছে পোল্ট্রি শিল্পের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, শুধু পরিকল্পনা হাতে কাজ হয় না, আইন শুধু পাশ করেও কাজ হয় না। প্রয়োজন এর বিধি, প্রয়োজন এর বাস্তবায়ন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে পোল্ট্রির উন্নয়নে একটি পৃথক বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া গেছে। যে বোর্ড পোল্ট্রি শিল্পের অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করতে পারবে। যে বোর্ড পোল্ট্রি খাতের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হয়ে কাজ করবে। এছাড়া যেহেতু পোল্ট্রি একটি সংবেদনশীল শিল্প। তাই এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় দ্রুত এবং যথা সময়ে। সংশ্লিষ্ট সকলের যেমন: সরকার, বৈজ্ঞানিক, শিক্ষক, সংগঠনের প্রতিনিধি, ইত্যাদি সকলের সমন্বয়ে একটি ‘পোল্ট্রি বোর্ড’ এ শিল্পকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত করে গতি এনে দিতে পারে।

আগামী দিনের চাহিদা পূরণ করতে অবশ্যই সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে। এমনকি, শুধু চাহিদা পূরণই যথেষ্ট নয়, নিরাপদ খাদ্য এবং ভোক্তার অধিকারের ব্যাপারেও সজাগ থাকা জরুরি। পোল্ট্রি শিল্পের জন্য গঠিত বোর্ড এসব বিষয়েও ভূমিকা রাখতে পারবে।

সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব : হাঁস-মুরগির খামার স্থাপনের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া আবশ্যক। তবে প্রশিক্ষণটি অবশ্যই বিজ্ঞানভিত্তিক ও সময়োপযোগী হওয়া উচিত। বাণিজ্যিক ডিম পাড়া হাইব্রিড মুরগি পালন করতে হলে এদের ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত। আবার প্রশিক্ষকেরও পোল্ট্রি বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

অগ্রগতি নেই পোল্ট্রি শিল্পের বিশেষায়িত জোনের ঘোষণার : দেশের অধিকাংশ পোল্ট্রি গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যোগ ও অর্থায়নে। ফলে অনেক খামার তৈরি হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। যত্রতত্র খামার গড়ে ওঠায় এ খাতের উন্নয়নও ব্যাহত হচ্ছে। এ খাতের সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারছে না। এ খাতে একেক সময় একেক গ্রুপের সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ‘বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন ও প্রাণি সম্পদের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল প্রথম ‘পোল্ট্রি শিল্পের বিশেষায়িত জোন’ এর কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে এই খাতের উন্নয়নে প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পের প্রস্তাব দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু এসব বিষয়ের আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় এবং ছোট কোনো খামারি না বলে সবাই এক হয়ে কাজ করতে পারলে এ খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। তাই আলাদা জোন এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

নিবন্ধনের আওতায় আনা যায়নি সব খামার : পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও সেখানে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। নীতিমালার ২.২ ধারা বলা হয়েছে, ব্যবসার উদ্দেশ্যে ১০০ বা এর বেশি পোলট্রি পালন বাণিজ্যিক হিসেবে গণ্য হবে। নীতিমালায় এই ধরনের দুর্বলতার কারণে দেশের অধিকাংশই মুরগির খামার চলছে নিবন্ধন ছাড়াই। এসব খামার রয়েছে সরকারের নজরদারির বাইরে। পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠানেরও নিবন্ধন নেই। পাশাপাশি বিদ্যমান নীতিমালা অনেকাংশ প্রয়োগ হচ্ছে না। ফলে হুমকির মধ্যে পড়েছে নিরাপদ মাংস ও ডিমের প্রাপ্যতা।

জানা গেছে, নিবন্ধিত হলেই রাজস্ব গুনতে হবে খামারিদের। পাশাপাশি মানসম্পন্ন উৎপাদন না হলে কঠোর আইনের আওতায় আসবে। এসব কারণে নিবন্ধন নিতে উৎসাহিত হচ্ছেন না খামারিরা।

পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ফিআবে নিবন্ধিত ফিড মিলের সংখ্যা ৭৬টি। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে এ সংখ্যা ১৫০টি। যদিও বাস্তবে ফিড মিলের সংখ্যা দুই শতাধিক। অনিবন্ধিত এ ফিড মিলগুলোর কারও কাছেই কোনো জবাবদিহিতা নেই! একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধনের চিত্রও প্রায় একই রকম।

২০২১ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে দৈনিক ৪ কোটি ১০ লাখ পিস ডিম এবং ৫ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন মুরগির মাংসের প্রয়োজন হবে। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মুরগির মাংস ও ডিম নিশ্চিত করতে খামারিদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামগ্রিক বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ রাইজিংবিডিকে বলেন, দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। এজন্য শিল্পের বিকাশ জরুরি। পোল্ট্রি শিল্প বিকাশের জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।

তিনি আরো বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের উৎপাদন আরো বাড়াতে এবং মান উন্নয়ন করতে উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞানিদের মেধার সমন্বয় ঘটাতে হবে। নিরাপদ মুরগি ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

** মাংস আর ডিমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ পোল্ট্রির অবদান
** চিকিৎসাসেবার নাজুক পরিস্থিতি



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ অক্টোবর ২০১৮/হাসান/রফিক

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC