ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘মুশফিক-সাকিব-তামিম বাংলাদেশের উত্থানের রূপকার’

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২১ ১০:৫৫:১৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২২ ৯:০২:২০ এএম
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ত্রিরত্ন (বাঁ থেকে) মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান

ক্রীড়া ডেস্ক : এক যুগ হয়ে গেল তারা তিনজন একসঙ্গে খেলছেন। বাংলাদেশের কত ঝড়ঝাপটা সামলেছেন একসঙ্গে। অবদান রেখেছেন অনেক জয়ে। বাংলাদেশের শেষ আট টেস্ট জয়ের দলেই ছিলেন তারা। সবশেষ কলম্বোয় দেশের শততম টেস্টে জয়েও বড় অবদান মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের। আর এই ত্রয়ীকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের রূপকার বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

কলম্বো টেস্ট জয়ের পর আইসিসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে একটি কলাম লিখেছেন আমিনুল। আইসিসির এশিয়ান অঞ্চলের গেম ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আমিনুল সেই কলামেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুশফিক-সাকিব-তামিমের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।

কলম্বো টেস্টে মুশফিক-সাকিব-তামিমের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করে আমিনুল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক শততম টেস্টে জয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেওয়া উচিত তিন ধারাবাহিক পারফরমার- অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, যিনি মেহেদী হাসান মিরাজ জয়সূচক রান নেওয়ার সময় অন্য প্রান্তে ছিলেন, সাকিব আল হাসান প্রথম ইনিংসে করেছিলেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি, যার ফলে প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ, আর তামিম ইকবাল, যিনি ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ৪ উইকেটের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই তিনজনের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি যুব বিশ্বকাপে। সেটা উল্লেখ করে আমিনুল লিখেছেন, ‘এই তিনজন ক্রিকেটে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করেছিলেন ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে এই তিনজন বাংলাদেশের উত্থানের রূপকারে পরিণত হয়েছেন। যদিও এই পথচলা খুব সহজ ছিল না। কারণ বছরের পর বছর বাংলাদেশের জয়ের তুলনায় হারের সংখ্যাই বেশি। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দিন দিন উন্নতি করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন ছিল সিংহ হৃদয়ের। কারণ ক্রমাগত পরাজয় এবং হতাশা খুব সহজেই যে কারও স্বপ্ন এবং আবেগকে নষ্ট করে দিতে পারে।’

২০১২ এশিয়া কাপ জয়ের খুব কাছে গিয়েও স্বপ্ন ভেঙেছিল বাংলাদেশের। ফাইনালে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল ২ রানে। হারের পর সাকিব-মুশফিকের কান্না কাঁদিয়েছিল গোটা বাংলাদেশকেও। সেই স্মৃতি তুলে ধরে আমিনুল লিখেছেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমার মতো বাংলাদেশের সব ক্রিকেট সমর্থকের এখনো মনে আছে, ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হারের পর মুশফিক কীভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। ওই অশ্রুগুলো ছিল বড় ইভেন্টে কারও কারও সাফল্য তুলে নিয়ে আসতে না পারার করুণ অনুভূতি। এই পর্যায়ে আমি নিজেও খুব গর্বিত এবং খুশি যে মানুষ আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে থেকেছেন। সাহস ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি থেকেছেন যেন মুশফিকই।’

মুশফিক-সাকিব-তামিমকে আধুনিক সময়ে বাংলাদেশের রোল মডেল হিসেবে দেখেন আমিনুল, ‘রোল মডেল- শব্দটা দেখেছি খুব বেশি ব্যবহৃত হতে। অনেক সময় খেলাধুলায় এর অপব্যবহারও হয়। তবে আপনি যদি আধুনিক সময়ে বাংলাদেশের কোনো রোল মডেল খুঁজে বের করতে চান, তাহলে আপনি মুশফিক, সাকিব, তামিমকে এড়িয়ে যেতে পারেন না।’

আমিনুলের কাছে তারা তিনজন বাংলাদেশের টেস্ট পরিভ্রমণের দ্বিতীয়ভাগের মেরুদণ্ড, ‘এই তিন ক্রিকেটার মিলে খেলেছে ১৫০টির মতো টেস্ট। এর মধ্যে মুশফিক একাই খেলেছেন ৫৪টি। যার ৩০টিতেই তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুতরাং চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়, এই ত্রয়ী বাংলাদেশের টেস্ট পরিভ্রমণের দ্বিতীয় ভাগের মেরুদণ্ড। একবার ভাবুন তো, এই তিন চ্যাম্পিয়ন কয়টি টেস্ট জিতিয়েছে বাংলাদেশকে? সাতটি (হবে আটটি), এই সংখ্যাটা সহজেই দুই অঙ্কে চলে যেতে পারত, যদি দল আরো অভিজ্ঞ হতো, বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে। কেউ যদি খুব গভীরভাবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, তাহলে কলম্বো টেস্টের ফল দেখে অবাক হবেন না।’

এই মৌসুমে দুটি বড় দলকে টেস্টে হারাল বাংলাদেশ। মৌসুমের শুরুতে ঢাকায় ইংল্যান্ডকে, আর এবার শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টেও জিততে জিততে ২২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরে জাগিয়েছিল টেস্ট ড্রয়ের সম্ভাবনা। ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে খেলে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দলে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন আমিনুল। শ্রীলঙ্কার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা আছে বলে বিশ্বাস তার।

তথ্যসূত্র : আইসিসি ওয়েবসাইট।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ মার্চ ২০১৭/পরাগ/এএন

Walton
 
   
Marcel