ঢাকা, শনিবার, ৬ কার্তিক ১৪২৪, ২১ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

সুন্দরবনে জীবনানন্দের আকাশলীনা

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-২৪ ২:৩২:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-২৪ ৪:০৭:১৫ পিএম

ছাইফুল ইসলাম মাছুম: ‘সুরঞ্জনা,/তোমার হৃদয় আজ ঘাস:/বাতাসের ওপারে বাতাস—/আকাশের ওপারে আকাশ।’ কবি জীবনানন্দ দাশের জনপ্রিয় কবিতা ‘আকাশলীনা’ এখন শুধু বইয়ের পাতায় নয়, ভর করেছে সুন্দরবনের নিবিড় প্রকৃতিতেও।

জীবনানন্দের কবিতার নামে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জে সুন্দরবনসংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে ২৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম সেন্টার। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ও শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিসের আওতায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) গড়ে উঠেছে এই ট্যুরিজম সেন্টার। ২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর ইকোট্যুরিজম সেন্টারটি উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ।



বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ রয়েছে। প্রায় বছরজুড়েই ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা সুন্দরবন দেখতে আসেন। দর্শনার্থীদের ভ্রমণ আরো আনন্দময় করে তুলতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এই ইকো ট্যুরিজম সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এই পর্যটন কেন্দ্রের সামনেই রয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন- সুন্দরবন। এখানে রয়েছে ট্রেল, জেটি ও নদীতে নৌ-ভ্রমণের জন্য বোট। দূরের পর্যটকদের জন্য রয়েছে আবাসিক ব্যবস্থা।

পূর্ণিমার রাতে সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্যময় এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে লোভনীয়। যারা অল্প সময়ে সুন্দরবন দেখতে চান তাদের জন্য এটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র। এখানে একটি রেস্টুরেন্ট, পার্কিং স্থান, ছোট জাদুঘরসহ পর্যটকদের জন্য হরেক রকম সুবিধা পাবেন। দশ টাকা প্রবেশ মূল্য দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বড় বিলবোর্ডে জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘আকাশলীনা’। বাঁশের পাটাতনে তৈরি সড়ক পথে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়বে গোল পাতার তৈরি ঘর, কেওড়া গাছ ঘিরে আকর্ষণীয় বসার স্থান, কেওড়া গাছে ঝুলে থাকা কৃত্রিম বানর, বাঁশের মাচায় ঘাপটি মেরে বসে থাকা কৃত্রিম বাঘ।



হাতের ডানে রয়েছে আবদুস সামাদ ফিশ মিউজিয়াম। উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতেই এই মৎস্য জাদুঘর। এখানে সামুদ্রিক প্রাণী অক্টোপাস, রুপালী, হরিনা চিংড়ি, কাঁকড়া, কাইন, ভাঙ্গন মাছ থেকে শুরু করে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় শতাধিক মাছ ফরমালিনে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। হাতের বাম পাশেই রয়েছে বিলাশ বহুল আবাসিক রুম। রুমগুলোর নামও প্রকৃতি থেকে নেওয়া- বন বিলাস, কেওড়া, সুন্দরী, গোলপাতা, খলিস। এখানে খুব আরামে রাত্রী যাপন করতে পারবেন দূরের দর্শনার্থীরা।

সামনে রয়েছে খোলপেটুয়া নদীর ওপর বাঁশের পাটাতন দিয়ে তৈরি বেশ কিছু চমৎকার টং ঘর। টং ঘরগুলোর নামও বেশ চমৎকার। কোনোটির নাম প্রাণ জুড়ানী, প্রকৃতি, কোনোটির নাম মনজুড়ানী। যেখানে বসে দর্শনার্থীরা আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। স্বল্প সময়ে দর্শনার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। সম্প্রতি আকাশলীনার প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে এসেছিলেন সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পার্বতী রানী ও তার বন্ধুরা। পার্বতী রানী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বইতে অক্টোপাস সম্পর্কে জানলেও বাস্তবে কখনো দেখা হয়নি, এখানে দেখার সুযোগ পেলাম। প্রকৃতির ক্ষতি না করে, কিভাবে পরিবেশবান্ধব পার্ক গড়ে তোলা সম্ভব, আকাশলীনায় না এলে হয়তো জানতাম না।’

আকাশলীনা তৈরিতে জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জোয়ারের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান আকাশ। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আকাশলীনা স্বল্প সময়ে পরিচিতি পেয়েছে। এটি যেন সুন্দরবনেরই এক বিশেষ প্রদর্শনী। সুন্দরবনকে জানতে হলে আকাশলীনায় আসতে হবে।’



উপকূল সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সুন্দরবন লাগোয়া ইকো ট্যুরিজম আকাশলীনা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। পর্যটকদের কাছে সুন্দরবনের আকর্ষণ বাড়াতে এবং সুন্দরবন সুরক্ষায় এ উদ্যোগ বিশেষভাবে কাজে লাগছে বলে আমার মনে হয়। এখানে এসে প্রতিদিন বহু মানুষ সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন।

যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে শ্যামনগর। ঢাকার শ্যামলী থেকে সরাসরি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাড়ি রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা সদর হতে মুন্সিগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এই কেন্দ্রটি মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে। যেতে সময় লাগতে পারে ২৫-৩০ মিনিট। স্থানীয় যানবাহন ভ্যানের পাশাপাশি বাস এবং মাইক্রোবাসে যাওয়া যেতে পারে। আকাশলীনায় যেতে চাইলে আগে যোগাযোগ করে নিতে হবে। প্রমথ মহালদার, তত্ত্বাবধায়ক: ০১৯১২৪৪৫৯৩২




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭/তারা

Walton
 
   
Marcel