ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কুমিল্লাকে শীর্ষে তুললেন হাসান-মালিক

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-২০ ৫:৩৫:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-২১ ৯:০২:২৯ এএম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অদ্ভুত মিল ঢাকা ডায়নামাইস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। হার দিয়ে দুই দলই এবারের বিপিএল শুরু করেছিল। এরপর? গল্পটা সবারই জানা।

‘হেভিওয়েট’ দুই দল এরপর হারেনি একটি ম্যাচও। ছয় ম্যাচে চার জয় নিয়ে ঢাকা ছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। পাঁচ ম্যাচে চার জয় নিয়ে কুমিল্লা ছিল দুইয়ে। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের প্রথম ম্যাচ, যে জিতবে তারাই থাকবে শীর্ষে- এমন সমীকরণে আজ দুপুরে মাঠে নামে দুই দল।

শীর্ষ দুই দলের লড়াইটাও হলো বেশ জমজমাট। উত্তেজনা, রোমাঞ্চ সবকিছুই ছিল পুরো ম্যাচে। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না কোন দল হাসবে শেষ হাসি। শেষ পর্যন্ত তামিমের মুখের হাসি চওড়া হলো। ঢাকার দেওয়া ১২৮ রানের লক্ষ্য তামিমের দল ছুঁয়ে ফেলে ৪ উইকেট ও ২ বল হাতে রেখে।



লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ আমিরের করা ইনিংসের প্রথম ওভারে ১৬ রান তুলে কুমিল্লা নিজেদের শক্তির জানান দেয়। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই ঢাকাকে এগিয়ে নেন আবু হায়দার। লিটন কুমার দাসের উইকেট উপড়ে ফেলেন রনি। তৃতীয় ওভারে সুনীল নারিন ঢাকাকে দেন সবচেয়ে বড় উইকেটের স্বাদ। ক্যারিবীয় স্পিনারের প্রথম বলে ডাউন দ্য উইকেটে ছয় মারার পর দ্বিতীয় বলে স্টাম্পড হন তামিম (১৮)।

তৃতীয় উইকেটে লড়াইয়ের ভিত পায় কুমিল্লা। ইমরুল কায়েস ও শোয়েব মালিক দলকে টেনে নেন ৫৮ রান পর্যন্ত। আগে তিন ম্যাচে চল্লিশের ঘরে আউট হওয়া ইমরুল আজও শুরুটা করেছিলেন দারুণ। কিন্তু বেশিদূর যায়নি তার ইনিংস। নূর আলম সাদ্দামের বলে লং অনে ক্যাচ দেন ২০ রান করা ইমরুল। এরপর দ্রুত ফিরে যান ড্যারেন ব্রাভো (১২) ও জস বাটলার (১১)। কিন্তু উইকেটে থিতু হয়ে ছিলেন মালিক। একপ্রান্ত আগলে লড়াই করে যান এ পাকিস্তানি ক্রিকেটার।

ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে পানি পানের বিরতির পর। এ বিরতির আগে ২৪ বলে ৩১ রান প্রয়োজন ছিল কুমিল্লার। বিরতির পর জস বাটলার (১১) ও সাইফউদ্দিনের (৪) উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন মোহাম্মদ আমির। ওই ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে আমির ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ১৮ বলে ব্যবধান নেমে আসে ২৬ রানে।



ঢাকার জিততে হলে মালিকের উইকেট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই মালিকই ঢাকাকে হারিয়ে দেন। নূর আলম সাদ্দামের করা শেষ ওভারে ৯ রান নিয়ে ২ বল হাতে রেখে কুমিল্লাকে পঞ্চম জয়ের স্বাদ দেন মালিক। ৫৩ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন মালিক। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান এ অলরাউন্ডার। তার সঙ্গে ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন মেহেদী হাসান।

আমিরকে দলে রাখায় আরেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদিকে দলের বাইরে রাখে ঢাকা। ফলে তাদের ওপেনিংয়ে আসে পরিবর্তন। ওপেনিং লুইসের নতুন সঙ্গী হন নারিন। আগের ম্যাচগুলোতে ঢাকাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেওয়া লুইস এ ম্যাচে ফ্লপ। শূন্য রানে হাসান আলীর হাতে জীবন পাওয়া লুইস ৭ রানে ফেরেন হাসান আলীর বোলিংয়ে। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে লুইসকে ফেরানোর পর তৃতীয় বলে মেহেদী মারুফকেও বোল্ড করেন পাকিস্তানের এই পেসার।

নারিনকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে ঢাকা যে ‘বাজি’ ধরেছিল তাতে তারা সফল। কারণ একপ্রান্ত আগলে ঢাকার রানের চাকা সচল রাখেন নারিন। তাকে দ্বিতীয় উইকেটে সঙ্গ দেন কুমার সাঙ্গাকারা। ৯২ রানের জুটি গড়েন তারা। এ জুটির ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ঢাকার রান আবারও দুইশ পেরিয়ে যাবে। কিন্তু ছন্দপতন শুরু হয় ম্যাচের ১৩তম ওভার থেকে।



দলীয় ১০৪ রানে কুমার সাঙ্গাকারা (২৮) ফিরে গেলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ঢাকার ব্যাটিং অর্ডার। ২৪ রানে শেষ ৮ উইকেট হারায় ঢাকা। যার ৩টি নেন হাসান আলী, ২টি নেন সাইফউদ্দিন ও রশিদ খান নেন ১ উইকেট। ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি রান আউটে ২ উইকেট হারায় ঢাকা। সব মিলিয়ে বোলিংয়ে শুরুর দিকে ভালো করতে না পারলেও মাঝপথে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বিপিএলের তৃতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা।

টপ স্কোরার নারিন ৪৫ বলে করেন ৭৬ রান। ৭ চার ও ৫টি ছক্কা হাঁকান নারিন। তার ফিরে যাওয়ার পর পরের ছয় ব্যাটসম্যান দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। পোলার্ড (১), সাকিব (৩), মোসাদ্দেক (১) ও জহুরুল (২) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন।

ঢাকার ‘মাথা কাটার’ পর লেজটাও গুঁড়িয়ে দেন হাসান আলী। সব মিলিয়ে ২০ রানে ৫ উইকেট নেন পাকিস্তানের এই পেসার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে হাসান আলীর উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।



দুই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের দারুণ পারফরম্যান্সে কুমিল্লা উঠল শীর্ষে। বল হাতে হাসান আলী ও ব্যাট হাতে শোয়েব মালিক কুমিল্লায় নিয়ে এসেছেন সৌভাগ্যের পরশ। মালিক পেয়েছেন ‘মোস্ট এক্সটাইটিং’ খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ম্যাচসেরা হাসান আলী।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ নভেম্বর ২০১৭/ইয়াসিন/পরাগ

Walton
 
   
Marcel