ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

৩১ বছর পর স্পেনের মাটিতে ইংল্যান্ডের জয়

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৬ ৯:৩৭:৪০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৬ ৯:৫৪:০৩ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক : তিন-তিনটি বছর ধরে ইংল্যান্ডের জার্সিতে কোনো গোল পাননি। সেই রাহিম স্টার্লিং শুধু গোল-খরাই কাটালেন না, করলেন জোড়া গোল। স্কোরশিটে নাম লেখালেন মার্কাস রাশফোর্ডও। তাতে স্পেনের মাঠে স্মরণীয় এক জয় পেল ইংল্যান্ড।

সেভিয়াতে সোমবার রাতে উয়েফা নেশন লিগের ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড। ৩১ বছর পর স্পেনের মাটিতে স্পেনকে হারাল ‘থ্রি লায়ন্স’রা। সবশেষ ১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্যারি লিনেকারের চার গোলে ইংল্যান্ড জিতেছিল ৪-২ ব্যবধানে।

এই জয়ে মধুর প্রতিশোধও নেওয়া হলো ইংল্যান্ডের। গত মাসে যে নিজেদের মাঠে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হারল স্পেন। এই সময়ে ৩৮ ম্যাচে অপরাজিত ছিল ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তিন বা এর বেশি গোল হজমের রেকর্ডও তাদের ইতিহাসে এটাই প্রথম।



ম্যাচের প্রথমার্ধটা দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে স্পেনের। প্রথমার্ধে তিনবার অন টার্গেটে শট নিয়ে তিনবারই বল জালে জড়ায় ইংল্যান্ড। তাতে প্রথমার্ধেই স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-০!

অথচ শুরুতে এগিয়ে যেতে পারত স্পেনই। পঞ্চম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে মার্কো আলোনসোর হেড, এরপর থিয়াগোর ফ্লিক গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

পাল্টা-আক্রমণে ১৬ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পিকফোর্ড লম্বা করে বল বাড়িয়েছিলেন হ্যারি কেনকে। অধিনায়কের বাড়ানো বল খুঁজে পায় রাশফোর্ডকে। তার পাস থেকে বল পেয়ে ডি বক্সে ঢুকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন স্টার্লিং।



১১০২ দিন ও ২৭ ম্যাচ পর ইংল্যান্ডের হয়ে গোল পেলেন স্টার্লিং। ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড দেশের হয়ে এর আগে সবশেষ গোল করেছিলেন ২০১৫ সালের অক্টোবরে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে।

২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলেন রাশফোর্ড। এই গোলটাও হয়েছে প্রথম গোলের মতোই পাল্টা-আক্রমণে। পিকফোর্ড আবারো লম্বা করে বল বাড়ান। কেন সেটা ধরে বাড়ান রাশফোর্ডকে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে ডেভিড ডি গিয়াকে ফাঁকি দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ ফরোয়ার্ড।

দুই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই স্পেন হজম করে আরেকটি। ৩৮ মিনিটের এই গোলেও অবদান ছিল কেনের। বক্সের ভেতর ডান দিক থেকে তার বাড়ানো বল টোকা দিয়ে জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন স্টার্লিং। এই প্রথম দেশের হয়ে এক ম্যাচে দুই গোল করলেন তিনি। প্রথমবার জোড়া অ্যাসিস্ট করলেন কেনও।



দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য স্পেনের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৫৮ মিনিটে একটি গোল শোধ দিয়ে লড়াইয়ে ফেরার আভাস দেয় স্পেন। মার্কো অ্যাসেনসিওর কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন আগের মিনিটেই বদলি হিসেবে নামা পাকো আলকাসের। 

একটু পর পিকফোর্ডের ভুলে গোল হজম করতে বসেছিল ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতর তার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়েছিলেন রদ্রিগো। কিন্তু গোলে শট নিতে পারেননি, তার আগেই তাকে বাধা দেন পিকফোর্ড। স্পেনের খেলোয়াড়রা পেনাল্টির জন্য জোরালো আবেদন করেছিল। তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি। বরং স্পেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস দেখেন হলুদ কার্ড।

শেষ দিকে আক্রমণে ধার বাড়তে থাকে স্পেনের। কিন্তু কখনো পিকফোর্ড, আবার কখনো ক্রসবার গোলবঞ্চিত করেছে তাদের। আলভারো মোরাতা একবার পোস্টের খুব কাছে বল পেয়েও শট নিতে পারেননি। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে (ম্যাচের ৯৭ মিনিট) দানি সেবায়োসের ক্রসে রামোসের হেডে করা গোলে শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পারে স্বাগতিকরা।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ অক্টোবর ২০১৮/পরাগ

Walton Laptop