ঢাকা, সোমবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বরিশালের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ইলিশে সয়লাব

জে.খান স্বপন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৩ ১২:৩৭:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-২৩ ১২:৩৭:১৩ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল : টানা ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার পর রূপালি ইলিশ আসতে শুরু করেছে বরিশালের পোর্ট রোডস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। এখন খুবই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে এখানের আড়ৎদার আর শ্রমিকদের।

আজ সকাল ৬ থেকে ১০ টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টায় হাজারো মন ইলিশ বেচা-বিক্রি হয়েছে। সব সাইজের ইলিশের মূল্য হাতের নাগালে। সকালে এমনই চিত্র দেখা গেছে বরিশালের পোর্ট রোডস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।

প্রসঙ্গত, গত ১  অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। তাই গত ২২  দিন বরিশালের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের দেখা মিলেনি। গতকাল রাত ১২ টার পর ইলিশ শিকার শুরু করে বরিশালের প্রায় ৫০ হাজার জেলে। তাই আজ সকাল থেকেই রূপালি ইলিশ আসতে শুরু করে জেলার বৃহত্তর বরিশালের পোর্ট রোডস্থ বৃহত্তর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। তবে আশা অনুরুপ এর সংখ্যা অনেক বেশী । সকাল থেকে অন্তত এখানে এক হাজার মন ইলিশ বেচা বিক্রি হয়েছে। সারা দিনে কমপক্ষে ২ হাজার মন ইলিশ বেচা বিক্রি হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

বরিশাল পোর্ট রোডস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আবদুল্লাহ এন্টার প্রাইজ’র মালিক মোঃ নূরুজ্জামান জানান, সকাল থেকে ঝাটকা মনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা, গোটলা (২৫০ গ্রাম) ইলিশ ১০ থেকে ১২ হাজার, ভেলকা (৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম) ১৫ থেকে ১৭ হাজার, এলসি (৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) ২২ থেকে ২৫ হাজার আর গ্রেট (এক কেজি বা এর উপরে) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৪০ হাজার টাকা দরে।

তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ইলিশের মূল্যও কিছুটা বাড়ছে। বেলা ১১ টার পর প্রতি মনে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অপর ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম হোসেন।

বরিশাল মোকামে ট্রলার যোগে ইলিশ নিয়ে আসা জেলে কাজেম উদ্দিন বেপারী বলেন, ‘আজ (সোমবার) এখন পর্যন্ত যে সকল জেলেরা এসেছেন তারা শুধু বরিশালের কীর্তনখোলা, কালাবদর, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খা, সন্ধ্যা ও গজারিয়া নদীতে ইলিশ শিকার করেছেন। এ বছর এই সকল নদীতে ইলিশের পরিমান খুবই বেশি।’

 


এদিকে জেলেদের জালে ধরা পড়া অধিকাংশ ইলিশই ডিমওয়ালা। তাই কমপক্ষে আরো ১০ দিন এ নিষেধজ্ঞা বহাল থাকলে মাছগুলো ডিম ছাড়তো বলে মন্তব্য করেছেন ইলিশ কিনতে আসা মোঃ আবদুর রহমান নামের এক ক্রেতা। রাত ১২ টার পর মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে এতো পরিমানের ইলিশ ধরা পড়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি নিষেধাজ্ঞার সময়ও ইলিশ শিকার করা হয়েছে।

অপরদিকে ইলিশের তুলনায় বরফ উৎপদন কম হওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে জেলে ও ব্যবসায়ীদের। বরিশালের বাইরের জেলা ও উপজেলায় বরফ সংকট চরমে।

এ ব্যাপারে এখানকার খান আইস ফ্যাক্টরির ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গির হোসেন জানান, হঠাৎ করে ইলিশের পরিমান বেশি হওয়ায় বরফের চাহিদা বেড়েছে। অনেক জেলে পাথারঘাটা, কলাপাড়া আর মনপুরা থেকে এখানে এসেছে বরফ নিতে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বরফ উৎপাদন কম হচ্ছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য বিষয়ক কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন,  ‘নদীতে প্রচুর ইলিশ থাকায় জেলেরা মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এতো পরিমানের ইলিশ শিকার করতে সক্ষম হয়েছেন ।’

তিনি বলেন, ‘ইলিশ সাধারণ ৪টি সময়ে ডিম ছাড়ে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় দুটি সময়ে ডিম ছাড়তে পেরেছে। তাই ইলিশের পেটে এখনো ডিম থাকা স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘সবদিক বিবেচনা করে দেখা গেছে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল হয়েছে। আজ থেকে ৯ দিন পর শুরু হবে ঝাটকা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা।’

 

 

রাইজিংবিডি/ বরিশাল/ ২৩ অক্টোবর ২০১৭/ জে. খান স্বপন/টিপু

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC