ঢাকা, বুধবার, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, ২৩ আগস্ট ২০১৭
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

একই মঞ্চে ত্রিরত্নের বিদায়

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১২ ৮:৫৭:৪০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১২ ২:২৮:৩৪ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক: ২০১০ সালে ইএসপিএন ক্রিকইনফো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বকালের সেরা একাদশ তৈরি করে নিজেদের বাছাইকৃত জুরিদের দিয়ে। জুরিদের নির্বাচিত একাদশে জায়গা করে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিচিত মুখগুলো।

গর্ডন গ্রিনিজ, ব্রায়ান লারা, স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিং, কার্টলি অ্যামব্রোস প্রতেক্যেই জাগয়া করে নেন ওই একাদশে। উইকেট রক্ষক হিসেবে এসেছিলেন জ্যাকি হেনড্রিকস। কিন্তু দর্শকরা উইকেট রক্ষক হিসেবে বেছে নেয় জেফরি ডুজনকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের ত্রিরত্ন বলা হয় স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফরি ডুজনকে। একই সঙ্গে খেলা শুরু না করা এ তিন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়েন একই সঙ্গে, একই ম্যাচে, একই মঞ্চে। ১৯৯১ সালের আজকের তিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রিরত্ন বিদায় নেন ক্রিকেট থেকে। তবে বিদায় বেলায় দলকে জেতাতে পারেননি তারা। ইংল্যান্ডের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরেছিল ৫ উইকেটে। বিদায় বেলায় হাসেনি তাদের ব্যাট-বল। স্যার ভিভ করেছিলেন ৬০ রান। ম্যালকম মার্শাল পেয়েছিলেন ১ উইকেট। আর উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে ডুজন ধরেছিলেন ১টি ক্যাচ। তবুও পুরো দল সম্মান জানিয়ে বিদায় জানিয়েছিলেন ত্রিরত্নকে।
 


তিন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের মধ্যে অদ্ভুত একটি মিল রয়েছে। ক্রিকেট ছাড়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের হয়ে কখনো কাজ করেননি তাঁরা। কেন করেননি সেই উত্তর আজও অজানা।

তবে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস একাধিকবার কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু উইন্ডিজ ক্রিকেট থেকে কখনো কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে দেশের ক্রিকেটে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়নি। এ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে আক্ষেপও করেছিলেন স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস। ভারতীয় ক্রিকেট ম্যাগাজিন ক্রিকেট ইয়ার বুকে বিষান সিং বেদীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস বলেছিলেন,‘বয়স তো মাত্র ৬৩ হল। এখনও মনে তরুণ। দেয়ার তো অনেক কিছু আছে, থাকবে। তরুণ প্রজন্ম ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে কথা বলে আনন্দই পাবে। কিন্তু আমি তো ওদের সঙ্গে কথা বলার সময় এখনও বেশ ভয়ে ভয়ে থাকি!’

ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। বোলারদের কড়া শাসন করা এ গ্রেট ভেবে চিন্তে কথা বলেননি, ক্রিকেট খেলেননি। কিন্তু বোর্ড ও বর্তমান ক্রিকেটার থেকে বেশ দূরে স্যার ভিভ। ভিভিয়ান রিচার্ডস কেন গ্রেট হয়ে উঠেছিলেন তা বোঝা সহজ নয়। সর্বোচ্চ সাফল্য পেলেও তার মাথায় ঘুরে যায়নি। পা ছিল মাটিতেই। ভিভ রিচার্ডস মানেই ঔদ্ধত্য। বেপোরোয়া মানসিকতা। কোনও কিছুতেই এই ভাবমূর্তি ছেড়ে বের হতে না-চাওয়া। কিন্তু কেন করতেন এরকম? নিজেই উত্তর দিয়েছিলেন ভিভিয়ান,‘ওটাও ভেবেচিন্তে তৈরি করা-ভাবমূর্তি।’ বোলারদের আগেই ভেঙে দিতে এমন ভাবমূর্তি।  ১২১ টেস্টে স্যার ভিভিয়ানের ব্যাট থেকে আসে ৮৫৪০ রান। ২৪টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৪৫টি হাফ-সেঞ্চুরি নামের পাশে লিখা রয়েছে।
 


উইকেটের পিছনে চোখ ধাঁধানো কিপিংয়ে সবাইয়ে মুগ্ধ করতেন জেফরি ডুজন। সার্প কিপিংয়ে ডুজন ছিলেন অনন্য। পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দ্যুতি ছড়াতেন হরহামেশাই। ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়ে ক্রিকেটকে গুডবাই বলেছিলেন ডুজন। ২৭২ ডিসমিসাল তার নামের পাশে লিখা আছে।

ওয়াসিম আকরামের আইডল ছিলেন ম্যালকম মার্শাল। এ পেসারকে নিয়ে পাকিস্তানের গ্রেট বলেছিলেন,‘ও আমার বোলিং আইডল। ব্যাটসম্যানের দূর্বল জায়গাগুলো খুব সহজে পড়তে পারতেন এবং সেখানেই বারবার আঘাত করতেন। মাঠেই বাইরেও সে অনন্য। তবে মাঠের ভিতরে দুধর্ষ।’ সত্যিই তাই। মাঠের ভিতরে ম্যালকম মার্শাল ছিল ভিন্ন। গতির ঝড় তুলে বোলারদের নাকানিচুবানো খাওয়ানো ছিল তার একমাত্র কাজ। তাইত ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সে সময়কার সবথেকে সফল মার্শাল। ১৯৮৬ সালে মাইক গ্যাটিং তার বাউন্সারে নাকে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার বল খেলতে ‘ভয়’ পেতেন প্রায় সব ব্যাটসম্যানই। ডানহাতি পেসার ৮১ টেস্টে ৩৭৬ উইকেট নিয়ে অবসরে যান।

তথ্যসূত্র: ক্রিকেট ইয়ার বুক ২০১৫, ইএসপিন ক্রিক ইনফো

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ আগস্ট ২০১৭/ইয়াসিন /শামীম

Walton Laptop