Breaking News
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে, কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর
X
ঢাকা, রবিবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৪, ২৫ জুন ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বাংলাদেশ অপরাজিত ১০০!

রফিকুল ইসলাম কামাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৫ ১১:৪৬:০৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২৬ ৪:৪০:৫০ পিএম

রফিকুল ইসলাম কামাল : সবচেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি করল বাংলাদেশ! কথাটা অদ্ভুত শোনায়, তাই না? কারও মনে হয়তো এই প্রশ্নও উঁকি দিতে পারে, ‘বাংলাদেশ ব্যাটসম্যান নাকি যে বল খেলে সেঞ্চুরি করবে?’। আচ্ছা, ‘বল’র জায়গায় যদি ‘সময়’ বসিয়ে দেওয়া হয়? এবার মিলে যায়! আক্ষরিক অর্থেই, টেস্ট খেলার ‘যোগ্যতা’ অর্জিত হওয়ার পর সবচেয়ে কম সময়ে শততম টেস্ট ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জন্য অনেক গৌরবের শততম ম্যাচটি মাঠে গড়িয়েছে বুুধবার শ্রীলঙ্কার কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে।

১৮৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটের যাত্রা শুরু। অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ড- এ দুটি দেশই তখন ক্রিকেট খেলত। টেস্ট ক্রিকেটের এই ‘জনকদের’ শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকগুলো বছর। অস্ট্রেলিয়ার লেগেছিল ৩৫ বছর, ইংল্যান্ডের ৩২ বছর। সেই আঠারো শতকে (১৮৮৯ সাল) টেস্ট খেলতে শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকার শততম ম্যাচ খেলতে লেগেছিল ৫৯ বছর! শততম ম্যাচ খেলতে নিউজিল্যান্ডের ৪২ বছর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৬ বছর, ভারতের ৩৫ বছর, পাকিস্তানের ২৬ বছর, জিম্বাবুয়ের ২৪ বছর, শ্রীলঙ্কার ১৮ বছর লেগেছিল।

আর বাংলাদেশ? ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখা লাল-সবুজের পতাকাবাহী টাইগার বাহিনীর লেগেছে ১৬ বছর ৪ মাস ৬ দিন। শুরুটা হয়েছিল নিজেদের মাটিতে, ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। আর শততম ম্যাচ বিদেশে, কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

বাংলাদেশ সবচেয়ে কম সময়ে শততম ম্যাচ খেলছে। এই গৌরবের উল্টোপিঠে আরেক দিকও রয়েছে। জয়ের দিক থেকেও যে বাংলাদেশ রয়েছে ‘কম’র তালিকায় পেছনের সারিতে! ৯৯ টেস্ট শেষে বাংলাদেশের জয়ের ঝুলিতে আছে মাত্র ৮টি টেস্ট ম্যাচ। তবে বাংলাদেশের চেয়ে পেছনে নিউজিল্যান্ড! ৯৯ টেস্ট শেষে তাদের জয় ছিল মাত্র ৭ টেস্টে।

আরেকটি হতাশার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের ঝুলিতে। শততম টেস্ট ম্যাচ খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ৯৯ টেস্ট ম্যাচ শেষে হারের পাল্লা সবচেয়ে ভারি বাংলাদেশের (৭৬ ম্যাচ)!

বাংলাদেশ নিজেদের খেলা ৯৯ টেস্ট ম্যাচের মধ্যে যতগুলো সিরিজ খেলেছে, তন্মধ্যে তিনটি সিরিজ জয় উদযাপন করতে পেরেছে। প্রথম ৯৯ টেস্টে সিরিজ জয়ের দিক দিয়ে বাংলাদেশের পেছনে ছিল শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ড। একটিমাত্র সিরিজ জয়ের উদযাপন করতে পেরেছিল কিউইরা।

৯৯ টেস্ট ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান তিন হাজারি রানের ক্লাবে ঢুকতে পেরেছেন। তামিম ইকবাল ৩৫৪৬ রান নিয়ে আছেন চূড়ায়। এরপর আছেন সাকিব আল হাসান (৩৩৪৮ রান), মুশফিকুর রহিম (৩১৯১ রান) এবং হাবিবুল বাশার (৩০২৬ রান)।

১৭ বছরের পদযাত্রায় বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘বাজে টেস্টবর্ষ’ গেছে ২০০৩ সালে। সেবার খেলা ৯ টেস্টের সবকটিতেই হারের যন্ত্রণা সঙ্গী হয়েছিল টাইগারদের। উল্টোপিঠে, ‘সুখকর টেস্টবর্ষ’ ছিল ২০১৪ সাল। এ বছরই সর্বোচ্চ তিনটি টেস্ট জয়ের উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ।

ক্রিকেটের আভিজাত্য হচ্ছে টেস্ট। অভিষেকের পর দীর্ঘ সময় ধরে ক্রমাগত ইনিংস পরাজয় আর ধবলধোলাইয়ের ‘স্বাদ’ গ্রহণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে, অন্তত প্রায় বছর তিনেক ধরে চিত্র পাল্টাচ্ছে। ইনিংস হারের বৃত্ত ভেঙে বাংলাদেশ এখন পরাশক্তিদেরও হারাচ্ছে। এই চিত্র হয়তো আরো উজ্জ্বল হবে, যদি যথেষ্ট সংখ্যক টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পান মুশফিকরা।

আপাতত ১০০ ‘রান’ নিয়ে অপরাজিত থাকা বাংলাদেশকে অভিনন্দন!




রাইজিংবিডি/সিলেট/১৫ মার্চ ২০১৭/কামাল/পরাগ

Walton Laptop