ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় আলুটিলা গুহায়

কাজী আশরাফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-৩১ ৪:১৯:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-৩১ ৪:১৯:২০ পিএম

কাজী আশরাফ: সুড়ঙ্গ বা গুহার নাম শুনলেই গা ছমছম করে। গল্প, উপন্যাসে সুড়ঙ্গ নিয়ে রয়েছে নানা ঘটনা। এর সবই প্রায় রহস্যময়। পড়ার পর  ভয় এসে মনের ওপর চেপে বসে। তারপরও যারা অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় ভ্রমণ করেন তাদের জন্য এমন জায়গা হতে পারে উৎকৃষ্ট। ভাবছেন এমন জায়গা বাংলাদেশে কোথায়? তাহলে বলতেই হয়, আপনার দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া।

তিন পার্বত্য জেলার একটি খাগড়াছড়ি। এখানেই রয়েছে আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ। সুড়ঙ্গটি কবে থেকে কী করে হলো এর সঠিক ইতিহাস জানা যায় না। তবে এ নিয়ে গালগল্প চালু আছে প্রচুর। সে গল্প না শোনাই ভালো। কারণ গল্প তো গল্পই। এ তো সত্য গল্প নয়। সুতরাং পাঠক চুলন সুড়ঙ্গে সরাসরি ঢুকে পড়া যাক।

নামে টিলা হলেও এটি মোটেও টিলা নয়। রীতিমত পাহাড়। উচ্চতা আড়াই হাজার ফুটেরও উপরে। যাই হোক, খাগড়াছড়ি শহর থেকে বেড়িয়ে এসে মূল রাস্তার পাশেই আলুটিলা গুহার অবস্থান। প্রথমেই চোখে পড়বে গেট। বাঁদিকে কয়েকটা দোকান। গেটের পাশে উঁচু বেদীতে বটগাছ কালের সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে আছ্। এই গাছটিও দেখার মতো। এ কারণেই বলছি, সুড়ঙ্গ দেখার আগে গাছটি ভালো করে দেখে নিতে ভুলবেন না। এমন বিশাল মহীরূহ আজকাল আর চোখে পড়ে না। আঞ্চলিক তথ্য থেকে জানা যায়, গাছের বয়স প্রায় তিনশ বছর।



গেট দিয়ে ঢোকার আগেই টিকেট কাউন্টার। সুড়ঙ্গে নামতে হলে আপনাকে এখান থেকেই টিকেট কাটতে হবে। সঙ্গে নিতে হবে মশাল। ঘাবড়ে যাবেন না। ব্যবস্থা সেখানেই আছে। দেখবেন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাঁশের ছোট মশাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দামাদামি করে কনতে হবে। ও হ্যাঁ, সঙ্গে লাইটার রাখতে ভুলবেন না। কারণ সুড়ঙ্গে দপ করে মশাল নিভে গেলে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভয় পেতে হবে।

গেট দিয়ে ঢুকতেই পথ চলে গেছে দুদিকে। দুটোই নিচের দিকে চলে গেছে। ডান দিকেরটা দিয়ে গেলে একটা বাংলোর মতো পড়বে। এখানে দাঁড়িয়ে নিচের খাগড়াছড়ি শহর দেখতে বেশ লাগে। সত্যি বলতে তখন মনে হবে আপনি শহরের উপরেই বুঝি দাঁড়িয়ে আছেন। ওই দূরে ছোট ছোট বাড়ি-ঘর। চুলের মতো সরু এঁকেবেঁকে গেছে পথ। নিচের রাস্তা দিয়ে যখন পিঁপড়ার মতো দেখতে ছোট ছোট গাড়ি ছুটে যায় তখন অবাক না হয়ে পারা যায় না। মনে হয় যেন খেলনা গাড়িগুলো গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছে। ওরা যেখানে যাচ্ছে যাক, এখান থেকে আপনাকে যেতে হবে বাঁ দিকে। কারণ ওদিকেই সুড়ঙ্গ। এবার পথ ভেঙে নামতে থাকুন। নামতে নামতে পথ যেন ফুরোতেই চায় না। এক সময় পথ তবুও ফুরোবে। সামনে আবার দুটো পথ দুদিকে গেছে বেঁকে। আসলে পথ নয় সিঁড়ি। এই সিঁড়ির একটা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, আরেকটি দিয়ে বের হতে হবে সুড়ঙ্গ থেকে। সোজা যেটা নেমে গেছে সেটাই প্রবেশ পথ। ওখান দিয়ে নেমে যান। কান পাতুন। কিছু শুনতে পাচ্ছেন? ঝরনার মৃদু ঝিরিঝিরি ওই শব্দটুকু ছাড়া আর কোনো শব্দই শোনার কথা নয়। এগিয়ে গেলে বাঁ দিকে আরো সিঁড়ি দেখবেন। ওটা দিয়ে নেমে যান। এবার আপনি পৌঁছে গেছেন সুড়ঙ্গ মুখে। দেখবেন হিম বাতাস ছুটে এসে গায়ে লাগবে। এবার মশালটা জ্বালিয়ে নিন। আর দয়া করে জুতোজোড়া খুলে ফেলুন। কারণ পথটা পিচ্ছিল তো বটেই। সারাক্ষণ ঝরনার জল বয়ে যাচ্ছে। তবে ঘাবড়াবেন না। ঝিরিঝিরি ঝরনার জল সুড়ঙ্গ পথে আপনার পায়ের বড়জোড় গোড়ালি পর্যন্ত ভেজাতে পারবে।



সুড়ঙ্গটা খুব বেশি উঁচু নয়। দুপাশে দুহাত ছড়িয়ে দিলে দেয়াল স্পর্শ করতে পারবেন। এগিয়ে যান। হঠাৎ যদি হাতের মশাল নিভে আসতে চায় তাহলে একটু নিচু করে আবার সোজা করুন। দেখবেন আগুন আবার জ্বলে উঠবে। গুহার মাঝামাঝি যেতেই যদি সড়সড় শব্দ শুনে চমকে ওঠেন তাহলে ঘাবড়ে যাবেন না। ওটা বাদুরের ডানা ঝাপটানোর শব্দ। বেচারার বাসায় আপনি অতিথি হয়ে গিয়েছেন তাই তার ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। তবে সেগুলো নিরীহ প্রজাতির বাদুর। কিছু করবে না। ওরা অতিথির সম্মান দিতে জানে। তবে এদের ডাকের সঙ্গে র‌্যাটেল স্নেকের লেজ নাড়ানোর শব্দের মিল আছে। ভয় পাবেন না ওই সাপ এখানে নেই। ওগুলো ডিসকভারিতে দেখা যায়। এগিয়ে যান। মাথার ওপর ছাদ ক্রমেই ঢালু হয়ে আসছে। মশালের আলোতে যতদূর দেখবেন পথ নামছে তো নামছেই।



তিন গোয়েন্দা পাঠকরা অবশ্য এ দৃশ্যের সঙ্গে পরিচিত। এখানে হঠাৎ পথ দুদিকে বেঁকে গেছে। বাঁ দিকেরটা কানা গলি। বাদুরের আখড়া। সুতরাং ডান দিকেরটায় যেতে হবে। ওদিক দিয়েই বের হওয়ার পথ। নিকষ কালো আঁধার ফুরিয়ে এবার চোখের সামনে আলোর রেখা ফুটে উঠবে। এক দৌড়ে গুহা থেকে বের হয়ে মুক্ত বাতাসে একটু দম নিলেই দেখবেন মনের গুমোট ভাব কেটে যাবে। মনে হবে- এই অন্ধকারে মানুষ ঢোকে! অথচ দেখুন শুধু আপনিই নন, টিকেট কেটে ঢুকছে অনেকেই। সবার সেকি আনন্দ!




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ অক্টোবর ২০১৭/তারা  

Walton
 
   
Marcel