ঢাকা     শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১৩ ১৪৩১

গুজরাট নির্বাচন : মোদির অ্যাসিড টেস্ট, রাহুলের অগ্নিপরীক্ষা

রাসেল পারভেজ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ৯ ডিসেম্বর ২০১৭   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
গুজরাট নির্বাচন : মোদির অ্যাসিড টেস্ট, রাহুলের অগ্নিপরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আর্থসামাজিক, ধর্মীয় ও জাতিগত মূল্যবোধের নানা ইস্যুতে সরগরম রাজনীতির উত্তপ্ত ক্ষেত্র ভারতের গুজরাট রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে শনিবার প্রথম দফার ভোট গ্রহণ চলছে।

গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ প্রদেশের এই নির্বাচনকে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে (লোকসভা) তার জনপ্রিয়তার জন্য ‘অ্যাসিড টেস্ট’ বা নমুনা পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নেতা হিসেবে ওই নির্বাচনে রাহুল গান্ধী তার দলকে কোথায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন- গুজরাট নির্বাচনকে তার-ই অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গুজরাটকে মোদির রাজনৈতিক ঘাঁটি বলা হয়। কিন্তু এক সময় কংগ্রেস এ রাজ্যে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। মহাত্মা গান্ধীর জন্মস্থান গুজরাটে রাজনীতির সুবাতাস ফেরাতে বহুদলীয় ঐক্য গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে রাহুল-সোনিয়া গান্ধীর দল। নির্বাচনের আগে আঞ্চলিক ইস্যুগুলো গুরুত্ব পেলেও শেষ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে ‘মোদি বনাম রাহুল’ লড়াই প্রধান্য বিস্তার করেছে।

গুজরাট বিধানসভার ১৮২ আসনের মধ্যে শনিবার ভোট গ্রহণ হচ্ছে ৮৯টি আসনে। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের সমালোচনা করে কংগ্রেসের প্রার্থীরা ফলাফল কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

শনিবার ভোট নেওয়ার শুরুতে গুজরাটের ব্যবসায়ীদের এলাকা সুরাটে কয়েকটি বুথে ইভিএমে সমস্যা দেখা দেয়। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, সুরাটে সমস্যা হতে পারে। হলোও তাই। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অতিরিক্ত ইভিএম আছে এবং সমস্যা দেখা দেওয়া ইভিএমগুলো বেলা ১১টা নাগাদ পরিবর্তন করা হয়েছে।

ইভিএম সমস্যাকে বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও বিজেপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা অরুণ জেটলি বলেছেন, পরাজয়ের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিরোধীরা। তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই ভোটাররা মন স্থির করে ফেলেছেন, তারা কাকে ভোট দেবে।

প্রথম দফায় যে ৮৯ আসনে নির্বাচনে হচ্ছে, তার মধ্যে বিজেপির ৬৭টি এবং কংগ্রেসের দখলে রয়েছে ১৬টি আসন। এই বিধানসভার বাকি আসনগুলোতে আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন হবে এবং ১৮ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে বিজেপির বিজয় হবে। তবে কংগ্রেস কতটা অগ্রসর হতে পারে বা বিজেপির কাছ থেকে কতগুলো আসন ছিনিয়ে নিতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।

২০১২ সালে গুজরাট বিধানসভায় ভোট পড়েছিল ৭১ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা ছিল ১৯৮০ সালের পর সর্বোচ্চ। ওই নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। গত ২২ বছর ধরে গুজরাট শাসন করছে বিজেপি।

গুজরাটে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি সকাল-সকাল ভোট দেওয়ার পর দাবি করেন, বিজেপিই জিতবে। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী, কোনো ধরনের পরিবর্তনের প্রশ্নই নেই।’

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমেদ প্যাটেল দাবি করেছেন, তাদের দল ১১০টি আসন পাবে, সরকার গঠনে প্রয়োজন ৯২টি। তবে ইভিএমের সমস্যার খবরে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিজেপি হলো সুবিধাবাদী। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা সবকিছুই করতে পারে।’ সমস্যা সমাধানে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন বলেছে, অল্পসংখ্যক ইভিএমে সমস্যা হয়েছে এবং সেগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আচল কুমার জ্যোতি বলেছেন, ‘এ নির্বাচনে ২৪ হাজার ভোটকেন্দ্র আছে, এর মধ্যে সাত-আটটিতে সমস্যা হয়েছে। আমাদের কাছে অতিরিক্ত ইভিএম আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইভিএমগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখছেন।’

হীরা ও টেক্সটাইল পণ্যের রমরমা বাজার সুরাটের ১২টি আসনেই বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। মোদির ‘নোট বাতিল’ ও কর সংস্কার নীতি ‘জিএসটি’ নিয়ে এক ধরনের অ্যাসিড টেস্ট হয়ে যাবে এই নির্বাচনে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায় কীভাবে তার আলোচিত এই দুই সংস্কার পদক্ষেপকে মূল্যায়ন করছে, সে বিষয়ে এক ধরনের জবাব পেয়ে যাবেন মোদি। রাহুল গান্ধী ব্যবসায়ীদের প্রতি মোদিকে শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

সৌরাষ্ট্র ও কুচ অঞ্চলের অধিকাংশ আসনে শনিবার ভোট গ্রহণ চলছে। সেখানকার জয়-পরাজয়ও আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুই এলাকার আসনগুলো পেতে কংগ্রেস মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।

আরব সাগরের উপকূলে গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে ১১টি জেলা রয়েছে, যেখানে প্রভাবশালী প্যাটেল ও পতিদর সম্প্রদায়ের লোক বেশি। সরকারি সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্যাটেল ও পতিদররা জাতিগত কোটা দাবি করে আন্দোলন করেছে। এ নির্বাচনেও তারা প্রার্থীদের কাছে কোটাসুবিধা চেয়েছে। কোটা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তবে মোদি বলেছেন, মুসলিমদের কোটাসুবিধা দেওয়ার মতো প্যাটেল ও পতিদরদের সঙ্গেও এ নিয়ে প্রতারণা করছে কংগ্রেস।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ ডিসেম্বর ২০১৭/রাসেল পারভেজ

রাইজিংবিডি.কম

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়