ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বের, আমরা কোথায়?

মো. রায়হান কবির : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১১ ২:৩৩:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-১১ ৪:০৪:১০ পিএম
প্রতীকী ছবি

মো. রায়হান কবির : কয়েক বছর আগে ‘ইজিবাইক’ নামের তিন চাকার অটোরিকশা বাংলাদেশে নতুন আসে। কেউ কেউ এটাকে ব্যাটারির গাড়িও বলে থাকে। এরপর এই ব্যাটারির প্রযুক্তি সংক্রমণ হয় আমাদের ঐতিহ্যবাহী রিকশাতেও।

রিকশায় ব্যাটারি ও মোটর ব্যবহার করে তাকে গতিশীল ও কায়িকশ্রমহীন করা হয়। ফলে রিকশা চালানোর মতো পরিশ্রমসাধ্য কাজ পরিণত হয় সহজ কাজে। মফস্বল বা ঢাকার মূল শহরের বাইরে যেমন, মিরপুরেও এসব রিকশা দেখা যায়।

মফস্বলের দিকে ইজিবাইকের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। এক গাড়িতে প্রায় ৬ জন যাত্রী ধারণ করে বলে এতে যাতায়াত খরচও কম। ফলে জনসাধারণের কাছে এসব ইজিবাইক বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন এসব ইজিবাইকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছে। ফলে এগুলো একটি নির্দিস্ট গন্ডির ভেতর চলাচল করে এবং সময় ধরে চলে, অনেকটা লুকিয়ে।

কিন্তু পরিবেশবান্ধব এসব গাড়ি উন্নত বিশ্বে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে এবং একই সঙ্গে এর ব্যবহারও বাড়ছে। এর কারণ দুটিঃ এক, তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং দুই, কার্বন নিঃসরণ কম করা। ফলে ডিজেল পেট্রোলের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যুৎভিত্তিক এসব যানবাহন বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতও বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশার প্রতি নজর দিচ্ছে। ফলে তারা বিদ্যুতে ভর্তুকির চিন্তাও করছে যাতে এই ধরনের যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। শুধু গত বছর ৫ লাখ ৭৯ হাজার বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বিক্রি করেছে চীন। এসব গাড়ি চীন সহ আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। ভারতে এর ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে মাহিন্দ্রার মতো কোম্পানিও গত বছর ২ হাজার বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বিক্রি করেছে। ভারতের বাজার ধরতে সুজুকি এবং টয়োটাও উঠেপড়ে লেগেছে। সুজুকি তো ৫০ ধরনের খসড়া গাড়ি বানিয়েছে ভারতের বাজারের জন্য।

আমাদের জন্য সুযোগ দুটি। এক, নিজ দেশে এর ব্যবহার বাড়িয়ে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ তহবিল থেকে আয় করা। দুই, আমাদের তৈরি দেশি মডেলের গাড়িগুলো ( অটোরিকশা) পার্শ্ববর্তী দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা। ভারতের অনুন্নত রাজ্য ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় সহ নেপাল, ভুটান বা শ্রীলঙ্কার বাজার চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ধরা যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। কেননা এক সময় এই অটোরিকশা যখন চীন থেকে আমদানি করা হতো তখন এর দাম পরতো অনেক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় উপাদানে তৈরি হওয়ায় এর খরচ অনেক নেমে এসেছে। এই সুযোগটা নেয়া যায় কিনা সেটা দেখা দরকার। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় টু স্ট্রোক অটোরিকশা বাদ দিয়ে বিদ্যুৎচালিত এসব অটোরিকশা ব্যবহার করা উচিৎ কিনা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton