ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মঙ্গলে নারী-পুরুষ একত্রে পাঠাতে নাসার আপত্তি!

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৪ ২:১৩:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-০৪ ২:২০:১৪ পিএম
প্রতীকী ছবি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার বিভিন্ন মিশনে পুরুষ এবং নারী ক্রুরা যদিও একত্রে কাজ করছে কিন্তু সংস্থাটির একটি গোপন রিপোর্টে বলা হয়েছে, মঙ্গল গ্রহের মিশনে সব নারী থাকতে পারে।

ব্রিটিশ মহাকাশচারী হেলেন শারমেন সম্প্রতি এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নাসা একটি রিপোর্ট দাখিল করেছিল যেখানে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে যেতে সময় লাগবে দেড় বছর এবং এই দীর্ঘ যাত্রায় নারী-পুরুষের যৌনতার ঘটনা ঘটতে পারে।

রিপোর্টটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গল যাত্রায় নারী ক্রুরা সেরা হতে পারে, নারীরা একটি দল হিসেবে ভালো কাজ করে এবং টিম লিডারের সঙ্গে লড়াই করার সম্ভাবনা পুরুষদের তুলনায় কম থাকে।

শারমেন রিপোর্টটি নিজে কখনো দেখেননি কিন্তু দাবী করেছেন যে, এমন একটি রিপোর্ট কয়েক বছর আগে দাখিল করা হয়েছিল।

শারমেন, যিনি মহাকাশে প্রথম ব্রিটিশ নভোচারী ছিলেন, তিনি সম্প্রতি লন্ডনে নিউ সায়েন্টিস্ট লাইভ ফেস্টিভ্যালে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে নাসার এই গোপন রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানোর মিশনে নারী-পুরুষ একত্রে পাঠানোর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, নাসার একটি অফিসিয়াল রিপোর্টে এমন অযৌক্তিক চিন্তাধারা ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক বছর আগে শুনেছিলাম যে, নাসা এ ধরনের একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিল। নাসা রিপোর্টটি কখনোই প্রকাশ করেনি কিন্তু সেখানে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল যে, ক্রু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভিন্নতা প্রয়োজন। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, মঙ্গল মিশনের ক্রুরা একই লিঙ্গের হওয়া উচিত- সব ক্রু পুরুষ থাকবে অথবা সব ক্রু নারী থাকবে।’

পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে দেড় বছর সময় লাগতে পারে এবং পুরো সময়টা নভোচারীদের উচ্চতর রেডিয়েশনের চাপের মধ্যে থাকতে হবে। যদি দুইজন নভোচারী যৌনতায় লিপ্ত হয় এবং নারী নভোচারী গর্ভবতী হয়ে পড়ে তাহলে এটা স্পষ্ট নয় যে, শিশুটির ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে।

শারমান বলেন, নাসা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, সব নভোচারী নারী হওয়াটাই ভালো ধারণা। যেহেতু নারীরা একটি দল হিসেবে ভালো কাজ করে এবং দলনেতার সঙ্গে পুরুষের তুলনায় কম ঝামেলায় জড়ায়।

এই আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত মার্কিন নভোচারী আল ওয়ার্ডেন, যিনি ১৯৭১ সালে অ্যাপোলো ১৫ মিশনে চাঁদে ভ্রমণ করেছিলেন, বর্তমানে তার বয়স ৮৫ বছর, তিনি মজা করে বলেন, তার বয়সের কারণে তিনি মঙ্গল মিশনের যাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবেন।

তিনি মজা করে বলেন, ‘আমার বয়স যদি ৮৫ বছরের পরিবর্তে ২৯ হতো, তাহলে হয়তো আমি এমন চিন্তা করতাম যা নিষিদ্ধ। আপনার বয়স যখন ৮৫ বছর তখন আপনি সেই চিন্তা ঠিকই করতে পারবেন কিন্তু কিছু করতে পারবেন না। তাই আমার মনে হয় আমি মঙ্গল মিশনে যাওয়ার উপযোগী।’

নাসা যদিও মহাকাশে যৌনতা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেনি কিন্তু নভোচারীর দায়িত্ব পালনে শর্ত থাকে যে, বিশ্বাসের সম্পর্ক এবং পেশাদারী মান সবসময় রক্ষা করতে হবে।

এছাড়া নাসা কোনো বিবাহিত দম্পত্তির একত্রে মহাকাশ যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে, যদিও তা যৌনতার আশঙ্কার চেয়ে বেশি গ্রুপ ডায়নামিক্সের (দলের সদস্যেদের মানসিক অবস্থা) কারণে।

মহাকাশে শারীরিক সম্পর্কে স্থাপনে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সেখানে শূন্য। কানাডার মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানেট সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের ডিন অধ্যাপক আনাজ গিটম্যান, যিনি মহাকাশে যৌনতা বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন, তিনি ডেইলি মেইল অনলাইনকে বলেন, ‘মহাকাশে একটি কাপল কখনই বেগ প্রয়োগ করতে পারবে না। এছাড়া মহাকাশ যান সাধারণত সীমাবদ্ধ জায়গার হয়ে থাকে। ফলে একে অপরের মাথায় আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকে।’

তিনি আরো বলেন, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অভাব শুধুমাত্র শারীরিক আন্দোলন প্রভাবিত করে না, বরঞ্চ এটি শরীরের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। মহাকাশে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং পুরুষের নিম্নাংশ সক্রিয় করা কঠিন হতে পারে।’ 

সৌভাগ্যক্রমে রাশিয়ার দুজন বিজ্ঞানী পৃথিবীতে মাধ্যাকর্ষণ শূন্য চেম্বারের মধ্যে সেক্স করেছিলেন পরীক্ষামূলকভাবে। বহুল ব্যবহৃত ২০টি পজিশনের মধ্যে ৪টি পজিশনে কোনো ধরনের মেডিকেল সহায়তা অথবা বেল্ট এর সহযোগিতা ছাড়াই তারা মিলিত হতে পেরেছিলেন। তাদের মতে, বহুল প্রচলিত মিশনারি পজিশনে কখনোই সম্ভব নয়।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel