ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

খুলনার গ্রাম আদালতে ১৬৫০ মামলা নিষ্পত্তি

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-২০ ৭:০৮:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-২০ ৭:০৮:০০ পিএম
Walton AC 10% Discount

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা : খুলনা বিভাগের তিন জেলার ১৬টি উপজেলার ১৩০টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে ৫২৩টি মামলা বিচারাধীন ও অপেক্ষমাণ রয়েছে।

গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত এ সব আদালতে ২ হাজার ৪২৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এ সময় মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৫০টি। খারিজ, বাতিল ও উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে ২৫৩টি মামলা।

শনিবার খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে দিনব্যাপী ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক বিভাগীয় সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় খুলনার স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এই সম্মেলনের আয়োজন করে। 

এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো দূর করার দাবি জানান।

সম্মেলনে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় জানানো হয়, খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার ১৩০টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনার ৬টি উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন, বাগেরহাটের ৬টি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরার ৪টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ সব ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে দায়ের হওয়া ২ হাজার ৪২৬টি মামলার মধ্যে সরাসরি ইউপিতে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ২ হাজার ১৯৭টি। বাকিগুলো আদালত ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত। এর মধ্যে দেওয়ানী মামলা ১ হাজার ২৫২টি এবং ফৌজদারি মামলা ১ হাজার ১৭৪টি। এসব আদালতে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ জন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ১ হাজার ৩৮৭টি এবং ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ২২ হাজার ২২৩ টাকা।

গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য খুলনার ১৩০টি ইউনিয়নে এজলাস স্থাপন করা হয়েছে। গ্রাম আদালত পরিচালনার লক্ষ্যে ৬৫টি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৩৭ ইউপি চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান, ভিসিএ ও সচিবদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৩০টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সহকারী নিয়োগ এবং গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব হাকিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সুভাষ চন্দ্র সাহা, খুলনার জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস।

সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, স্বল্প খরচে ও স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার পাশাপাশি নিম্ন আদালতের দীর্ঘ মামলার জট কমানোর জন্য গ্রাম আদালতকে কার্যকর করতে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত যদি কার্যকরী হয়, তাহলে ৮০ ভাগ মামলা স্থানীয়ভাবে নিস্পত্তি করে এর মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে শান্তি-শৃংখলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বক্তারা প্রকল্প এলাকাসহ দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গ্রাম আদালত আরো সক্রিয় করতে গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিতকরণ ও এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে তারা গ্রাম আদালতে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে চেয়ারম্যানদের অনুকরণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার উপর জোর দেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালতের কার্যকরীকরণে গ্রাম আদালতের আর্থিক বিচারিক এখতিয়ার বৃদ্ধি ও প্রশাসনের সকল পর্যায়ে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রায় ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন।



রাইজিংবিডি/খুলনা/২০ জানুয়ারি ২০১৮/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/বকুল

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge