ঢাকা, শুক্রবার, ৯ আষাঢ় ১৪২৪, ২৩ জুন ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

শুভ জন্মদিন ডি ভিলিয়ার্স

রুহুল আমিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৭ ১:০৪:০৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১৭ ১:১০:২২ পিএম
এবি ডি ভিলিয়ার্স

রুহুল আমিন : বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী, আক্রমণাত্ম ও দর্শকদের বিনোদন দেওয়া ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স। ডি ভিলিয়ার্স এমন একজন ব্যাটসম্যান, যিনি দলের প্রয়োজনে নিজেকে নিয়ন্ত্রণেও সবচেয়ে পারদর্শী। ডি ভিলিয়ার্স এমন একজন ফিল্ডার , যিনি বাতাসে ভাসতে থাকা বল পেছন থেকে দৌড়ে এসে লুফে নিতে ওস্তাদ, দলের প্রয়োজনে হয়ে যান আপাদমস্তক উইকেটকিপার। বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ক্রিকেট বিশ্বের জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হচ্ছেন।

ডি ভিলিয়ার্সকে বলা হয়ে থাকে ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যান। যিনি যে কোনো বলকে মারতে পারেন, তা বিশ্বের যত নামকরা বোলারের যত কঠিন বলই হোক না কেন। দৃষ্টিনন্দন ও উদ্ভাবনী সব শট খেলে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। তিনি ওয়ানডে ও টেস্টে আইসিসির সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতেও তাকে সমীহ করতে হয়। আর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলে তো ভারতসহ উপমহাদেশের দর্শকদের মন জয় করেছেন ইতোমধ্যে।

২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে ডি ভিলিয়ার্সের অভিষেক হয়। এই ম্যাচে তিনি ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামেন। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র ১৬টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলার পরই প্রোটিয়া টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পান তিনি। পরে তিনি মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে থাকেন এবং উইকেটকিপিং করার জন্য তাকে বলা হয়। ডি ভিলিয়ার্স ১ থেকে ৮ নম্বরের যেকোনো পজিশনে স্বাচ্ছন্দে ব্যাট করতে পারেন এবং দলের প্রয়োজনে প্রোটিয়া কান্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। ২০০৫ সালে ডি ভিলিয়ার্সের ওয়ানডে অভিষেক। দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয়। তবে অভিষেকের পরে তেমন একটা ভালো করতে পারেননি তিনি। ২০০৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাজে ফর্মে ছিলেন।

পরে ২০০৮ সালে তিনি আাবার টেস্টে দলে ফেরেন। ফিরেই ডারবানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৯ বলে অপরাজিত ১০৩ রান করেন। এর কিছু দিন পরেই আহমেদাবাদে ভারতের বিপক্ষে প্রথম প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। তিনি ২১৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। একই বছর তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডসে ১৭৪ রান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পার্থে অপরাজিত ১০৬ রান করেন। সব মিলিয়ে তিনি ওই বছর ৫৮ দশমিক ৯৪ গড়ে ১০৬১ রান করেছিলেন, যা তার জন্য টেস্টে এক পঞ্জিকাবর্ষে সেরা ছিল।

২০১০ সালে তিনি আবার আলোচনায় আসেন। ২০১০ সালে তিনি এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯৯৬ রান করেন। আর ওই বছর আবুধাবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার করা অপরাজিত ২৭৮ রান ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান কোনো ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। যদিও পরবর্তীতে হাশিম আমলা ট্রিপল সেঞ্চুরি করে তার রেকর্ড ভেঙেছেন। একই বছর তিনি ওয়ানডেতে তিনটি সেঞ্চুরি করেন। এর মধ্যে দুটি ভারতের বিপক্ষে ও একটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

২০১৩ সালেও তিনি আবার এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯৩৩ রান করেন। একই বছর মার্ক বাউচারের অবসরের পর তিনি উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব নেন। আর গ্রায়েম স্মিথ অধিনাকত্ব থেকে সরে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক হন ডি ভিলিয়ার্স। যদিও পরে তিনি টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ফাফ ডু প্লেসির কাছে হস্তান্তর করেন। তবে পিঠে ব্যথা থাকার পরও তিনি কিপিং করে যাচ্ছিলেন। তবে ডি কক দলে ঢোকার পর অধিনায়কত্বে বেশি মনোযোগ দেওয়ার জন্য তিনি তাকে কিপিং দিয়ে দেন। আর ২০১৪ সালে টেস্ট দলে ডি কক আসলে টেস্টের কিপিংও হস্তান্তর করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টি-টোয়েন্টিতে খুব বেশি ভালো করতে পারেননি ভিলিয়ার্স। কারণ বেশির ভাগ সময় তিনি নিচের দিকে ব্যাট করতে নামেন। যার কারণে তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পান না। তবে আইপিলে ঠিকই তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২০১৪ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান তিনি। ওই বছর একটি স্মরণীয় ম্যাচ হলো তার নিজ দেশের বিধ্বংসী বোলার ডেল স্টেনের এক ওভারে তিনি ২৩ রান করেন। তার দখলে বেশ কয়েকটি রেকর্ডও আছে। তিনি ওয়ানডেতে দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির মালিক। তিনি ১৬ বলে ফিফটি করেন। আর ৩১ বলে করেন সেঞ্চুরি। এ ছাড়া তার করা ৬৪ বলে ১৫০ রানও বিশ্ব রেকর্ড। ২০১৫ সালে এই সবগুলো রেকর্ডই তিনি করেছেন দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

ডি ভিলিয়ার্স এই পর্যন্ত ১০৬ টেস্টের ১৭৬ ইনিংসে ৮০৭৪ রান করেছেন। সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৭৮ রান। গড় ৫০.৪৬। ১০৬ টেস্টে ২১ সেঞ্চুরি ও ৩৯ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ওয়ানডেতে ২১১ ম্যাচে ৮৯১৩ রান করেছেন। সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৬২ রান। গড় ৫৩.৬৯। ওয়ানডে তিনি ২৪ সেঞ্চুরি ও ৫০টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক।এ ছাড়া ওয়ানডেতে সবচেয়ে কম ম্যাচে দ্রুত ৮০০০ রান পূর্ণ করার গৌরবও অর্জন করেছেন তিনি। আর টি-টোয়েন্টিতে  ৭২ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। আগেই বলা হয়েছে টি-টোয়েন্টিতে তার রেকর্ড তেমন ভালো না। তিনি ৭২ ম্যাচ খেলে ২৪ দশমিক ২৫ গড়ে ১৪৩১ রান করেছেন। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭৯ রান।

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ব্যাটিং জিনিয়াসের ৩৩তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ডি ভিলিয়ার্স ১৯৮৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স। তবে ডাক নাম এবি। তার মায়ের নাম মিলি। মিলি রিয্যাল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার বাবার নাম আব্রাহাম পি ডি ভিলিয়ার্স। তিনি একজন ডাক্তার। জান ও ওয়েসেলস  নামে তার দুই ভাই আছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/রুহুল/পরাগ

Walton Laptop