ঢাকা, শুক্রবার, ৮ চৈত্র ১৪২৫, ২২ মার্চ ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

১০ বছরেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৫ ১০:৩৪:১৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-১৬ ৫:০৫:২৫ পিএম

মামুন খান : ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশ হারায়  ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে। সে দিনের সেই ঘটনায় পুরো জাতি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে।

কিন্তু ১০ বছরেও সেই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলার কার্যক্রম শেষ হয়নি। মামলার বিচার কবে শেষ হবে তা বলতে পারছেন না আইনজীবীরা।

বিদ্রোহের নামে পিলখানা সদর দফতরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে হত্যা মামলার রায় হলেও দশ বছরে শেষ হয়নি বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলার বিচার কাজ।

হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালতের রায় এবং ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু একই ঘটনার বিস্ফোরক আইনে করা মামলা এখনো বিচারাধীন।

রাজধানীর বকশিবাজারের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর দায়রা জজের অস্থায়ী এজলাসে এ মামলার কার্যক্রম চলছে। প্রায় ১৩শ  সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৭৯  সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

মামলার মোট আসামি ৮৩৪ জন । ১৫ থেকে ১ মাস পরপর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত। কিন্তু সময়মত সাক্ষী না আসায় মামলার কার্যক্রমের সময়সীমা বাড়ছে।

সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য  ধার্য থাকলেও সাক্ষী না আসায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ আগামী ৪ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন। একই কারণে গত ২১ জানুয়ারিও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছানো হয়। ফলে কবে নাগাদ এ মামলার বিচার সম্পন্ন হবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

এ মামলার বিচার সম্পর্কে প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল জানান, একই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার নিম্ন আদালতের পর হাইকোর্টে পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। হত্যা মামলার অধিকাংশ আসামি বিস্ফোরক আইনের মামলারও আসামি। ওই আসামিদের অনেকেই হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তাই আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়ও এখানে জড়িত। এ কারণে বিস্ফোরক আইনের মামলার দ্রুত বিচার করা সম্ভব হচ্ছে না।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষই হত্যা মামলায় রায় পাওয়ার পর বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির করার চেষ্টা করছে না। হত্যা মামলার খালাসপ্রাপ্ত অনেক আসামি বিস্ফোরক মামলারও আসামি। হত্যা মামলায় খালাস পেয়েও বিস্ফোরক আইনের মামলার কারণে তারা মুক্তি পাননি। তাই উচিত হবে যারা হত্যা মামলায় খালাস পেয়েছেন তাদের জামিন দেওয়া, না হয় বিস্ফোরক আইনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়ার নামে পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) কিছু উচ্ছৃঙ্খল জওয়ান বিদ্রোহ শুরু করে। এ সময় তাদের গুলিতে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন।

পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ দেখে গোটা বিশ্ব। পিলখানা ট্র্যাজেডির পর বিডিআরের নাম, লোগো ও পতাকা পরিবর্তন করা হয়। এ বাহিনীর নাম পাল্টে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। পরিবর্তন করা হয় বাহিনীর  আইন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে প্রথমে চকবাজার থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়।  ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই  বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

২০১১ সালের ১০ আগস্ট হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার স্থগিত ছিল। হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে ২০১৩ সালের ১৩ মে বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

হত্যা মামলায় চার বছর ৮ মাসে ২৩২টি কার্যদিবস পর ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা হয়। কিন্তু বিস্ফোরক আইনের মামলায় প্রায় শতাধিক ধার্য তারিখ সাক্ষীর জন্য অতিবাহিত হয়েছে।

হত্যা মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ২৭৭ জন খালাস পান।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার দায়ে অন্যতম পরিকল্পনাকারী ডিএডি তৌহিদসহ ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন। ওই রায়ে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন হাইকোর্ট। খালাস পান ৪৯ আসামি। তবে হাইকোর্টের দেওয়া রায়েরপূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এখনো প্রকাশিত হয়নি। এতে মৃত্যুদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারছেন না।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ফেব্রুয়ারি ২০১৯/মামুন খান/এনএ

Walton Laptop
 
     
Walton AC