ঢাকা, শনিবার, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

হাসিতেই মুগ্ধ মানুষ

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৭ ১০:০২:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-২৮ ৯:৫৫:৩১ এএম

আরিফ সাওন, বাগেরহাট থেকে ফিরে  : কিছু কিছু মানুষের হাসিতে নাকি শুধু মানুষের মন নয়, পাষাণের হৃদয়ও গলে যায়। যে হাসি একেবারেই সাদামাটা, নির্মল, মায়াভরা। সেই হাসিভরা মুখের দিকে তাকালে মনে হয়- এ তো আমারই আপনজন, আমার মনের মতন। যাদের এমন প্রাণখোলা হাসি, তাদের দিকে তাকালে, মন যতই খারাপ থাকুক না কেন, ভালো হয়ে যায়।

হ্যাঁ, এমন দুঃখ-কষ্ট ভোলানো হাসি দেখছেন বাগেরহাটবাসী। বাগেরহাট-২ আসনে (বাগেরহাট সদর-কচুয়া) সংসদ সদস্য পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ সারহান নাসের তন্ময়। তন্ময়ের মায়াবী হাসিতেই বেশি মুগ্ধ মানুষ। তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে যেন তন্ময় হয়ে আছে বাগেরহাটবাসী।

শেখ তন্ময় বঙ্গবন্ধু পরিবারের সন্তান। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য (বাগেরহাট-১) শেখ হেলাল উদ্দিনের ছেলে তন্ময়। তবে তার ব্যবহার এমন, তিনি যেন জনসাধারণেরই একজন। নেই অহংকার, নেই ক্ষমতার দাম্ভিকতা। তার ব্যবহার এবং তার হাসিই বলে দেয়, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’

৬ ডিসেম্বর নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটা ছবি আপলোড করে লেখেন, ‘আমি জনগণের হতে পারলেই আমি দলের হবো। আমি যদি জনগণের না হতে পারি, তাহলে দলেরও হতে পারব না। দোয়া করবেন সবাই।’

এর আগে ৫ ডিসেম্বর আরেকটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘প্রবীণদের দোয়া আর ভালোবাসা নিয়ে নবীনরাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে, ইনশাআল্লাহ।’

১৭ ডিসেম্বর একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘আমার বংশের দুই প্রজন্মের সাথে এই মুরুব্বি রাজনীতি করেছেন। আজ আমাকে দেখে তিনি মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, তুমিও আসলে শেষমেশ।’



রাজনীতিতে না আসলে তিনি হয়তো সাংবাদিক কিংবা ক্রিকেটার হতেন। সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করা শেখ তন্ময় অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছেন। নবীন ও প্রবীণদের কাছে এত অল্প সময়ে এত বেশি জনপ্রিয়তা পাওয়ার নজির বিরল।

শুধু বাগেরহাটে নয়, তার জনপ্রিয়তা সারা দেশে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসীদের কাছেও তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। এই তরুণের রাজনীতিতে আসাকে দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন অনেকে।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আফরা গ্রামের ইব্রাহিম পাইক বলেন, ‘দেখলেই মন ভরে যায়। কী সুন্দর চেহারা! একেবারে রাজপুত্র।’

যেখানেই শেখ তন্ময় নির্বাচনী সভা করেন, সেখানেই এই বাস্তবের নায়ককে এক পলক দেখার জন্য, তার মুখের কথা শোনার জন্য ছুটে যান অনেকে। সভা পরিণত হয় জনস্রোতে। 

বাগেরহাটের অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, তিনি দেখতে যেমন সুদর্শন, তার ব্যবহারও তেমন অসাধারণ।

বেশিরভাগ সময়ই তাকে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায়। বঙ্গবন্ধুও পাঞ্জাবি পরতেন। আবার কখনো তাকে দেখা যায়, পাঞ্জাবির ওপর কালো কিংবা ঘিয়ে রঙের শাল পরা। তাকে পাওয়া যায় বাজারে, সড়কের মোড়ে কিংবা গ্রাম-মহল্লায়। তীব্র শীত উপেক্ষা করে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। সাধারণ মানুষও বঙ্গবন্ধু পরিবারের এই সদস্যকে পেয়ে আপ্লুত।



বাগেরহাটের অনেকেই মনে করছেন, শেখ তন্ময় বাগেরহাটের জন্য আশীর্বাদ। তিনি নির্বাচিত হলে বাগেরহাটে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাবে। তারা মনে করছেন, তিনি বাগেরহাটে নিতে আসনেনি, দিতে এসেছেন। শুধু নির্বাচনী প্রচারেই নয়, ক্রীড়াঙ্গনেও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। নির্বাচনী প্রচারের পর কখনো কখনো রাতে তাকে দেখা যায় ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠে। শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন তার খেলা।

সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী, বন্ধুসুলভ, আদর্শবান এই মানুষটি অল্প সময় অনেক সংবাদকর্মীরও পছন্দের পাত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

আরটিভির জ্যেষ্ঠ চিত্র সাংবাদিক (প্রধানমন্ত্রী বিট) মাসুদ রানা বলেন, তিনি খুবই সদালাপী ও বন্ধুসুলভ। বলতে পারেন, আমি তার ভক্ত। তার ব্যবহারে আমি মুগ্ধ। আমার মতো অনেকেই তার ব্যবহারে মুগ্ধ। তিনি যেহেতু সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, সেক্ষেত্রে তার রাজনীতিতে আসাও সাংবাদিকদের জন্য অনেকটাই ইতিবাচক হবে।

শেখ তন্ময়ের এত বেশি জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাদ উদ্দিন হয়দার বলেন, ‘তার ব্যক্তিত্ব ও সৌজন্যবোধ মানুষকে বেশি আকর্ষণ করেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী তার ভিন্ন ধরনের বক্তব্য সকলের মন জয় করেছে।’

ইতোমধ্যে তন্ময় জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে সরকারি গাড়ি, ফ্ল্যাট কিংবা মাসিক সম্মানী, কিছুই নেবেন না। তিনি শুধু চান, মানুষের সেবা করতে।

ভোটারদের উদ্দেশে শেখ সারহান নাসের তন্ময় বলেন, আমি এসেছি আপনাদের সেবক হতে। আমাকে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবক হওয়ার সুযোগ দিন।



২৬ ডিসেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজারে এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে বাগেরহাট ও কচুয়াকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ মুক্ত করব। আমার রক্তের কেউও যদি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করতে চায়, তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’

১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া শেখ তন্ময় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ঢাকায় লেখাপড়া করেছেন। তারপর ভর্তি হন ভারতের একটি বোর্ডিং স্কুলে। আবার ফিরে আসেন ঢাকায়। শেষ করেন ও লেভেল এবং এ লেভেল। ২০০৭ সালে আবার যান ভারতে। ২০১২ সালে ফেরেন ঢাকায়। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে যান। ২০১৫ সালে ঢাকায় ফিরে বিয়ে করেন। স্ত্রী শেখ ইফরাহ তন্ময়। ২০১৭ সালে বাগেরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সদস্যপদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন শেখ সারহান নাসের তন্ময়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ ডিসেম্বর ২০১৮/সাওন/রফিক

Walton Laptop