ঢাকা, রবিবার, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

শেষ মুহূর্তের দুই গোলে জিতল ব্রাজিল

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২২ ৬:০৩:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-২২ ৯:০৪:৩১ পিএম
ব্রাজিলকে লিড এনে দেন কুতিনহো

ক্রীড়া ডেস্ক : আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসেছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেলেসাওদের হতাশ করে ম্যাচ নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল কোস্টারিকা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্তও স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য। অবশেষে ৯১ মিনিটে ব্রাজিলকে লিড এনে দেন ফিলিপে কুতিনহো। শেষ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান নেইমারও। এই দুজনের শেষ মুহূর্তের দুই গোলে স্বস্তির জয় পায় ব্রাজিল।

সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ব্রাজিল। সেন্ট পিটার্সবার্গে বুধবার কোস্টারিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।  ৪ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষে আছে ব্রাজিল।  গ্রুপের শেষ ম্যাচে সার্বিয়ার সঙ্গে ড্র করলেও শেষ ষোলোয় উঠবে তিতের দল। আর কোস্টারিকা টানা দ্বিতীয় হারে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিল।

ফুল-টাইম: ব্রাজিল ২-০ কোস্টারিকা।

৯০+৭ মিনিট: গোল! ব্রাজিল ২-০ কোস্টারিকা। যোগ করা সময় দেওয়া হয়েছিল ছয় মিনিট। সেটি পেরিয়ে ম্যাচ ততক্ষণে সপ্তম মিনিটে। আর এই সময়ে গোল করে ব্রাজিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নেইমার। পাল্টা আক্রমণে ডগলাস কস্তার থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জালে পাঠান পিএসজির এই ফরোয়ার্ড।  

৯০+১ মিনিট: গোল! ব্রাজিল ১-০ কোস্টারিকা। অবশেষে ব্রাজিলকে লিড এনে দিলেন ফিলিপে কুতিনহো। বাঁ দিক থেকে ক্রস দিয়েছিলেন মার্সেলো। ফিরমিনো হেডে বল দেন জেসুসকে। জেসুস যদিও ঠিকমতো বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। সেখান থেকে বল পেয়ে খুব কাছ থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন কুতিনহো।   

৭৯ মিনিট: পেনাল্টি বাতিল! গঞ্জালেজের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে নেইমার বক্সের ভেতরে পড়ে গেলে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। কোস্টারিকার খেলোয়াড়দের আবেদনে সিদ্ধান্ত যায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির কাছে। ভিডিও দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করেন রেফারি। ফাউল ছিল না বলে নেইমারকে দেখান হলুদ কার্ড।

৭২ মিনিট: সুযোগ! ভালো একটি সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলের সামনে। গাম্বোয়ার ভুলে বক্সের সামনে বল পেয়েছিলেন নেইমার। ২০ গজ দূর থেকে দারুণ একটি বাঁকানো শটও নিয়েছিলেন পিএসজি ফরোয়ার্ড। কিন্তু পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় বলটি।

৬৯ মিনিট: পাওলিনহোর বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড রবার্তো ফিরমিনো।

৫৬ মিনিট: সেভ! পাওলিনহোর নিচু ক্রসে বক্সের সামনে থেকে শট নিয়েছিলেন নেইমার। তবে কর্নারের বিনিময়ে কোস্টারিকাকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক নাভাস।

৪৮ মিনিট: অব দ্য বার! ফাগনারের ক্রস থেকে জোরালো হেড নিয়েছিলেন জেসুস। কিন্তু বল বারে লেগে ফিরলে হতাশ হতে হয় ব্রাজিল সমর্থকদের।

৪৬ মিনিট: উইলিয়ানের বদলি কস্তা! দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চেলসির উইঙ্গার উইলিয়ানের বদলি হিসেবে জুভেন্টাসের মিডফিল্ডার ডগলাস কস্তাকে মাঠে নামিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ তিতে।

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই প্রথমার্ধে গোল করতে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবারের আসরে প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোল করেছিল।

প্রথমার্ধে ৬৮ শতাংশ বলের দখল রেখেও গোল পায়নি ব্রাজিল। ৩২ শতাংশ বল দখলে ছিল কোস্টারিকার। এই অর্ধে ব্রাজিল শট নিয়েছে ৭টি, এর একটি ছিল অন টার্গেটে। আর কোস্টারিকার ৩ শটের একটিও অন টার্গেটে ছিল না।

প্রথমার্ধ শেষে: ব্রাজিল ০-০ কোস্টারিকা।

৪৫+১: ফ্রি-কিক! ব্রাজিলের মিরান্ডা উরেনাকে ফাউল করায় ডান দিকে ফ্রি-কিক পেয়েছিল কোস্টারিকা। কিন্তু ডেভিড গুজমানের শট বক্সের ভেতরে সব খেলোয়াড়ের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। রেফারি প্রথমার্ধের খেলা শেষের বাঁশিও বাজান সেখানেই।   

৪১ মিনিট: সেভ! বক্সের সামনে থেকে ডান পায়ে শট নিয়েছিলেন মার্সেলো। তবে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে সহজেই বলটি ধরে ফেলেন কোস্টারিকার গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। দুই রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়ের লড়াই!

২৬ মিনিট: গোল বাতিল! প্রথম ২০ মিনিটে মাত্র একবার বলে ‘টাচ’ করতে পেরেছিলেন। সেই গ্যাব্রিয়েল জেসুস স্কোরশিটে প্রায় নাম তুলে ফেলেছিলেন। মার্সেলোর নিচু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অফ সাইডের কারণে গোলটা বাতিল করেন রেফারি।    

১৩ মিনিট: সুযোগ! লিড নেওয়ার ভালো একটি সুযোগ এসেছিল কোস্টারিকার সামনে। ডান দিক থেকে দারুণ একটি পাস দিয়েছিলেন বোর্গেস। কিন্তু বক্সের ভেতর থেকে বল পোস্টের বাইরে দিয়ে মারেন গাম্বোয়া।    

৩ মিনিট: অব দ্য বার! ভালো একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ফিলিপে কুতিনহো। কিন্তু বক্সের সামনে থেকে বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার।  

কিক অফ:

দুই দল আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর ৯টিই জিতেছে ব্রাজিল। সেলেসাওদের একমাত্র হারটি ১৯৬০ সালে প্রীতি ম্যাচে।

বিশ্বকাপে দুই দলের এটি মুখোমুখি তৃতীয় লড়াই। প্রথম দেখায় ১৯৯০ সালে ব্রাজিল জিতেছিল ১-০ গোলে, সেলেসাওরা ২০০২ সালে জিতেছিল ৫-২ গোলে।

বিশ্বকাপে ব্রাজিল তাদের শেষ তিন ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি (১ ড্র, ২ হার)। ১৯৭৮ সালের জুনের পর এটি তাদের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ যাত্রা।

সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র ম্যাচ থেকে কোস্টারিকার বিপক্ষে শুরুর একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছেন ব্রাজিল কোচ তিতে। চোটের কারণে দলে নেই দানিলো। রাইট-ব্যাক পজিশনে তার জায়গা নিয়েছেন ফাগনার। 

ব্রাজিল একাদশ: অ্যালিসন; ফাগনার, সিলভা, মিরান্ডা, মার্সেলো; কাসেমিরো, পাওলিনহো, কুতিনহো, উইলিয়ান, হেসুস, নেইমার।

কোস্টারিকা একাদশ: নাভাস, দুয়ারতে, গঞ্জালেজ, অ্যাকস্তা, গাম্বোয়া, বোর্গেস, গুজমান, কালভো, রুইজ, ভেনেগাস, উরেনা।

রাশিয়ায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। ২০ মিনিটে ফিলিপে কুতিনহোর গোলে ব্রাজিল এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্টিভেন জুবের গোলে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড।

আর কোস্টারিকা সার্বিয়ার কাছে হেরে যায় ১-০ গোলে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারলে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে তাদের।

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ জুন ২০১৮/পরাগ 

Walton Laptop
 
     
Walton